সত্যিকারের ট্রফি চাই

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২৩
ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। মুখে ভুবনভোলানো হাসি। ফটোসাংবাদিকরা একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের যেকোন ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য স্বপ্নের একটা মুহূর্ত। কিন্তু, এই ট্রফিতে যে বাংলাদেশের কোন অধিকার নেই! ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি এখন বাংলাদেশে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ট্রফি হস্তান্তর করেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ঢাকায় আনুষ্ঠানিক যাত্রাটা শুরু হয় গণভবন থেকেই। ঈদে ব্যস্ততার মাঝেও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ট্রফি প্রদর্শন করা হয়। মিরপুরে থাকতেই ট্রফি হাতে ছবি তোলার জন্য দাঁড়ান মুশফিক। আর একদিন এই ট্রফি জয়ের স্বপ্নের কথাও জানালেন এই অধিনায়ক, ‘অনুভূতি অন্যরকম। এই প্রথম কাছ থেকে দেখলাম এবং স্পর্শ করলাম ট্রফিটা। সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এতবড় একটা কাপ। মর্যাদার প্রতীক। সত্যিই দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। ট্রফিটা আসলেই আমাদের হলে ভাল লাগতো। আশা করি, কোনো এক সময় বাংলাদেশ এই কাপটা ছুঁতে পারবে। স্বপ্ন দেখি কোন একদিন সত্যি ট্রফিটা আমাদের হয়ে যাবে। আমি সেটা স্বপ্ন দেখি এবং লালন করি। আমাদের প্রজন্মেই সেটা চেষ্টা করছি। অন্তত মরার আগে একবারও দেখতে চাই।’ দুটি বিশ্বকাপ খেলা হয়ে গেছে মুশফিকুর রহিমের। ২০০৭ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ এবং ২০১১ বিশ্বকাপে খেলেছেন উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ২০০৭ সালে টাইগারদের নেতৃত্বে ছিলেন হাবিবুল বাশার এবং ২০১১ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসান। সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে আগামী বছরের বিশ্বকাপে তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে যাবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। শুধু মুশফিকই নন, বাংলাদেশে আগত ট্রফির সান্নিধ্য পেয়েছেন বাংলাদেশের আরও কয়েকজন ক্রিকেটার। ছিলেন মার্শাল আইয়্যুব, শামসুর রহমান শুভ ও তাসকিন আহমেদ তাজিম। দুপুরের পর ট্রফি দেখতে এসেছিলেন এই কয়েকজন ক্রিকেটার। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তাসকিন বলেন, ‘বিশ্বকাপ ট্রফিটা সামনে থেকে দেখছি। অনেক ভালো লাগছে। আশাও জাগছে, একদিন আমরাও এই ট্রফি বিজয়ী হব। একদিন এই ট্রফির মধ্যে আমাদের বাংলাদেশেরও নাম থাকবে। আশা করছি, ওই দিনটা খুব বেশি দূরে নাই।’ কিন্তু অপেক্ষার প্রহর থামবে কবে? ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশ খেলছে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরে। এরপর থেকে টানা চারটি বিশ্বকাপেই দেখা গেছে বাংলাদেশকে। কিন্তু ট্রফি জয় তো অনেক দূরের পথ। আর আগামী বিশ্বকাপে অপরিচিত কন্ডিশনকে মাথায় রেখে খুব একটা স্বপ্ন দেখারও সুযোগ নেই বাংলাদেশের সামনে। যদিও ক্রিকেটে সব কিছুই সম্ভব বলে মনে করছেন পেসার তাসকিন। ডানহাতি এই পেসারের এই প্রসঙ্গে মন্তব্য, ‘অসম্ভব বলতে কিছু নেই। আমাদের মধ্যে সবারই ভালো খেলার আকাঙ্ক্ষা আছে। আল্লাহ যদি চান এবং আমরা যদি আমাদের সেরা খেলা খেলতে পারি, তাহলে সব সম্ভব।’ শুধু ক্রিকেটাররাই না, ট্রফিটিকে ঘিরে উত্সাহের কমতি ছিল না সাধারণ মানুষের মধ্যেও। সমর্থকদের এতো আগ্রহের ব্যাপারটা ক্রিকেটারদেরও অজানা নয়। তারাও চান সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ পূরণ করতে। ওপেনার শামসুর রহমান শুভ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা রেখে সবাই ট্রফি দেখছে। ট্রফি দেখার উত্সব দেখলেই বোঝা যায়, তারা ক্রিকেটকে কতটা ভালোবাসে। আমরা চেষ্টা করব, এই ক্রিকেটভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে। ধন্যবাদ তাদের, যারা আমাদের খারাপ ও ভালো সময়ে পাশে থাকেন।’ প্রায় একই রকম কথা বললেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুবও, ‘বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট পছন্দ করে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখে বেশ ভালো লাগছে। বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের সুযোগ ও সম্ভাবনা আছে। আমাদের ভালো ক্রিকেটার আছে। একটু চেষ্টা করলেই পারব। আশা করি, তাদের ভরসার প্রতিদান দিতে পারবো।’ তবে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য যে বাংলাদেশের এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে সেটা ক্রিকেটারদেরও অজানা নয়। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও মানছেন এই বাস্তবতা। তবে এই অসম্ভবকে জয় করারই প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তিনি, ‘সবাই আসলে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবে। আমরাও ভাবি। আমাদের সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। অনেক পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। কাজটা অবশ্যই কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।’