এন্টিক-সিলভার ও কালার ম্যাচিং গহনার প্রতি নারীদের আকর্ষণ বেশি। ঈদের পোশাক যাদের কেনা শেষ তারা পোশাকের সাথে মিলিয়ে গহনা কিনছেন। যাদের জামা বা শাড়ির সঙ্গে গহনার রং মিলছে না তারা এন্টিক কিংবা জাঙ্ক গহনা মিলিয়ে নিচ্ছেন।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকে এখন ওয়েবসাইটে বেচাকেনা করেছেন। অনেকে শপিংয়ে যাওয়ার ঝামেরা এড়াতে ঘরে বসে ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটে গহনার ছবি দেখে অনেকে অর্ডার করছেন। তবে ঈদের বাজারে তরুণীরা একটু ঘুরে ফিরে গহনা কিনতেই পছন্দ করছেন।
উচ্চবিত্তদের মধ্যে ঈদে সোনার গহনা কেনার প্রচলন থাকলেও মধ্যবিত্ত ও তরুণীদের আগ্রহ ইমিটেশন ও গোল্ডপ্লেটিং গহনার প্রতি। এসব গহনার দামও বেশ কম। এছাড়া রূপা, স্টোনের গহনার চাহিদাও রয়েছে বেশ। শুধু টিনএজ কিংবা তরুণীরা নয়; এন্টিক-জাঙ্ক ও রঙিন গহনা মূলত এ সময়ের ফ্যাশন। সালোয়ার কামিজ, জিন্স-টপ, শাড়ি, যে কোন পোশাকের সঙ্গেই এন্টিক ও জাঙ্ক গহনা চলে। শুধু ম্যাচ করে নেয়া চাই। ‘কে এন্ড জেড’ এ গহনা কিনতে আসা পিংকী বলেন, ম্যাচ করা বলতে রং মিলিয়েই কিনতে হবে, তা নয়। পোশাকের সাথে মানাচ্ছে কিনা, দেখতে ভাল লাগছে কিনা, সেটাই প্রধান। তাছাড়া সব ধরনের রঙের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে যা পড়বেন তাই এখন ‘ফ্যাশন’ বলে জানালের পিংকী।
তবে ডিজাইনারদের মতে, এ বছর ঈদে মেয়েরা রঙিন মেটাল ও স্টোনের গহনা বেশি পরবেন। মিনা করা গহনাগুলো ভালো চলবে। ঝোলানো লম্বা দুলের চেয়ে কানে লাগোয়া পুতি কিংবা স্টোনের টপ ও মাঝারি লম্বা দুল সঙ্গে ম্যাচিং মালা চলছে।
প্রতিটি মার্কেটেই রয়েছে এখন গহনার দোকান। তবে গাউছিয়া মার্কেটের সামনে রাস্তার ওপর বসা ইমিটেশন গহনার দোকানগুলো হচ্ছে কমদামের সবচেয়ে ভাল জায়গা। ফুটপাতের এসব দোকানে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এসব দোকানে কানের দুল, মালা, চুলের ক্লিপ প্রভৃতি বিক্রি বেশি। মৌচাক মার্কেটের পাশ ঘেঁষেও বসেছে এইসব ইমিটেশনের গহনার দোকান। সেখানেও ক্রেতাদের লক্ষণীয় ভিড় দেখা গেছে। এখানে রকমারি কাঁচের রেশমি চুড়ি তো আছেই ঝলমলে ডিজাইনের সেট চুড়ির বিক্রিও বেশ ভাল। এসব সেট চুড়ির দাম ১০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা। কানের টপের দাম ২০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভালো স্টোনের দুল কিংবা মালার দাম ৫৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন ধরনের লকেটসহ চিকন চেইন পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ক্লিপ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের চুড়ির বিক্রিও বেশ ভাল।
এখন প্রায় প্রতিটি মার্কেটে গড়ে উঠেছে গোল্ড প্লেটিং গহনার দোকান। রাপা প্লাজা এ আর, সানরাইজ, নিউ মার্কেটসহ প্রায় প্রতিটি মার্কেটে রয়েছে গহনার দোকান। এসব গহনা দেখতে সোনার গহনার মতই; তবে দাম তুলনামূলক কম। তাই ক্রেতাদের কাছে এসব গহনার চাহিদা খুব বেশি। শপিং কমপ্লেক্সগুলোর অলংকারের দোকানগুলোতে কোরিয়া, ভারত, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আনা নানা আকৃতির অসংখ্য রঙের পাথরের গহনার সম্ভার রয়েছে। এরমধ্যে মানের দিক দিয়ে কোরিয়ান পাথরের গহনাগুলো সবচেয়ে ভালো বলে এর চাহিদাও সব সময় বেশি থাকে বলে জানান বিক্রেতারা।
চিক আর ঝুমকো দুলের বিক্রি বেশি বলে জানালেন ধানমন্ডির মিরপুর রোডের মেট্রো প্লাজার এরাবিয়ান গহনার দোকানি। তিনি বলেন, গোল্ড প্লেটিং গয়নার মধ্যে বিভিন্ন রঙের স্টোন, পার্ল বসানো গহনাগুলো চলছে বেশি। এসব গহনার দাম পড়বে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, চুড়ি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, এছাড়া রুবী পাথরের বিভিন্ন মালার দাম ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা।
এছাড়া ইমিটেশন গয়নার পাশাপাশি দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর ট্রেন্ডি মালা গানের দুল বিক্রি হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে মেটাল, পুঁতি ও সূতার তৈরি বিভিন্ন গয়না। অভিজাত পোশাক প্রতিষ্ঠান আড়ং, কে ক্রাফট, অঞ্জন্স ওজি, রঙ, দেশাল, নগরদোলা প্রভৃতি দোকানেও গহনার বিক্রি বেশ ভাল।
দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে আনা মেয়েদের কানের দুল, গলার মালা, হাতের চুড়ি বা বালা, চুলের ক্লিপ ইত্যাদি সব কিছুতেই উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে রঙিন মেটাল, ইমিটেশন, মাটি, কাঠ, বিভিন্ন রকম নাইলন, ইত্যাদি। কয়েকটি উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে গয়না। এসব ইমিটেশন গয়নার সঙ্গে ছোট-বড় নানা আকারের পুতি, পাথর ও বিডস বসানো এবং হালকা মিনা করা সোনা ও রূপার গহনাও চলছে।
