যে প্রাথমিক দল নিয়ে অনুশীলন শুরু হয়েছিল, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণায় তেমন কোনো চমক দেয়ার সুযোগ ছিল না। সে চমকের পথে হাঁটেনওনি নির্বাচকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে সিরিজের জন্য গতকাল একরকম প্রত্যাশিত দলই ঘোষণা করেছেন তারা। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে খেলা স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান। এছাড়া নিষিদ্ধ থাকায় জায়গা হয়নি সাকিব আল হাসানের। তাদের বদলে দলে ফিরেছেন পেসার রুবেল হোসেন ও ইমরুল কায়েস।
রুবেল ও ইমরুলের অন্তর্ভুক্তির ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দলে আলোচ্য বিষয় হতে পারে চারজন করে ওপেনার ও পেস বোলারের উপস্থিতি। তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সামসুর রহমান শুভর সঙ্গে যোগ হলেন ইমরুল। ওদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজা, আল আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যোগ হলেন রুবেল হোসেন।
ফরহাদ রেজা, জিয়াউর রহমান আগে থেকেই প্রাথমিক স্কোয়াডে ছিলেন না। পেস বোলিং অলরাউন্ডার নেয়ার একমাত্র অপশন ছিলেন মুক্তার আলী। তাকে না নেয়ার ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের ব্যাখ্যা খুব পরিষ্কার, ‘আমরা আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেই চারজন জেনুইন পেসার নিয়েছি। এটা ঠিক যে, এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে আগের মতো পেস ও বাউন্সি উইকেট খুব একটা নেই। তবে ওরা প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলেই এমন উইকেটে ম্যাচ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের চেয়ে জেনুইন পেসার বেশি দরকার হবে।’
আবার আরেকটা সুযোগ ছিল মাহমুদউল্লাহ অথবা সোহাগ গাজীকে বাইরে রেখে একজন বাড়তি পেস বোলিং অলরাউন্ডার নেয়া। কিন্তু সাকিবের অনুপস্থিতি এক্ষেত্রে নির্বাচকদের অপশন কমিয়ে দিয়েছে বলেই বলছিলেন প্রধান নির্বাচক, ‘সাকিব নেই বলেই আমাদের সোহাগ, রাজ্জাক, রিয়াদ তিনজনকেই রাখতে হয়েছে। রিয়াদ বা সোহাগ ব্যাটিংয়েও কিছু কন্ট্রিবিউট করতে পারবে। বিশেষ করে একেবারে ঘাস নেই এমন উইকেটে খেলা হলে ওদের দরকার হবে। ফলে এখানেও কাটছাঁট করার উপায় ছিল না।’
এই কন্ডিশনের কারণেই অনেকটা নিরাপদ ব্যাটিং লাইনআপ করার সুযোগ করে দিতে দলে চারজন ওপেনার রাখা হয়েছে বলে বললেন ফারুক। নতুন বল খেলতে পারেন, এরকম ব্যাটসম্যান বেশি রাখাটা তাদের ইচ্ছে ছিল বলেই বললেন তিনি, ‘ওখানে প্রতিপক্ষ নতুন বলে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। আমরা আসলে ওপেনার হিসেবে না ভেবে টপ থ্রি-তে কজন রাখছি, সেটা ভেবেছি। এই টপ থ্রিতে নতুন বল খেলায় দক্ষ বেশি খেলোয়াড় রাখতে চেয়েছি আমরা।’
এদিকে দলের অন্য একটি সূত্র জানালো, একটু পেস সহায়ক উইকেটগুলোতে বাংলাদেশ প্রথম তিনটি পজেশনেই ওপেনারদের পাঠিয়ে দিতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে দল
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল খান, এনামুল হক বিজয়, সামসুর রহমান, মুমিনুল হক, রুবেল হোসেন, নাসির হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, আব্দুর রাজ্জাক, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সোহাগ গাজী, তাসকিন আহমেদ, ইমরুল কায়েস, আল আমিন হোসেন।
