ছদাক্বাতুল ফিত্র হল ছিয়ামের যাকাত। ছিয়ামের পরিশুদ্ধতা ও বিশুদ্ধতার বা ত্রুটি মুক্ত করার কাফ্ফারা বা মাধ্যম হল এই ছদাক্বাতুল ফিত্র। ইহা মুসলিম নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, স্বাধীন-কৃতদাস ও অধিনস্ত সকলের ওপর আমাদের প্রিয়নাবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) ওয়াজিব করেছেন। ফিত্রা ঈদের মাঠে গমনের পূর্বেই আদায় করা জরুরি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রসূল (স.) প্রত্যেক মুসলিম স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ, মহিলা, ছোট, বড় সকলের উপর এক ‘ছা’ খেজুর বা যব, পনির অথবা কিসমিস ছদাক্বাতুল ফিত্র আদায় করা ওয়াজিব করেছেন। সহীহুল বুখারী ১০৩৫; সহীহুল মুসলিম ২৩২৬;। মহানাবী (স.)-এর জালীলুল ক্বদর সাহাবী হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল (স.)-এর যুগে ঈদের দিন এক ‘ছা’ (আড়াই কেজি) পরিমাণ খাদ্য দ্রব্য ছদাক্বাতুল ফিত্র হিসেবে আদায় করতাম। ঈদের এক দুইদিন পূর্বেও ফিত্রা আদায় করা যায়। ঈদের দিন সকালবেলাও যদি কোন মুসলিম ঘরে নবজাতক শিশু সন্তান জন্মগ্রহণ করে তাহলে তারও ফিত্রা আদায় করতে হবে। ছদাক্বাতুল ফিত্র বন্টনের খাত আর যাকাতের বন্টন খাত একই (সূরা-তাওবা ৬০)। আটশ্রেণির লোক এই সম্পদ পাবেন যথা: ফকীর ও মিসকিনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য। ছদাক্বাতুল ফিত্র ঠিক-ঠিক কাঁটায়-কাঁটায় আদায় করার মাধ্যমে রমযানে কৃত ভুল-ত্রুটিকে কাফ্ফারা হিসেবে ক্ববুল করা হয়। ঈদের মাঠই ক্ষমার মাঠ। রসূলুল্লাহ (স.) ঈদুল ফিতরের দিন সকাল বেলা বেজোড় খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতেন ও তা পাঠ করতে নির্দেশ দিতেন। আল্লাহর নবী (স.) বলেছেন, একবার তাকবীর পাঠ করা, সমস্ত দুনিয়া ও এর ভিতরে থাকা সম্পদ (বিক্রয় করলে যা মূল্য হবে ) তার চাইতে বহুগুণে বেশী সম্পদ দান করার সাওয়াব হবে। (বুখারী শরীফ) তাকবীরে তাশরীক:আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু,আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার,ওয়ালিল্লা-হিল হাম্দ। সাহাবায়ে কেরামগণ এ তাকবীর নিজ নিজ ঘর থেকে উচ্চস্বরে পাঠ করতে করতে ঈদের মাঠে যেতেন ও এই দিনের দয়া ও ক্ষমার আশা করতেন। ক্ষমা যদি না হয় এ আশঙ্কায় তাঁরা কাঁদতেন। ঈদের মাঠে যেয়ে রসূলুল্লাহ (স.) সর্বপ্রথম পূরুষ-মহিলা সকলকে নিয়ে জামা‘আত সহকারে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে, পরে খুত্বা পাঠ করতেন ও দূ‘আ করতেন। তিনি উম্মে আত্বীয়া (রা.)-কে মহিলাদের ঈদের মাঠে সমাবেত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন। যারা কুমারী অথবা হায়েয ও নিফসের কারণে অপবিত্রা মহিলা তাদেরকেও ঘর থেকে বের করার আদেশ করতেন। কারণ তারা যেন দয়া ও ক্ষমা থেকে মাহ্রুম (বঞ্চিত) না হয়। তারা সালাত আদায় করবে না কিন্তু দূ‘আয় শরীক হবে। এই মাঠকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্বকরে বলেন, আমার এই বান্দারা কী চায়। ফেরেশতারা বলেন, তারা ক্ষমা চায়। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তখন কসম করে বলেন, আমার ইজ্জতের কসম, আমার জালাল ও কারামের কসম যারা আমাকে না দেখে ভয় করে ও ক্ষমা চায় আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। ঈদের মাঠে এক পথে যাওয়া ও অন্য পথে আসা সুন্নাত। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করা, তবে মহিলারা সুগন্ধি ব্যবহার করবে না তাদের জন্য নিষেধ। তারা পূর্ণ পর্দাসহকারে ঈদের মাঠে যাবে ও পর্দাসহকারে তাদের ব্যবস্থা করতে হবে।
