প্রতিবারই ঈদের ছুটিতে সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কারণ এমনিতে চাহিদার তুলনায় চিকিত্সক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল সীমিত। তার মধ্যে ঈদ উপলক্ষে ছুটিতে থাকেন ডাক্তারদের একটি বড় অংশ। আবার কর্মরতদের মধ্যেও একটি অংশ নানা কারণ দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বরাবর। ফলে ঈদের তিন দিনের (বা চার দিনের) ছুটিতে জরুরি চিকিত্সা পেতে হাসপাতালে এসে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এবারো একই আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক বলেছেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ সারাদেশে জরুরি বিভাগ বরাবরের মত চালু থাকবে। এছাড়া জরুরি ও জটিল চিকিত্সার ক্ষেত্রে কোন ধরনের অবহেলা যেন না ঘটে সেজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ব্যবস্থা (কর্মরতদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান) নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের পরদিন থেকেই বহির্বিভাগ খোলা রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর সরকারি হাসপাতালসমূহে কর্মরতদের একটি বড় অংশ দলীয় আর্শীবাদপুষ্ট ও মোটা অংকের উেকাচের বিনিময়ে বদলি হয়ে আসা চিকিত্সক। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা (অধ্যাপক) সকালে এক ফাঁকে এসে কেউ রাউন্ড দেন, কেউ মিটিং বা ক্লাসের কথা বলে চলে যান। অধিকাংশ চিকিত্সকই আর সেদিন হাসপাতালে আসেন না। ফলে আরপি, আরএস, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে হাসপাতালের চিকিত্সাসেবা। বেলা ২টার পর থেকে পর দিন ভোর পর্যন্ত জুনিয়র আর ইন্টার্নি চিকিত্সকরাই দায়িত্ব পালন করেন।
আর ঢাকার বাইরে জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে সিংহভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকই অনুপস্থিত থাকেন। তাদের অনেকে মাসের বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকেন। সপ্তাহে ২/৩ দিন কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিত্সকদের ৮০ থেকে ৯০ ভাগই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এ অবস্থায় ঈদের ছুটিতে জরুরি চিকিত্সা সেবার পরিণতি নিয়ে শংকিত খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।
এদিকে দেশের সর্ববৃহত্ চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঈদের ছুটিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। সেখানে অন্য ধর্মের ১৩০ জন ডাক্তার ও ১৯০ জন নার্স অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে জরুরি চিকিত্সাসেবা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগ সবসময় খোলা থাকবে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জরুরি ও জটিল চিকিত্সার দায়িত্ব পালন করবেন। সম্প্রতি এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে।
