লালবাগ সাত খুন মামলার রায় প্রদান চলছে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২২:০০
রাজধানীর লালবাগে চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডার মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করছেন। আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। রবিবার থেকে এ মামলার রায় প্রদান শুরু হয়। চারদিন ধরে রায় প্রদান চলছে। লালবাগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কমিশনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯৪ সালে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিশনার নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ুন কবির। বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা পরদিন বিজয় মিছিল বের করে। লালবাগের নবাবগঞ্জ রোডের ওপর মিছিলে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আজিজ মিয়ার সমর্থকরা হামলা করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় ছয় জন। এছাড়া চিকিত্সাধীন অবস্থায় ঘটনার ২/৩ মাস পর মৃত্যুবরণ করে আরো একজন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওইদিন পরাজিত প্রার্থী আব্দুল আজিজসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন হুমায়ুন কবির। পরে মামলাটি তদন্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে ২০০৮ সালের ৭ মে ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল আসামি আব্দুস সালাম ওরফে মতি এবং জাহিদ হাসান ওরফে নাটকা বাবুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়া আব্দুল আলিম ওরফে শাহীন, মুনির পাটোয়ারী, মাহতাব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে আন্ডা, আমির হোসেন আমির, দিল মো. মতি, কানু ওরফে কাইল্যা, মোজাম্মেল ও মুন্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আব্দুল আজিজকে দশ বছর দণ্ড দেয়। বাকি আট আসামিকে খালাস দেয় আদালত। বিচার চলাকালে আব্দুল মজিদ ওরফে চামু মৃত্যুবরণ করেন। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য তা ডেথ রেফারেন্স আকারে এবং পলাতক দুই আসামি ছাড়া সকলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। চলতি মাসে এই আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে রায় প্রদান শুরু করে হাইকোর্ট। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ শুনানি করেন।