গামছা গপ্পো

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৭
আমি যখন ১৯৯২ থেকে মাথায় গামছা বাঁধা শুরু করলাম, অনেকেই বিষ্মিত বা বিরক্তির সহকারে প্রশ্ন করতো ‘কেন ওই জিনিসটা মাথায় পড়ো?’ আমার কোনো যুক্তি, উত্তর মনে হয় না কারো কাছে কখনোই কোনো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলো। আমার ‘রিকশা চালক মানসিকতা’, ‘ভন্ড বাউল’, ‘ফেশন স্টেটমেন্ট’ সহ ‘ছোটলোক’, ‘তার ছেড়া’ বা ‘পাগল হয়ে গেছে কমপ্লিটলি’—এমন সব কর্ণকটু কথাবার্তাও কম হজম করতে হয়নি। নিজের ইচ্ছায় গামছা পরি—আমার এই সদিচ্ছাটাও বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ কম হয়নি! ০২. জীবনে এই প্রথমবার কেউ আমাকে অনেকটা ধমক সুরে জিজ্ঞাস করল, ‘মাকসুদ তোমার মাথায় গামছাটা নেই কেন?’ মাথায় গামছা নেই তাই এই ‘ধরা’! খুবই বিব্রত বোধ করলাম দুটি কারণে। একটা চিত্রকলা প্রদর্শনীতে মাত্র পা রেখেছি, এবং তার অফিস কক্ষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বসে আছেন। দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তা নিজেও কম নন। কিংবদন্তি লেখক, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী ও ‘খেলারাম খেলে যা’ খ্যাত সৈয়দ শামসুল হক! বললাম, ‘হক ভাই গামছাটা কয়েকটা দিন ক্ষ্যান্ত দিচ্ছি কারণ বাঁধতে বাঁধতে মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে !’ ০৩. উনার সাথে হবে প্রথম দেখা, তাই একখানা গামছা সাথে নিয়ে গেলাম উপহার হিসেবে। আফটার অল বাউলদের নিয়ে আমরা কাজ করছি, এবং উনি তামাম কুষ্টিয়া জেলার বাদশাহ, সো একটা অত্যন্ত সাধারণ গামছা ভক্তিপূর্ণ ‘আদরিনী’ স্বরূপ প্রদান করা সাধু কর্মের একটি অন্যতম দিক। কিন্তু ডিসি মহোদয় আমার গামছা দেখা মাত্রই মনে হয় একটু খেপে উঠলেন। আমাকে ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে বললেন, ‘আই অ্যাম সো সরি, আমি গামছাটা গ্রহণ করতে পারছি না, কারণ এটা এখন এক রাজনৈতিক দলের সিম্বল।’ বুকের ভেতরে একটা মোচর অনুভব করলাম এবং চুপচাপ সযত্নে গামছাটা বেঁধে প্যাকেটে আবার ভরলাম। খুবই অবাক হয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। আসলেই, কাদের সিদ্দিকী সাহেব এই গামছাটা কিভাবে উনার নির্বাচনীয় প্রতীক করলেন, কি ভাবেই তা সরকার বা ইলেকশন কমিশন বরাদ্দ করলো—তা নিয়ে অনেকক্ষণ ভাবলাম—একটু পরাজিত বোধ করলাম বটে । গামছা নিয়ে এমন অনেক গপ্পোই আছে আমার। তবু গামছাই আমার সঙ্গী, চিরকাল, কখনও রঙিলা গামছা, কখনও বেরঙা গামছা। এই লেবাসের সাধে কেউ দয়া করে আমাকে রাজনৈতিক বিভক্তিকরণে ফেলবেন না প্লিজ।