নিজের অজান্তেই এদেশের মডেলিং জগতে একচ্ছত্র রাজত্ব করছেন সব বয়সী দর্শকের প্রিয় তারকা নোবেল। অফিসিয়াল কাজের ব্যস্ততা, নাটকের শুটিংসহ পাশাপাশি অন্যান্য কাজ নিয়ে ছুটোছুটির দরুণ নোবেলের সঙ্গে কথা বলতে হাজির হতে হয় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ফ্যাশন হাউজ ‘আমব্রেলা’-তে। প্রিয় দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে কথা বলতে সবসময়ই স্বাচ্ছন্দ্যবাধ করেন তিনি।
লিখেছেন কবিতা আলী
দুনিয়াদারী কাজের যত ব্যস্ততাই থাকুক নামাজ নিয়মিত পড়েন নোবেল। তাই ফ্যাশন হাউজ ‘আমব্রেলা’-তে তার সঙ্গে কথা বলতে তারাবির নামাজের শেষেই সেখানে হাজির হতে হয়। দিনের যাবতীয় দায়িত্ব পালন শেষে নোবেল সেদিন আসলেন রাত এগারোটায় ‘আমব্রেলা’-তে। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রশ্ন রাখি এত ব্যস্ততা, এত ছোটাছুটি তারপরও একটু সময় দিতে আসেন ‘আমব্রেলা’-তে, কেন? সহজ সরল প্রাণবন্ত মৃদু হাসি দিয়ে নোবেল বলেন, ‘যেহেতু আমি আমব্রেলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, তাই এখানেও একটু সময় দেওয়ার চেষ্টা করি আমার দায়িত্বের দায়বদ্ধতা থেকে। ক্রেতাদের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করি কারণ প্রতিনিয়তই ক্রেতাদের চাহিদা পরিবর্তন হয়। একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আমাকে এই ফ্যাশন হাউসটির ফ্যাশন বিষয়ক দিক নির্দেশক হিসেবেও কাজ করতে হয়। তাই ব্যস্ততার পরও সময় দিই। ভালো লাগে।’ নোবেলেকে বহুদিনের জমে থাকা আরেকটি প্রশ্ন রাখি, জানতে চাই নিশ্চয়ই আপনি বহু চলচ্চিত্র পরিচালকের চলচ্চিত্রে কাজ করার অফার পেয়েছেন, কিন্তু কিভাবে সেসব চলচ্চিত্রে কাজ করা থেকে আজ অবধি নিজেকে বিরত রেখেছেন? নোবেল বলেন, ‘মন থেকে যদি কোনোকিছুর প্রতি আগ্রহ না থাকে সে কাজ করাটাও ঠিক নয়। তো আমি কিংবা আমার পরিবারের কেউই কিন্তু চাইত না মিডিয়াতে কাজ করি আমি। বিশেষ করে আমার মা। আমার কাজিন নাসের একটি অ্যাডফার্মে চাকরি করতেন বিধায় আমার মা’কে বলে কাজ করাতে রাজি করাতে পেরেছিলেন বিধায় আজ আমি মডেল নোবেল হতে পেরেছি, তা না হলে একজন সাধারণ নোবেল-ই থেকে যেতাম আমি। সবমিলিয়েই আসলে চলচ্চিত্রের প্রতি কাজ করার আগ্রহটা কখনোই তৈরি হয়নি। তাই কাজ করিনি আজও।’ একসময় তো আপনি এবং প্রয়াত সালমান শাহ একসঙ্গে ফ্যাশন শো করতেন? ‘আমাদের শুরুটা ফ্যাশন শো দিয়েই, পরে আমি, ইমন (সালমান শাহ) এবং ইমরান একসঙ্গে তিনটি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলো প্রচারে আসেনি। ইমন যখন কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ শুরু করে তখন আমাকে প্রায়ই বলত ‘নোবেল ভাই, আমি তো ফিল্মে চলে এলাম, আপনিও চলে আসুন।’ তারপর তো ইমন নিজেই আমাদের দেশীয় ফ্যাশনে একটা নিজস্ব ধারা তৈরি করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাকে অকালে হারাতে হলো আমাদের।’ এবার ঈদে একটি নাটকে কাজ করেছেন আপনি? ‘হ্যাঁ, একটি। দৃকের প্রযোজনায় ফাহমিদা ইরফানের পরিচালনায় ‘নিঃসঙ্গ রাঁধাচূড়া’ নাটকে তারিনের বিপরীতে অভিনয় করেছি। ১৯ জুলাই সেহরির পরও আমরা কাজ করেছি। ভালো লাগবে দর্শকের আশা করি।’ এত ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকে সময় দিতে পারেন? নোবেল বলেন, ‘আমার বা আমাদের জীবনের যা কিছু সবই কিন্তু পরিবারের জন্য পরিবারকে ঘিরে। তাই যতই ব্যস্ত থাকি না কেন স্ত্রী শম্পা, মেয়ে নামীরা এবং ছেলে জুনাইনকে সময় দেওয়ার ভীষণ চেষ্টা থাকে। পাশাপাশি ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলে সমাজের প্রতিও দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি। একজন মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’
