নতুন প্রজন্মের গান

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৯
বেবী নাজনীন। আমাদের সংগীতাঙ্গনের একজন প্রিয় মুখ। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের হূদয় জয় করেছেন। এবারের ঈদে ‘দ্য ব্ল্যাক ডায়মন্ড বেবী নাজনীন’ শিরোনামে কোকিলকণ্ঠী এই গুণী শিল্পীর নতুন একক অ্যালবাম বাজারে আসছে। তার নতুন এই অ্যালবাম ও বর্তমানের ব্যস্ততা নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন অজেয় চৌধুরী ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত এই প্রজন্মের শ্রোতাদের জন্য নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন। আসছে ঈদে বাজারে আসবে তার ৫০তম একক অ্যালবাম ‘দ্য ব্ল্যাক ডায়মন্ড বেবী নাজনীন’। এই অ্যালবামের বিশেষত্ব হলো নতুন প্রজন্ম আর নতুন গান। তিনি এর আগে নতুন প্রজন্মের সংগীতকারদের সংগীতে কখনোই গান করেননি। এবার তিনি একইসঙ্গে এই প্রজন্মের চার সংগীত পরিচালকের সুর ও সংগীতে গান গাইলেন। গানের কথাগুলোও লিখেছেন এই প্রজন্মের চাহিদাসম্পন্ন গীতিকাররা। এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন, যে চারজন সংগীত পরিচালক গানগুলো করেছেন তাদের মধ্যে কেবল রাজেশের সুর এবং প্রদীপ সাহার কথায় বেবী নাজনীনের ৪৭তম একক ‘ডাক পিয়ন’ প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় বছর ৪ আগে। নতুন অ্যালবামে রাজেশের সুরে একটি দ্বৈতসহ মোট ৪টি গান গেয়েছেন বেবী। এই গানের কথাগুলো লিখেছেন প্রদীপ সাহা এবং রবিউল ইসলাম জীবন। অ্যালবামের অন্য গানগুলোর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন এফ এ সুমন, অমিত এবং ইমরান। আর গান লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন, এ মিজান, সোহাগ ওয়াজিউল্লাহ। মেলোডি এবং রোমান্টিক ধারার গানই তৈরি করা হয়েছে। তবে গান নির্মাণের ক্ষেত্রে সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গুরুত্বের সাথে। অ্যালবামে দুটি গান থাকছে দ্বৈতভাবে এর একটিতে বেবী নাজনীনের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বেলাল খান অন্যটিতে ইমরান। ইমরানের গানটি ইমরান নিজেই তৈরি করেছেন। বছর দুই আগে বেবীর সর্বশেষ একক ‘ইচ্ছে করে ভালোবাসি’ প্রকাশিত হয় সংগীতার ব্যানারে। মাঝের বিরতিটা ঘটে বেবী নাজনীনের বিদেশের ব্যস্ততার কারণে। গত দুই বছরের বেশির ভাগ সময়ই বেবী আমেরিকা-ইউরোপ ট্যুরে ছিলেন। যে কারণে অডিওতে সময় দিতে পারেননি। নতুন অ্যালবাম নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী অডিও বাজারের এই শীর্ষস্থানীয় সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘এবার আমি যাদের সুরে গান করেছি। এর আগে তা কখনোই করিনি। আমি মনে করি নতুনরা সব সময়ই নতুন কিছু দিতে পারে। তাদের তৈরি করা গানের মাধ্যমে আমি তার প্রমাণও পেয়েছি। শ্রোতারাও তা পাবেন। গানগুলো দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা পাবে বলে বিশ্বাস করতে পারি। আমার অনেক গান জনপ্রিয় হয়েছে। এই অ্যালবামের গানগুলো নিয়েও আমি একই রকম আশাবাদী। প্রতিটি গানেই আলাদা আলাদা বৈচিত্র্য রয়েছে। শুধু সুরেই নয়, গানের বাণী এবং আমার গায়কীতেও সেই নতুনের মাত্রা পাবেন সংগীতপ্রেমীরা। আর ৫০তম একক এটি। কাজেই এই অ্যালবাম নিয়ে আগের চেয়েও প্রত্যাশা আমার অনেক বেশি।’ বহুমাত্রিক গানের গায়িকা বেবী নাজনীন তার গানের মাধ্যমে যেনটা প্রত্যাশা করেন তার ভক্তদের মাধ্যমে তিনি পেয়েছেনও তাই। আধুনিক গানের বাজারে আর কোনো শিল্পী নেই যার ৫০টি একক অ্যালবাম বেরিয়েছে। ১৯৮৭ সালে সারগাম থেকে প্রকাশিত সেলফ টাইটেল অ্যালবাম থেকে শুরু করে ২০১১ পর্যন্ত প্রকাশ হয় ৪৯টি অ্যালবাম। আর প্রতিটি অ্যালবামেই বেবী নাজনীন তার স্বকীয়তা দেখিয়েছেন। একের পর এক হিট গান দিয়েছেন অডিও বাজারে। গান সরাসরি শ্রোতার কাছে পৌঁছতে হবে যা কেবল অডিও বাজারের মাধ্যমেই সম্ভব। পাইরেসির সমস্যা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে। তাই বলে বাজার বন্ধ হবে এমনটা মেনে নিতে নারাজ এই সংগীত তারকা বেবী নাজনীন। তার মতে, ‘গানের বাজার স্থিতিশীল করতে অডিও প্রযোজকদেরই মূল ভূমিকা রাখতে হবে। আগের মতোই প্রডাকশন নিয়মিত করতে হবে। পাইরেসি রোধ করতে সরকারের সহায়তা নিতে হবে। এটি একটি ইন্ডাস্ট্রি। আর ইন্ডাস্ট্রি ধরে রাখতে অন্যরা যেমন সরকারি সহায়তা নিয়ে থাকে অডিও ব্যবসায়ীদেরও সরকারের সাহায্য চাইতে হবে। সংগীত আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম বড় মাধ্যম এই সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য এবং তা রক্ষায় দায়িত্বশীল হতে হবে। পাইরেসি হচ্ছে বলে হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’