‘আমি ইতিহাস গড়তে এসেছি’

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২১:১১
বলের উপর অসামান্য নিয়ন্ত্রণ যেমন দেখিয়েছিলেন, তেমনি পেয়েছিলেন একের পর এক গোল। গোল করে যেমন মুগ্ধ করেছিলেন, তেমনি কোয়ার্টার ফাইনালে তার বিদায়ে কেঁদেছিল গোটা বিশ্ব। কলম্বিয়া নয়, হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বকাপেরই প্রতীক। সেই জেমস রড্রিগেজ, লাতিনদের প্রিয় হামেস রড্রিগেজ এখন হয়ে গেলেন স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের প্রতীক। আট কোটি ইউরোর বিনিময়ে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের দশ নম্বর জার্সি উঠে গেল তার হাতে। স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে চল্লিশ হাজার দর্শকরাও বরণ করে নিল তাদের যুবরাজকে—হামেস রড্রিগেজকে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনের চুম্বক অংশ তুলে দেয়া হল পাঠকদের জন্য— রিয়াল মাদ্রিদে আসা প্রসঙ্গে— এই মুহূর্তের জন্য আমি সব সময়ই স্বপ্ন দেখেছি। এখানে আমি ইতিহাস গড়তেই এসেছি। আমার আর রিয়াল মাদ্রিদ—উভয়ের উপরই অনেক চাপ থাকবে। কিন্তু চাপ জয় করতে আমি প্রস্তুত। ক্লাবে অবশ্যই আমি জয়ের জন্য এসেছি। এখানকার খেলার ধরনটাও আমি আয়ত্তে নিয়ে আসতে চাই। আশা করি, আনন্দদায়ক একটা যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। ট্রান্সফার ফি প্রসঙ্গে— আমি রিয়ালের জন্য যেকোনভাবে কার্যকর হয়ে উঠতে চাই। অনেক ট্রফি জয় করতে চাই, আমার স্বপ্ন সত্যি করতে চাই। আমি নিজেকে মেলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ট্রান্সফার ফি প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য হল, আমি কখনো সংখ্যায় বিশ্বাস করি না। আমি শুধু ক্লাবের ইতিহাসটা আরেকটু সমৃদ্ধ করতে চাই। সকল মাদ্রিদিস্তাদের মন জয় করতে চাই আমি। রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তীদের প্রসঙ্গে— আমি জিনেদিন জিদানকে নিজের আদর্শ মনে করি। সেই সময়টার কথা আমার এখনও চোখের সামনে ভাসে যখন ক্লাবটির হয়ে এক সাথে জিদান, রোনালদো ও রবার্তো কার্লোসরা এক সাথে খেলতেন। তাদের একসাথে খেলতে দেখা ছিল দারুণ এক ব্যাপার। সব সময়ই ক্লাবটির যেকোন অর্জন আমাকে আনন্দ দিতো। তাই এখন আমার স্বপ্ন পূরণের মত একটা ব্যাপার ঘটেছে। দশ নম্বর জার্সির প্রসঙ্গে— এটা সত্যি যে, আমি দশ নম্বর জার্সি পরে অভ্যস্ত। কিন্তু, এখানে আমাকে অন্য কোন জার্সি দেয়া হলেও আমার সেটা গায়ে দিতে কোন আপত্তি থাকতো না। রিয়াল মাদ্রিদ আমার অন্যরকম একটা ব্যাপার। তাদের হয়ে যেকোন কিছুই আমি করতে পারবো। পজিশন প্রসঙ্গে— এটা সম্পূর্ণ দল ও কোচের সিদ্ধান্ত। মাঝ মাঠে আমি যেকোন জায়গায় খেলতে রাজি আছি। সতীর্থদের প্রসঙ্গে— রিয়াল মাদ্রিদের সাথে যখন আমার প্রাথমিক আলোচনা চলছিল, তখন বলা হয়েছিল আমি হব দলের মূল খেলোয়াড়। রিয়াল মাদ্রিদের দলটা দারুণ। আশা করছি সতীর্থদের কাছ থেকে দারুণ সহায়তা পাবো। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা ব্যাপার। এখানকার অভিজ্ঞতা আমার ভবিষ্যত্ জীবনেও কাজে লাগবে। ফ্যালকাওয়ের প্রসঙ্গে— ফ্যালকাও আমাকে কোন কিছু বলেনি। আসলে ওর সাথে রিয়াল মাদ্রিদ প্রসঙ্গে কখনোই আমার সেভাবে কোন আলাপ হয়নি। ফ্যালকাও গ্রেট একজন খেলোয়াড়। এখানে খেলার মত সকল যোগ্যতাই ওর আছে। বাকিটা রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজমেন্ট জানে। টনি ক্রুসের প্রসঙ্গে— টনি ক্রুস গ্রেট একজন খেলোয়াড়। সব দিক থেকেই ও দারুণ যোগ্য। তবে, মাদ্রিদের সবাই ভাল খেলোয়াড়। সবাই ট্রফি জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলতে আসে। প্রথমবারের মত স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে আসা প্রসঙ্গে— সত্যি কথা বলতে কি, এখানে আসার অনুভূতিটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সেই ছোটবেলা থেকে এখানে আসার আমি স্বপ্ন দেখতাম, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আশা করি ক্যারিয়ারের বাকিটা সময় এখানেই কাটাতে পারবো। প্রথম ম্যাচ প্রসঙ্গে— আমি আগামী এক আগস্ট থেকে অনুশীলন শুরু করবো। উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচ আছে আগামী ১২ আগস্ট। জানি না সেখানে আমি খেলবো নাকি। সিদ্ধান্তটা কোচই নিবেন।