বাসার সামনের রাস্তায় লাল টেপ মোড়ানো একটি কৌটা দেখতে পায় সুলতানা (৭)। সে কৌটাটি বের করে সাদিয়ার (১০) হাতে দিয়ে বলে-‘দ্যাখতো, এইটা কী ?’ সাদিয়া একটু নেড়েচেড়ে বলে, ‘এইটা তো মনে হয় বোম।’ তখন সুলতানা ও রিফাত (৪) ভয়ে দ্রুত ফেলে দিতে বলে। তড়িঘড়ি করে সাদিয়া কৌটাটি ছুঁড়ে দিলে সেটি কাছেই পড়ে সশব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে তিনজনই আহত হয়। পুরান ঢাকার চকবাজারের ইসলামবাগে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে এই তিন শিশু বুধবার আহত হয়েছে। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও আহতদের স্বজনরা জানান, ইসলামবাগের কমিশনার গলির সেলু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে আহতদের পরিবার। গতকাল সকাল ৯টার দিকে তারা কমিশনার গলিতে খেলছিল। সেখানে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাখা ছিল কিছু ভাঙারি সরঞ্জাম। এরকম দু’টি বস্তার ফাঁকে লাল টেপে মোড়ানো একটি কৌটা দেখতে পায় সুলতানা। সেটি ছুঁড়ে মারলে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রিফাতের বাম হাত ও ডান গালে, সুলতানা ও সাদিয়ার দুই পায়ে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে তারা বাসায় ফিরে গেছে। আহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, রিফাত বস্তির একটি স্কুলে সদ্য ভর্তি হয়েছে। তার বাবা আমজাদ হোসেন বেঁচে নেই। মা আনোয়ারা বেগম মেসের রাঁধুনি হিসেবে কাজ করেন। সুলতানাও বস্তির স্কুলে পড়ে। তার বাবা লিয়াকত মিয়া ও মা নাসিমা বেগম। অপর আহত সাদিয়া ঝালকাঠি সদরের মানপাইশা এলাকায় মা রিনা বেগমের সঙ্গে থাকে। সেখানকার একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে সাদিয়া। সাদিয়ার বাবা নয়ন ইসলামবাগের একটি প্লাস্টিক কারখানার কর্মচারী। সাদিয়া তার বাবার কাছে এসেছিল। চকবাজার থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, ককটেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল।
