সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের (এসএলসি) এই উইকেটটাকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। এই উইকেটেই আট বছর আগে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের জুটিটি গড়েছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে-কুমার সাঙ্গাকারা। ১৬৫ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলে এই টেস্টেই উইকেটের সেই ব্যাটিংবান্ধব পরিচয়টা নতুন করে প্রমাণ করেছেন জয়াবর্ধনে। তবে দ্বিতীয় দিনের শেষ দুই সেশনে লঙ্কান স্পিনারদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের যেভাবে নাভিশ্বাস উঠলো তাতে মনে হতে পারে এসএলসির উইকেটের চরিত্র বদলে গেল কিনা!
জয়াবর্ধনের সেঞ্চুরি আর অভিষিক্ত উইকেট রক্ষক নিরোশান ডিকওয়ালার অর্ধ শতকে প্রথম ইনিংসে ৪২১ রান করার পর, স্পিনারদের সৌজন্যে প্রতিপক্ষের প্রথম তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে সফরকারীরা শেষ সাতটি উইকেট হাতে নিয়ে এখনো পিছিয়ে আছে ৩২৩ রানে। উইকেটে আছেন দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা এবং এবি ডি ভিলিয়ার্স। আগের দিন লঙ্কান ব্যাটিংয়ের নেতৃত্ব দেয়া জয়াবর্ধনে থামেন আগের দিনের সাথে মাত্র ২৫ রান যোগ করার পরেই। তবে অভিষিক্ত ডিকওয়ালার সৌজন্যে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের। আগের দিনের ৩০৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা লঙ্কানরা শেষ পাঁচ উইকেটের বিনিময়ে তুলে নেয় আরো ১১৬ রান। যার অধিকাংশই আসে ডিকওয়ালার ব্যাট থেকে। তিনি করেন ৭২ রান। চা বিরতির ঠিক আগে প্রতিপক্ষকে অল আউট করে দেয়া প্রোটিয়ারা যদি কোন আশা করেও থাকে ব্যাটিংয়ে নামার প্রায় সাথে সাথেই তাদের আশা মিইয়ে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই সাফল্য পান রঙ্গনা হেরাথ। বাঁহাতি এই স্পিনার ফিরিয়ে দেন ওপেনার ডিন এলগারকে। খানিক বাদে আঘাত হানেন আরেক স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা। এই অফস্পিনার তুলে নেন আরেক ওপেনার অলিভারো পিটারসেনকে। এরপর তৃতীয় উইকেটে ফ্যাফ ডু প্লেসিসকে নিয়ে আমলা বেশ কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সুরাঙ্গা লাকমলের আঘাতে ভাঙ্গে এই জুটি। দারুণ এক আউটসু্ইঙ্গারে এই পেসার ফিরিয়ে দেন ডু প্লেসিসকে।
এরপর ডি ভিলিয়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে বাকি সময়টা নিরাপদেই পাড় করেন আমলা। দিনশেষে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ব্যাট করছিলেন ৪৬ রান নিয়ে। আর ডি ভিলিয়ার্স অপরাজিত ছিলেন ১১ রানে।
প্রথম টেস্টে হেরে যাওয়ায় সিরিজ বাঁচাতে এই টেস্ট জয়ের বিকল্প নেই লঙ্কানদের।—ক্রিকইনফো
