বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স অক্ষত ফিরিয়ে দিয়েছে বিদ্রোহীরা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৪, ২১:০৪
পূর্ব ইউক্রেনে মালয়েশীয় বিমান বিধ্বস্ত হবার ঘটনাস্থলে আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতভাবে এক প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাব পাসের পর ব্ল্যাকবক্স ফিরিয়ে দিতে খুব বেশি সময় নেয়নি রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এই প্রস্তাব পাসের কয়েক ঘণ্টা পর রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিধ্বস্ত বিমান এমএইচ-সেভেন্টিনের দু’টি ব্ল্যাকবক্স অক্ষত অবস্থায় মালয়েশীয় বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দিয়েছে। এর সঙ্গে ককপিটে থাকা ভয়েস রেকর্ডারও রয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের নেতা জানিয়েছেন, ব্ল্যাকবক্স দু’টি ভালো অবস্থায় রয়েছে। আর ব্ল্যাকবক্সের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত সময়, মাটি থেকে বিমানের উচ্চতা এবং বিমানটির প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে জানা যাবে, যা থেকে দুর্ঘটনার কারণ জানা যাবে। নিরাপত্তা পরিষদের ঐ প্রস্তাবে রাশিয়া ভোট দেবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করলেও, শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবের পক্ষেই ভোট দিয়েছে রাশিয়া। এর আগে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিধ্বস্ত বিমান থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহসমূহ তোরেজ থেকে খারকিভে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার বলেছেন, ঘটনাস্থলে যাবার ক্ষেত্রে অস্ত্রধারী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তদন্তকারীদের যে বাধা দিয়েছে, রাশিয়া যদি সেটির নিন্দা জানাতো তাহলে এই প্রস্তাব পাসের কোন প্রয়োজন হতো না। তবে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিটালি চারকিন দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে উপনীত না হতে নিরাপত্তা পরিষদকে আহবান জানিয়েছেন। মি: চারকিন বলেন, একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য রাশিয়া তার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, তদন্তের জন্য রাশিয়া বিশেষজ্ঞ দিয়ে সহায়তা করতে তৈরি । তবে এখানে কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া ঠিক হবে না বলে মি: চারকিন মন্তব্য করেন । গত বৃহস্পতিবার ২৯৫ জন আরোহী একটি মালয়েশিয়ান যাত্রীবাহী বোয়িং পূর্ব ইউক্রেনে বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় অধিকাংশ নিহত যাত্রী ছিলেন ডাচ। ইউক্রেন ও রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীদের উভয়পক্ষই বিমান বিধ্বস্ত হবার দায় অস্বীকার করেছে। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটিকে কারা ভূপাতিত করেছে, সেটি নিয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেন এখনও পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তবে, বৃহস্পতিবার বিমানটি বিধ্বস্ত হবার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশসমূহের সমালোচনার মুখে রয়েছে রাশিয়া।