ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জন্য এমন বিষাদময় সময় নিশ্চয়ই এর আগে কখনো আসেনি। ছোটখাটো শাস্তি পেয়েছেন আগেও। কিন্তু লম্বা সময় ধরে ক্রিকেটের বাইরে থাকার এই অভিজ্ঞতা এর আগে হয়নি। সতীর্থরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য চুটিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন; আর তিনি অনেকটাই একাকী কাটাচ্ছেন সময়। এই বিষাদ নিয়েই তাকে ঈদের উত্সবে অংশ নিতে হবে। এখনও জানেন না যে, ঈদের ছুটি শেষে তার আপিল আবেদনে সাড়া দিয়ে কিছু শাস্তি কমাবে কি না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
তবে সেই অনিশ্চিত ব্যাপারটাকে পাশে রেখে এই সময়কে অনেকটা মেনে নিয়েই নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। এতোদিন অনুমতি না মেলায় ও নিজে ধাক্কা সামলে না ওঠায় অনুশীলন করেননি। এবার জাতীয় দলের কোচ চন্দিকা হাতুরুসিংহের কাছে বিসিবি থেকেই সাকিবের অনুশীলনের একটা সূচী ঠিক করে দিতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী সাকিবকে আগামী ২ আগস্ট থেকে অনুশীলনের সূচী করে দেয়া হয়েছে। ঠিক জাতীয় দলের সঙ্গে না হলেও কাছাকাছিই জাতীয় কোচদের তত্ত্বাবধায়নে অনুশীলন করবেন সাকিব।
এদিকে সাকিবের অনুশীলন যখন শুরু হচ্ছে, জাতীয় দলে আবারও তখন ভাঙনের সুর। সর্বশেষ কোচিং স্ট্যাফের শেষ সদস্য হিসেবে টিকে থাকা ফিজিওথেরাপিস্ট বিভব সিংও অবশেষে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাতেই কোনো একটা চাকরির ব্যবস্থা করছেন।
সাকিবের অনুপস্থিতি এদিকে জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দারুণ সমস্যায় ফেলেছে নির্বাচকদের। দেশের সেরা অলরাউন্ডারকে হারিয়ে কার্যত দুজন খেলোয়াড়কে বিকল্প হিসেবে ভাবতে হচ্ছে তাদের, ‘সাকিব খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। একজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়তে পারে। সাকিব অবশ্য সাসপেনশনে আছে। আমরা এর আগে সাকিবকে ছাড়া খেলেছি। সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যানের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে যেটা ফেইস করতে হচ্ছে, সাকিবের বিকল্প চিন্তা করতে গিয়ে একটা খেলোয়াড় বেশি নিতে হচ্ছে আমাদের।’
উল্লেখ্য, ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে দর্শকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অনাপত্তিপত্র না নিয়ে ক্যারিবিয় লিগে খেলতে রওনা দেয়া, বিসিবির সঙ্গে পৃষ্ঠপোষকের চুক্তি না মেনে বিজ্ঞাপন করা; নানাবিধ কারণে সাকিবকে বিসিবি ছয় মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। এ ছাড়া দেড় বছর তাকে এনওসি দেয়া হবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাকিব এই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন।
