ভারতের তেলেঙ্গানা প্রদেশে ট্রেনের ধাক্কায় একটি স্কুলবাসের কমপক্ষে ২৫ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার সকালে মেদাক জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বাসটি মেদাক থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হায়দ্রাবাদের কাকতিয়া স্কুলে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মাসাইপেত গ্রামে একটি লাইনম্যানবিহীন রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
মাসাইপেত গ্রামের অধিবাসীরা অভিযোগ করেন, লাইনম্যানবিহীন রেললাইনের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, সেখানে দীর্ঘদিন কোন লাইনম্যান নেই। আর এ কারণে এখানে রেল দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। গ্রামবাসী জানান, ইসলামপুর এবং জাকিরপালি গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা ওইদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসে উঠে। পথিমধ্যে ওই রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসী আরো জানান, লাইনম্যান না থাকার বিষয়ে বারবার রেল কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। তারা এ দুর্ঘটনার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেন। অবশ্য অনেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, এর জন্য বাস ড্রাইভারের খামখেয়ালিপনাই দায়ী। তারা বলেন, ট্রেন লাইন থাকা সত্ত্বেও চালক সেসময়ে দ্রুতগতিতে বাসটি চালিয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অপরদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাস ড্রাইভার যে ট্রেনটি আসছিল তা তিনি দেখেননি। চোখের নিমিষেই এ ঘটনা ঘটে যায়। তারা বলেন, কি ঘটে গেল তা বুঝার আগেই যেন সব শেষ হয়ে গেল। আমরা শুধু শিশুদের খণ্ড-বিখণ্ড মাংসের টুকরা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলাম না।
নিহত হওয়া এক শিশুর মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, মাত্র ১০ মিনিট আগে তিনি তার সন্তানকে স্কুলবাসে উঠিয়ে দিলেন। আর সেটাই ছিল তার সন্তানের সঙ্গে শেষ দেখা। এদিকে এ দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তারা ওই ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইদু এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে এর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
