আল্লাহর সৃষ্ট দুনিয়ায় তাঁর প্রদত্ত নেয়ামতসমূহ আহরণের জন্য মানুষ শারীরিক ও মানষিকভাবে পরিশ্রম করে থাকে। শ্রমজীবি মানুষ শ্রমের এবং কর্মজীবি মানুষ মেধার ও কর্মের বিনিময়ে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকে। বারটি মাস সকল প্রকার প্রশ্নের উর্দ্ধে থেকে কর্ম পরিচালনা করলে সে বা তিনি এই কর্মের বিনিময়ে ১৪ মাসের (বোনাস হিসেবে) ২ মাসের অতিরিক্ত বেতনভাতাদি পেয়ে থাকেন। স্বশাষিত বা মুনাফাভোগী কিছু প্রতিষ্ঠান ২ থেকে সর্বোচ্চ ৬টি বোনাস প্রদান করে থাকে বলে জানা যায়। এই অতিরিক্ত ২টি বোনাস পেতে শ্রম ও কর্মজীবি মানুষকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অবতীর্ণ হতেও দেখা যায়। প্রাণহানীর ঘটনাও অনেক ক্ষেত্রে ঘটেছে। অথচ যে স্রষ্টা এ ভূ মন্ডলের মালিক তিনি যে কত মহান তা কোরআন পাকে অসংখ্য বার বর্ণিত হয়েছে। তিনি সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে মানুষের রুজি, হায়াত বৃদ্ধি, অসংখ্য নেয়ামত এবং ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুত দিন ও রাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে কদরের মহিমান্বিত রাত। এই একটি রাতের ইবাদতের বোনাস এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে বেশি নেক আমল। কোন কোন মানুষ আছেন যাকে আল্লাহতায়ালা ৮৩ বছর আয়ূ দেননি অথচ তাদের কেউ কেউ এই একটি রাতের ইবাদত করে বেঁচে থাকার চেয়ে বেশী দিনের অজস্র নেয়ামত লাভ করতে পারেন। মানবজাতির মধ্যে কারোই হেলায় এ সুযোগ হারানো উচিত নয়। আছে কতক মানুষ নগদে বিশ্বাসী, বিশ্বাসী তাত্ক্ষনিক ভোগ বিলাসে। আখেরাত বা কেয়ামত দিবসে বিশ্বাসী হলে আসুন ! আমরা এ সুবর্ন সুযোগ আনন্দে লুফে নেই। এ বোনাসে রয়েছে অনন্তকালের শান্তি -প্রশান্তি, সুখ সমৃদ্ধি যা কোনদিনই কমবে না। সেদিন চলমান রয়েছে ২৯ রমযান পর্যন্ত। কোরআনুল করীমের সূরা কদরের তৃতীয় আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষনা করেছেন “লাইলাতুল কদরের রাত হাজারো মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ” অর্থাত্ এই একটি রাতে যে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করবে সে বোনাস হিসেবে এক হাজার মাসের ইবাদত করেছেন এবং এই এক হাজার মাসের নেক তার আমলনামায় লেখা হবে। শুধু তাই নয় আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাকূল ও রূহ সুবহে সাদিক পর্যন্ত যিকিরকারী বান্দাদের ওপর পরম করুণাময় আল্লাহপাকের রহমত কামনা করতে থাকেন। সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত পাপ-পূণ্য নিক্তিতে মাপা হবে। এক পাল্লায় রাখা হবে পূণ্য আরেক পাল্লায় রাখা হবে পাপ। পাপের পাল্লার চেয়ে পুণ্যের পাল্লা এক সরিষা পরিমাণ ঝুঁকে গেলে তিনি হয়ে যাবেন ভাগ্যবান। বেহেশত হবে তার আবাসস্থল। কাজেই এ মহিমান্বিত রজনীর ইবাদতের ফজিলতের আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। কোরআন নাযিলের মাস রমযান মাসের মধ্যে এই দিনটি নিহিত আর সেই দিনটি অর্থাত্ যেদিন কুরআন নাযিল হয়েছে। সে দিনটি হচ্ছে কদরের রাত। এই রাতটি রমযান মাসের শেষ দশকের যে কোন একদিন। বিশ্বমানবের মুক্তিদাতা আল্লাহর হাবীব মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন” তোমরা রমযান মাসের শেষ দশকের বেজোড় দিনগুলোর রাতে কদরের রাত খোঁজ। এতে পরিষ্কার যে, ২১, ২৩, ২৫, ২৭ অথবা ২৯ রমযানের যে কোন একটি রাতে কদরের রাত নিহিত। এই পাঁচ দিন ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল আল্লাহর একত্ববাদে, ফেরেশতাকূলে, নবীকূলে, আসমানী কিতাব সমূহে আখেরাত দিবসের ওপর বিশ্বাসী বান্দারা হাজার মাসের / ত্রিশ হাজার দিন রাত্রীর ইবাদত করার সমপরিমাণ নেক আমল তার আমলনামাতে প্রাপ্য হবেন। যিনি ইতেকাফে বসেছেন তিনিতো অবধারিতভাবে এ রাত্রির সকল রহমত, বরকত, মাগফেরাত পেয়েছেন তা অবধারিত। আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং এর ওপর বিশ্বাস রাখাও ঈমানের অঙ্গ। “আর রহমানুর রহীম” আল্লাহ অশেষ মেহেরবান ও দয়ালু । সূরা আল ইমরানের ২৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে “তিনি যাকে ইচ্ছে অপরিমিত জীবনোপকরণ দান করে থাকেন” অর্থাত্ তাঁর প্রাচুর্যের ভান্ডারে কোন সীমা পরিসীমা নেই। কাউকে কোন কিছু দিতে কারো কাছে তাঁর কোন হিসাব দিতে হয় না। কারণ তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন এবং তাঁর সমতূল্য ও সমকক্ষ আর কেহ নেই। সূরা এখলাসে তিনি তাঁর স্বরূপ এভাবেই বর্ণনা করেছেন। কাজেই রহমতের ভান্ডার থেকে তিনি তার শুকর গোজারকারী বান্দাদেরকে তার ইচ্ছামত দান করবেন এটাই তার ওয়াদা। আমাদের সদা সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, গজবের (অসন্তুষ্টির) চেয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমত অনেকগুন বেশী। যার একটি উজ্জল প্রমান হচ্ছে তিনি ৮ টি বেহেশত বানিয়েছেন অথচ দোযখ হচ্ছে ৭ টি। কোরআন মজীদে বিভিন্ন নবীদের কওমের বর্ণনা দৃষ্টে দেখা যায় যে, তিনি সহসা কোন কওমের ওপর হঠাত্ গজব নাযিল করেন নি। তিনি বারবার তাদের সতর্ক করেছেন এবং সত্য ন্যায়ের পথে ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন। যখন কোন কওম সীমা লং্ঘন করেছে কেবল তখনই তাদের ওপর আযাব চাপিয়েছেন। কোন কোন কওমকে মৃত্যুর স্বাদ পান করিয়ে পুনরায় জীবন দান করেও সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন তাঁর প্রেরিত নবী রসূলদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দ্বীনের পথে চলতে।
