বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের জানুয়ারি-জুন, ছয় মাসে মোট ২২০৮ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৪৩১টি এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮২ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৫ জন নারীকে। ধর্ষণের চেষ্টার শিকার ৫১ জন, শ্লীলতাহানির শিকার ৭০ জন ও যৌন নির্যাতনের শিকার ২৫ জন। নারী নির্যাতন বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা ক্রমবর্ধমানহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের কাছে ঐক্যবদ্ধভাবে নারীর স্বাধীন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণের দাবি করে সংগঠনটি। সংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ধর্ষণকারীকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। ধর্ষণের শিকার নারীকে হেয়প্রতিপন্ন না করে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে সহায়তা কবার আহবান জানান তারা। তারা বলেন, তাত্ক্ষণিক ভিকটিমের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, মেডিকোলিগ্যাল কাঠামো শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নিয়োগ করা প্রয়োজন। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র প্রত্যেক জেলায় স্থাপন ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক জেলায় পৃথক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করার প্রতি জোর দেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে আয়শা খানম বলেন, হঠাত্ করে গত ৬ মাস ধরে এই ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো আমাদের চিহ্নিত করে তা বন্ধের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্র, রাষ্ট্র, মানবধিকার, নারী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য সব সময় ধর্ষণকে একটি টুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে বিরোধপূর্ণ সংস্কৃতি বিরাজমান সেখানেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। তাই কাঠামোগত দুর্বলতার জায়গা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং রাষ্ট্র ও সরকারকে এ বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। শুধুমাত্র সরকার নয় প্রধান বিরোধী দলসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে এই ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
