কিছুদিন আগে হলিউডের সব নামকরা তারকাদের মাঝে ধুম পড়েছিল ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করার। সেসব নারী শিল্পীদের মধ্যে এগিয়ে ছিলেন শার্লিজ থেরন। এবারে সেই কাতারে নাম লেখালেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ‘মেলেফিসেন্ট’ ছবির মধ্যে দিয়ে নিজেকে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন ভিন্ন চরিত্রে। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি হলিউড এল ক্যাপি্থটেইন থিয়েটারে ‘মেলেফিসেন্ট’ মুভির প্রিমিয়ারে অংশ গ্রহণ করেন সম্প্রতি। তার আসার অপেক্ষায় সন্ত্রস্ত হয়ে তাকিয়ে ছিলেন অনেকেই। কারণ তাদের প্রিয় অভিনেত্রীকে দেখবেন ভিন্ন রূপে। এর আগে বিভিন্ন চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে বদলেছেন অনেকেই। সেই কাতারে ছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও। তবে এবারের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ এবার তার চরিত্রটিই নেগেটিভ। এখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। তিনি কালো রঙের একটি চামড়ার গাউন পরিধান করে আসেন সেই প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে। আর সেই সাথে সবসময়ের মতোই তার ভক্তদের মন জয় করলেন। এই অনুষ্ঠানের জন্য তিনি একটি চমত্কার পনি টেইল স্টাইল (১৯৫০-এর দশকের বালিকাদের জনপ্রিয় কেশবিন্যাস বিশেষ) করে আসেন যা দেখে দর্শকরা মুগ্ধ চিত্তে তাকিয়ে থাকেন। ‘মেলেফিসেন্ট’ ছবিটিও এমনই। সবাই জোলিকে দেখার জন্যই সিনেমা হলে হুমরি খেয়ে পড়ে। কারণ আকর্ষণীয় গেটআপ এবং অভিনয় কৌশল। পুরো সিনেমাটিই বলা যায় একরকম ম্যাজিকাল মোমেন্ট। এক ছোট্ট কিশোরী এবং এক ডাইনীর গল্প। জাদুকরী সেই ডাইনীর গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে সিনেমা।
একজন জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী। তিনি তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, দুইবার স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং একবার একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। চলচ্চিত্র জগতের বাইরে ২০০১ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হয়েছিলেন। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার এবং বিশেষ করে শরণার্থীদের জন্য কাজ করার জন্য জোলি বিশেষভাবে সমাদৃত। একাধিকবার তিনি ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’ নির্বাচিত হয়েছেন। রুপালি পর্দার অন্তরালে থাকা তার ব্যক্তিগত জীবনও প্রায় সময়ই গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন। ১৯৮২ সালে ‘লুকিং টু গেট আউট’ চলচ্চিত্রে বাবা জন ভটের সাথে একটি শিশু চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে জোলির আবির্ভাব হয়। তবে পেশাদার চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ঘটে স্বল্প বাজেটের ছবি ‘সাইবর্গ ২’ (১৯৯৩)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। তার অভিনীত প্রথম বড় মাপের ছবি ‘হ্যাকারস’ (১৯৯৫)। এ ছবিতে তিনি নামভূমিকায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তাকে ‘জর্জ ওয়ালেস’ (১৯৯৭) ও ‘জিয়া’ (১৯৯৮)-এর মতো সমালোচক-নন্দিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। নাট্য চলচ্চিত্র ‘গার্ল, ইন্টারেটেড’ (১৯৯৯)-এ অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ভিডিও গেম নায়িকা লারা ক্রাফট চরিত্র নিয়ে ‘লারা ক্রাফট :টুম্ব রেইডার’ (২০০১) চলচ্চিত্রে অভিনয় তার তারকাখ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়। মূলত এরপর থেকেই জোলি হলিউডের অন্যতম ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক-প্রাপ্ত একজন অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ব্রাড পিটের সাথে তার সংসার, আর তাদের সন্তানের সংখ্যা ছয়। এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের তিন সন্তান শিলোহ, নক্স ও ভিভিয়ান এবং দত্তক নেওয়া তিন সন্তান ম্যাডক্স, প্যাক্স ও জাহারা।
