বিশ্বকাপ থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই লজ্জাজনক বিদায়ের পেছনে অনেকেই বলছেন অনেক কথা। খেলোয়াড়দের বয়স থেকে শুরু করে কোচ সিজার প্রাণদেল্লির কৌশলগত ব্যর্থতার কথাও আসছে আলোচনায়। তবে দেশটির বিখ্যাত কোচ এবং বর্তমানে রাশিয়ার দায়িত্বে থাকা ফ্যাবিও ক্যাপেলো আজ্জুরিদের ব্যর্থতার পেছনে দায়ী করেছেন ইতালির যুব একাডেমীর কোচদের।
ক্যাপেলোর অভিযোগ, এই কোচদের অনেকেই কিশোর ফুটবলারদের টেকনিক না শিখিয়ে আগেই ফল নির্ভর ফুটবল খেলতে উত্সাহিত করেন। সেই কিশোররা যখন জাতীয় দলে আসেন, তখন কৌশলগত দিক থেকে তাদের অন্য সবার থেকে পিছিয়ে থাকতে হয়। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন একাডেমীর কোচদের এই ভুলের খেসারতই বিশ্বকাপে ইতালিকে দিতে হয়েছে বলে মনে করেন গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা ক্যাপেলো। ঐসব একাডেমী কোচদের উপর ক্যাপেলোর বিরক্তি এমনই যে, ঐ কোচদের ‘জেলে ঢুকানো উচিত্’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ক্যাপেলো ইতালিও দৈনিক গ্যাজেত্তা রিজিওনেলকে বলেন, ‘যুব উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর মূল কাজ হচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য খেলোয়াড় তৈরী করা। তাদের কাজ কিশোরদের কৌশল শেখানো কিভাবে ম্যাচ জেতা যাবে সেটা শেখানো নয়। পরিষ্কারভাবে বিশ্বকাপে এই ব্যাপারটাই ফুটে উঠেছে। অথচ, আমরা দেখছি কোচেরা দশ বছরের শিশুদের সেই জিনিসই শেখাচ্ছেন যা দিয়ে ম্যাচ জেতা যায়। এদের আসলে জেলে পুরে রাখা উচিত।’
একাডেমী কোচদের এই মানসিকতা পাল্টাতে পুরো কোচিং ব্যবস্থাটাই পাল্টাতে হবে জানিয়ে বিখ্যাত এই কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় পদ্ধতিটা এমন হওয়া উচিত যে, কোচেরা নতুন যে প্রতিভার জন্ম দিতে পারবেন সেই অনুসারে তাদের পারিশ্রমিক দেয়া হবে। পুরো ব্যবস্থায় একটা দূরদৃষ্টি দরকার। তাছাড়া একটি পরিষ্কার দিক-নির্দেশনাও এখানে জরুরী।’
এক্ষেত্রে স্পেন এবং জার্মানির পদাঙ্ক অনুসরণ করা যেতে পারে জানিয়ে ক্যাপেলো আরো বলেন, ‘আপনাকে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিতেও পড়তে হবে যখন আপনি চাইলেই গড়ে তোলার মতো ভাল কোন প্রতিভা পাবেন না। সত্যি কথা হচ্ছে যে, ইতালি এই মুহূর্তে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আদর্শ কোন জায়গা নয়। তরুণদের এখানে জায়গা করে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা স্পেন এবং জার্মানির দিকে তাকাতে পারি। মূলপর্বে ভাল করতে চাইলে আপনাকে আগে একটা শক্তিশালী ‘বি’ দল তৈরী করতে হবে। কারণ এটা এমন একটা পর্ব যা আঠার বছর বয়সী একজন খেলোয়াড়কে প্রথমবারের মতো কোন প্রতিযোগিতামূলক খেলার সুযোগ দেয়। সে বুঝতে পারে তাকে কোন মানের খেলা খেলতে হবে।’
তবে ইতালির পক্ষ থেকে তাকে এমন কোন দায়িত্ব দিতে চাওয়া হলে এই মুহূর্তে সেটা তার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ক্যাপেলো, ‘আপনি যদি আমাকে এই সমস্যা সমাধান করতে বলেন আমি বলবো এখন আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, আমার ভাবার মতো আরো সমস্যা আছে।’
উল্লেখ্য, উরুগুয়ে এবং কোস্টারিকার কাছে হেরে গত বছরের মতো এবারও বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয় ইতালি। তিন ম্যাচে ইতালি মাত্র দুটি গোল করতে সক্ষম হয়। বিনিময়ে হজম করতে হয় তিনটি গোল। -ওয়েবসাইট
