আসামে কারগিল যুদ্ধের নায়ককে অনুপ্রবেশকারী বানিয়ে গ্রেপ্তার!

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ১৭:৩৮

সৈনিক হিসেবে ৩০ বছর ভারতের সেবা করেও জুটলো অনুপ্রবেশকারীর তকমা! গ্রেফতার করা হলো কারগিল যুদ্ধে দেশের হয়ে লড়াই করা এক প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট মোহম্মদ সানাউল্লাহকে। তিনি শুধু প্রাক্তণ সেনাকর্তাই নন, বর্তমানে আসাম পুলিশের সীমান্ত শাখায় এএসআই হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।

সানাউল্লাহর গ্রেপ্তারে ভারতজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে অনুপ্রেবেশকারীর তকমা পেতে হয় ৩০ বছর দেশ সেবা করা সেনা বাহিনীর কর্মীদেরও?

জানা গেছে, আসাম রাজ্যের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও বর্তমান সেনাকর্মী এবং পুলিশকর্মীর নামে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ও ডি-ভোটারের নোটিস এসেছিল। এই বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি  পাঠিয়েছিলেন অপমানিত সেনাকর্মীরা। যাদের মধ্যে অন্যতম সানাউল্লাহ। চলছিল মামলাও।

বুধবার সানাউল্লাহকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ডেকে তাকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করে রায় দেন বিচারক! শুধু রায়দানই নয়, ইতিমধ্যেই  সানাউল্লাহকে গোয়ালপাড়া জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সানাউল্লাহর পরিবার।

এদিকে মোহাম্মদ সানাউল্লাহর ভাই আজমল হক জানান, নাগরিকপঞ্জি বা এনারসির তথ্যে সানাউল্লাহর চাকুরিতে যোগদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭৮ সালে। অথচ তার জন্ম ১৯৬৭। তাহলে কি করে ১১ বছরের ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারেন?

আরও পড়ুনঃ নুসরাত হত্যা মামলা নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে

সানাউল্লাহ  সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৮৭ সালে। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছিলেন সানাউল্লাহ। ৩০ বছর সেনাবাহিনীতে থাকার পরে ২০১৭ সালে অবসর নেন তিনি। এরপর এএসআই হিসেবে সীমান্ত শাখায় যোগ দেন। তার সব তথ্য প্রমাণই জমা দেওয়া হয়েছিল আদালতে। কিন্তু তার পরেও একজন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এভাবে গ্রেপ্তার করায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র।

ইত্তেফাক/টিএস