দুই বলিউড সুন্দরীর সাথে কয়েক ঘণ্টা!

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৬
কান উত্সবে যেদিন মল্লিকা শেরাওয়াতের সাথে দেখা সেদিন কান ফেস্টে খুব একটা ভিড়ভাট্টা নেই। বলিউড সিনেমার শোডাউন সেদিনও খুব একটা জমে ওঠেনি। আমি ফ্রান্সে দীর্ঘদিন থাকা এ দেশের সেকেন্ড সিটিজেনশিপ পাওয়ায় এখানকার মানুষের অনেকের সাথেই দারুণ শখ্যতা। সেই সুবাদে ফ্রান্সের এক ডকু নির্মাতা মল্লিকার সামনে নিয়ে গেলেন। প্রথমেই হ্যান্ড শেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন মল্লিকা। এরপর বেশ কপট ব্যস্ততা দেখিয়ে উঠে গেলেন। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না ভর দুপুরে মল্লিকার এখানে কিসের ব্যস্ততা। সামনেই ছোট্ট একটা দোকান ঘরের মতো করে বলিউডি ফিল্ম ক্যাম্পেইন চলছে। সেখানেও আমার পরিচিত জন। কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলাম মল্লিকার এখন কিসের ব্যস্ততা? একগাল হেসে বলিউড কর্মী বললেন, ‘বুঝলেন না, খেয়ে দেয়ে তো কোনো কাজ নেই। এখানে লবিতেই এসেছেন উনি। আপনার সাথে খোশগল্প করলে তো আর দাম দেবেন না আপনি। আপনি এখানটায় বসুন। আপনার প্রোফাইলটা একটু ম্যাডামকে জানিয়ে আসি।’ বলেই হো হো করে দুজনে হেসে উঠলাম। অবাক করার মতো হলেও সত্যি যে মাত্র মিনিট দশেকের ভেতরে প্লট পরিবর্তন। মল্লিকা নিজে এসে আমার সাথে সেলফি তুললো। আমিও তুললাম। এরপর বাংলাদেশি সিনেমা নিয়ে জানতে চাইলো। আমার বলিউডের বন্ধুটি কী জাদুমন্ত্র করে দিল বুঝে উঠতে পারলাম না! এরপর একসাথে কফি খেয়ে সত্যিকার অর্থেই এই আবেদনময়ী সুন্দরী ব্যস্ত হয়ে গেল বিদেশি ডিরেক্টরদের নিয়ে। আমার কন্টাক্ট ইমেইল আর এফবি আইড সবই নিলো। যে কোনো কাজের অফার থাকলে জানাতে বললেন। এর ক’দিন বাদে কান সেজেছে তখন তার সেরা আয়োজন নিয়ে। একদিনে যুদ্ধযান নিয়ে আমেরিকান ছবির মহড়া অন্যদিকে ইউরোপিয়ান সুন্দরীদের ডাউন। এদিকে দুই মহা সুন্দরী রেড কার্পেটে পড়ে গেলেণ। পাশ থেকে এক রাশিয়ান সাংবাদিক আমাকে কানে কানে বললেন, ‘আরে ধুর এসব ওদের অভিনয়। পড়লেই তো রেড কার্পেটে হিট। নয়তো ওকে নিয়ে আলোচনা করবে কে। আমারও ইচ্ছে হলো হুট করে ঠুনকো সিকিউরিটির দড়ি টপকে অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে জাপটে ধরি। তত্ক্ষণাত্ সারাবিশ্বে আমি হিট হয়ে যাবো। অবশ্য নিজের দেশের কথা ভেবে এই বদ ইচ্ছে থেকে বিরত থাকলাম। কিন্তু ঐশ্বরিয়া এসেই মাত করে দিলেন। আলসেমিতে এদিক সেদিক ঘোরা ফটোগ্রাফাররা তাক লাগিয়ে তুললেন অ্যাশের ন্যানো সেকেন্ডের মুহূর্তগুলো। আমি শো ডাউন শেষে বলিউড কর্নারে অ্যাশের সাথে দেখা করতে গেলাম। প্রথম পরিচয় দিতেই মিষ্টি করে হেসে অনর্গল কথা বলতে লাগলেন। না অ্যাশের কোনো তাড়া নেই মল্লিকার মতো। বুঝলাম আসলেই ফাঁকা কলসী বাজে বেশি। কিছুক্ষণের মধ্যে আয়োজকরা অ্যাশকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন ‘রাতে কথা হবে। ছবি দেখতে আসুন।’ আমি সেই মুগ্ধতা নিয়েই পড়ে থাকলাম।