নিজের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে না পারার বেদনার মধ্যেই তারকা খেলোয়াড় নেইমার জানালেন তার দল গৌরবে উদ্ভাসিত হওয়ার জন্য জোর চেষ্টাই চালিয়েছিল; কিন্তু অন্য দেশগুলো অনেক এগিয়ে গেছে এবং তাদের সাথে পাল্লা দিতে হবে।
নেইমার ২০১৪ বিশ্বকাপে বিপর্যয়ের জন্য সাবেক কোচ লুই ফিলিপ স্কোলরিকে দোষারোপে অস্বীকৃতি জানান। একই সাথে তরুণদের উন্নয়নে কিছু কোচ যে ক্ষতিসাধন করেন, সে ব্যাপারেও উঠতি খেলোয়াড়দের সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন তিনি।
ব্রাজিলের গ্লোবো টেলিভিশনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে নেইমার এসব কথা বলেন। ব্রাজিল তাদের ফুটবলকে পুনর্বিন্যস্ত করার জন্য আজ মঙ্গলবার যখন নতুন কোচ নিয়োগ করতে যাচ্ছে, সেই সময়ে দেশটির ফুটবল নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন নেইমার। ধারণা করা হচ্ছে- সাবেক কোচ দুঙ্গাকেই আবার নিযুক্ত করতে যাচ্ছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন।
গত রবিবার প্রচারিত সাক্ষাত্কারটিতে ২২ বছর বয়সী বার্সেলোনার এ স্ট্রাইকার বলেন, বিশ্বকাপে যেমনটা খেলেছে সে জন্য ব্রাজিল বড় জোর দশে সাত নম্বর পেতে পারে। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল এতটাই দুর্দশায় পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া জার্মানির কাছে স্বাগতিক হিসেবে তাদের সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল।
কেন ব্রাজিল ব্যর্থ হলো জানতে চাইলে নেইমার জানান- এর পেছনে এমন সব সাধারণ ব্যাপার ছিল যা ব্যাখা করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কেঁদেছিলাম কারণ এটা ছিল আমাদের শৈশবের স্বপ্ন (কাপ জেতা) এবং আমরা আগের অবস্থানে পৌঁছার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম।’
বার্সেলোনা তারকাটি এও জানান যে, তার বিশ্বাস স্কোলারির মতো তিনিও একই ২৩ খেলোয়াড়কেই বেছে নিতেন। নেইমার মনে করেন- ব্রাজিলকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তার মান পড়ে গেছে। তাই সাফল্যের কোন চটজলদি দাওয়াই নেই, ‘আমি মনে করি ব্রাজিলীয় ফুটবল অনেক পেছনে। জার্মানি ও স্পেনের চাইতেও পেছনে। আমরা গড়িয়ে পড়েছি এবং এটা স্বীকার করার মতো পৌরুষত্ব থাকতে হবে আমাদের।’
কলম্বিয়ার সাথে কোয়ার্টার ফাইনালের খেলাটিতে পিঠের কশেরুকায় আঘাত পাওয়ায় নেইমারকে সেমিফাইনালটি তার নিজের বাড়িতে বসে দেখতে হয়েছিল। ওই খেলাটিতে হুয়ান ক্যামিলো জুনিগা তার পিঠে আঘাত করেছিলেন। ‘এটা ছিল এমন একটা ঘটনা, যার সাথে ফুটবলের কোন সম্পর্ক ছিল না’ বলে মত দেন নেইমার। যদিও তিনি পরে কলম্বিয়ানটির দুঃখ প্রকাশকে মেনে নেন।
জার্মানির কাছে ভয়াবহ হারটিতে সঙ্গত কারণেই মাঠে ছিলেন না ব্রাজিল ফুটবলের হালের সবচাইতে বড় তারকাটি। ব্রাজিলের হঠাত্ করে এমন ছন্দপতনের পেছনে কোন সুনির্দিষ্ট কারণ আছে বলে মনে করেন না নেইমার, ‘সেলেচাওরা সুনির্দিষ্টভাবে কোন ভুল করেনি। আমি অবশ্য কৌশলগত বিশ্লেষণের মতো বড় ব্যাপারটি বোঝার মতো লোক নই।’
ব্রাজিলকে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতানো এবং এবারের অভিযানের দায়িত্বে থাকা স্কোলারিকে ব্যর্থতার জন্য দূষতে অস্বীকৃতি জানান নেইমার। নেইমার বলেন, ‘আমার একজন নেতা ছিলেন যিনি কিনা আমার দেখা সেরা ব্রাজিলীয় কোচদের একজন।’ বরং তার মতে অনুশীলনে ভাল অবস্থায় পৌঁছেছিল দল, ‘আমরা সবসময়েই অনুশীলন করেছিলাম। আমরা আমাদের সবটুকু দেই।’ তিনি অবশ্য ইঙ্গিত দেন যে, ব্রাজিলে অনুশীলনের ব্যাপকতা ইউরোপের চাইতে কম, ‘আপনি অনেক অনুশীলন করছেন; কিন্তু কখনো কখনো আপনি কম একাগ্রতায় অনুশীলন করছেন। সেটাই হলো ব্রাজিলের পরিস্থিতি।’
তরুণদের কোচিং করানো নিয়েও কথা বলেন নেইমার। তার মতে খেলাটিতে তরুণদের কেউ কেউ যেভাবে কোচিং করান সেটা ক্ষতিকর। এ প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, ‘আমিও ব্যাপারগুলো ভুলভাবে শিখেছি। বল হয়তো এলো আমার বাম পায়ের দিকে। কোচ বলবেন- এটি ডান পায়ে নিতে বিশেষ করে যখন আমি ডান পায়ের খেলোয়াড়। এরপর আমার বাবা বিষয়টি শুধরিয়ে দিয়ে বললেন, না বল যদি তোমার বাম পায়ের দিকেই আসে তবে সেটা তুমি বাম পা দিয়েই মারবে।’
সবশেষে নেইমার জানান, তিনি চার বছরের মাথায় রাশিয়ায় তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা চালাবেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গেও কথা বলেন ২২ বছর বয়সী নেইমার। আগের সম্পর্ক থেকে পিতা হওয়া ফুটবলারটি জানান, বর্তমান বান্ধবী ১৮ বছর বয়সী মডেল ব্রুনা মারকুয়েজিনকে এখনই বিয়ে করাটা তার জন্য চটজলদি হয়ে যাবে। -এএফপি
