শতবর্ষের ইতিহাস, শতবর্ষের গৌরব

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৭
‘ও পাইস দো ফুতবল—ফুটবলের দেশ’ — প্রতিটি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য গৌরব, সর্বোচ্চ পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস এসব কিছু মাথায় রেখে ব্রাজিলকে নিয়ে কথাটাকে কোনভাবেই বাড়াবাড়ি বলে মনে হবার কারণ নেই। শুধু কি তাই! পেলে, গারিঞ্চা, জার্জিনহো, জিকো, সক্রেটিস, রোনালদো, রোনালদিনহোদের মত কত শত ফুটবল মহানায়কেরই না জন্ম হয়েছে ব্রাজিলে। আর সমপ্রতি সফল এক বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক দক্ষতাও বেশ ভাল ভাবেই প্রমাণ করেছে কনফেডারেশন্স ব্রাজিল ফুটবল (সিবিএফ)। তবে, এতো অর্জন, এতো গৌরবের সূচনা কোথায়? সেই গল্পটা জানতে ফিরে যেতে হবে ঠিক একশ বছর আগে। ব্রাজিলে ফুটবলের সূচনা হয়েছিল ভিনদেশীদের হাত ধরেই। আঠারো শতকের শেষের দিকে থমাস ডোনোহিউ নামের এক স্কটিশ ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে ফুটবলের ধারণা ছড়িয়ে দেন। বাকি কাজটা করেন এক ইংরেজ। তার নাম জন মিলার। সাও পাওলোতে এসে স্থানীয় এক স্কুলের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। পরে তার ছেলে চার্লস মিলারও যুক্ত হন ব্রাজিল ফুটবলের সাথে। বলা হয়ে থাকে, ব্রাজিলে ফুটবলের বিস্তার শুরু হয় এই দুজনের হাত ধরেই। তবে, জাতীয় দল হিসেবে ব্রাজিলের উত্থান ঘটে আরও বেশ কিছুদিন পরে। সময়টা ১৯১৪ সাল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার ক’দিন আগের কথা। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ক্লাব দল এক্সেটার সিটির তখন বেশ নাম ডাক। প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি নিতে ইংলিশ দলটি যাচ্ছিল আর্জেন্টিনায়। পথে কিছু ম্যাচ খেলতে নেমে গেল ব্রাজিলে। সেখান থেকেই নতুন দিনের সূচনা দেখলো ব্রাজিলিয়ান ফুটবল। সে বছরই যাত্রা শুরু করেছে সিবিএফ। এক্সেটার সিটির বিপক্ষে একটা দলও দাঁড় করিয়ে দেন কর্মকর্তারা। আশেপাশের ঘরোয়া লিগের দলগুলো থেকে খেলোয়াড় নিয়ে গঠন করা হয় সেলেচাওদের দল। রিও ডি জেনিরো থেকে নেয়া হয় সাতজন খেলোয়াড়। বাকি চারজন ছিলেন সাও পাওলোর। জাতীয় দল হিসেবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দাপট দেখায় ব্রাজিল। ২-০ গোলে স্ট্যাডিও দ্যস ল্যারানজেইরাসের মাঠে তারা রুখে দেয় সফরকারীদের। প্রায় তিন হাজার দর্শক উপভোগ করেছিল ম্যাচটি। গোল করেন ওসওয়ালদো গোমেজ ও ওজমান। যদিও ম্যাচের ফলাফল নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি আছে এখনও। অনেকের মতে, সেই ম্যাচটা নাকি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল। মাঠটি তখন ছিল ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের। ফ্লুমিনেন্স স্টেডিয়াম বলেই পরিচিত ছিল স্থানীয়দের কাছে। স্টেডিয়ামটি এখনো তাদের মালিকানায় থাকলেও ফ্লুমিনেন্সের ঠিকানা এখন মারাকানা। সময়ের ব্যবধানে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলেও হয়েছে নানা পালাবদল, জন্ম হয়েছে অনেক মহাতারকার, অনেক অর্জনের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের নিয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বে বিশ্বসেরাদের কাতারে। কিন্তু, একশ বছর আগের সেই ২১ জুলাইয়ের কথা কি আর ভোলা যায়। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আয়োজন ছিল তাই ব্রাজিলের মাটিতে। শত বর্ষপূর্তিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এক্সেটার সিটিকে। একশ বছর আগের মত এখনও ব্রাজিল দলের ঠিক বিপরীতেই অবস্থান করছে দলটি। দলটি জৌলুস হারিয়েছে অনেক আগেই। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বিভাগেও নেই সুবিধাজনক অবস্থানে। গত রবিবার ফ্লুমিনেন্সের সেই মাঠেই ইংলিশ দলটির মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিকদের অনূর্ধ্ব ২৩ দল। এবারের মোকাবেলায় অবশ্য কোন দলই জিতেনি। গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচটি। ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ছয়শজন আমন্ত্রিত অতিথি ও দেড় শতাধিক এক্সেটার সমর্থক। আয়োজনকে ঘিরে ছিল না উত্সাহের কমতি। এক্সেটার সিটির কোচ পল টিসডেল বলেন, ‘অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা হল। মনে হল যেন আমরা জীবন্ত একটা মিউজিয়ামে খেলতে এসেছি। সবাই যেন ফিরে গিয়েছিল একশ বছর আগের সেই দিনটিতে।’