নির্বাচকদের ভাবনায় ক্যারিবীয় কন্ডিশন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২১:৫০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে একসময় একটা ব্যাপার খুব পরিষ্কার ছিল—এখানে গেলে আপনাকে গতিসহায়ক উইকেটে একঝাঁক ফাস্ট বোলার সামলাতে হবে। সেই ফাস্ট বোলাররাও নেই, নেই ক্যারিবীয় সেই পেসস্বর্গ উইকেটও। ফলে এখন আর শুধু পেস বোলিং নিয়ে ভেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়া চলে না। ব্যাপারটা এতো সরল হলেও সমস্যা ছিল না। ক্যারিবীয়রা ২০০৭ সাল থেকে সেই অর্থে পেস সহায়ক উইকেট আর না বানালেও বাংলাদেশের মতো দলকে পেলে পেসস্বর্গ ফেরাতে পারে, এমন আশঙ্কাও আছে। ফলে এবারের সফরে দল ঘোষণার আগে বাংলাদেশের নির্বাচকরা এই কন্ডিশন নিয়ে আছেন দারুণ ভাবনায়। এই ভাবনার সঙ্গে আবার দলের খেলোয়াড়দের নিয়েও বাড়তি কিছু ভাবনা তৈরী হয়েছে। প্রথম সমস্যা, সাকিব নেই। দ্বিতীয় সমস্যা তামিম ইকবাল, নাসির হোসেনরা ফর্মে নেই। আর এসব সমস্যা ও ভাবনা পার করে আগামীকাল বা পরশুই এসব চ্যালেঞ্জ পার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরের দল ঘোষণা করা হবে। গতকাল প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ বললেন, তাদের কাছে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হল বর্তমান ক্যারিবীয় কন্ডিশনটা ঠিকমতো অনুমান করে সে অনুযায়ী দল ঘোষণা করা। দল কেমন হতে পারে, সে ব্যাপারে অধিনায়ক ও কোচের মতামত গতকালই নিয়ে ফেলেছেন ফারুক আহমেদরা। তিনি বলছিলেন, ‘আজকে আমরা ক্যাপ্টেন কোচকে ডেকেছিলাম তাদের পরামর্শ নিতে, যেটা আমরা করে থাকি। তাদের মতামতের পর আজকে প্রাথমিক একটা তালিকা করেছি। যেমন আমরা কি কন্ডিশনে খেলতে যাচ্ছি, তারা কি প্রেফার করে, কারণ তারাই কাছ থেকে দেখে। ক্যাপ্টেন টিম চালায় আর কী। ওইদিকটা বিবেচনা করে তাদের মতামত নিয়েছি। কালকে হয়তো বসবো, তারপর ফাইনাল করবো দল।’ তবে শুরুতেই ফারুক স্বীকার করে নিলেন যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য বাংলাদেশের মতো স্পিননির্ভর একটি দেশের দল গঠন করা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন, ‘এতোদিন আমরা হোমে দল বানিয়েছি, এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আপনি করেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশন পরিবর্তন হয়েছে। আগে প্রচুর বাউন্স থাকতো। এখন ঐতিহ্য বদলেছে। আবার কিছু উইকেটে পেসও আছে। যেমন বার্বাডোজের কেনসিংটনের উইকেটে বেশ বাউন্স আছে কিন্তু অতটা মুভমেন্ট নাই। কিছুটা মিশ্রণ হয়ে গেছে উইকেটগুলো। আগে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চিন্তা করতাম চারটা পাঁচটা ফাস্ট বোলার দরকার। সেটা কিন্তু এখন নাই। সাথে সাথে এটাও বিশ্বাস করি ওয়েস্ট ইন্ডিজ তার শক্তিশালী পয়েন্টে খেলবে। ওরা ওদের হোমে স্ট্রং পয়েন্ট এবং আমাদের দুর্বল পয়েণ্ট চিন্তা করে উইকেট দেয়ার চিন্তা করবে। আমারা কিছু ধরাণা পেয়েছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সম্পর্কে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমাদের এ দল গিয়েছিল। প্রথম ম্যাচের উইকেটটা ভালো ছিল না ওভালে। দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো ছিল। যদিও ওখানে আমরা খেলবো না। আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন উইকেট হয়। আসলে আমাদের স্ট্রং এবং দুর্বল পয়েন্ট কি, স্পিন না পেস। এটা ভাবতে হবে। সব মিলিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে আর কি, দল গড়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ট্যুরটা।’ আবার তামিমের ফর্ম নিয়ে আছে দারুণ দুশ্চিন্তা। প্রায় বছরখানেক ধরে একেবারেই ছন্দের বাইরে থাকা তামিমের ব্যাপারে তাই দ্বিতীয়বার ভাবতেও হচ্ছে তাদের, ‘যাদের ব্যাটপ্যাঁচ যায়, আমরা দেখি যে তারা অন্য জিনিসগুলো ঠিকমতো করছে কি না। সে প্র্যাকটিসে কঠিন পরিশ্রম করছে। কোচের অধীনে স্কিল করছে। চেষ্টা করছে সে। তবে ম্যাচে কখন ফর্মে ফিরে আসবে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তার জন্যও অবশ্য আমাদের বিকল্প খেলোয়াড় আছে। সেক্ষেত্রে আমরা ওরকম করে দলটা বানিয়েছি।’ শেষ পর্যন্ত দল যেমনই হোক, তাতে নতুন মুখ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ইঙ্গিত দিলেন প্রধান নির্বাচক, ‘আমরা সব সময় চিন্তা করি একটা দুটো নতুন ছেলেকে দলে রাখতে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো কন্ডিশনে একটা ছেলেকে নেয়া, আমি বলছি না কেউ চান্স পাবে না। তবে আমরা কন্ডিশনের কথা চিন্তা করে একটা নতুন ছেলেকে চান্স দেই। সেক্ষেত্রে আমরা বিবেচনা করি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কি স্ট্রং, কি উইক। সুতরাং আমরা এগুলো দল নির্বাচনে বিবেচনায় রাখবো।’