প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি এগার মাসেও

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৩০
আজিমপুর গার্লস কলেজে বিক্ষোভ ঘুষের টাকা ফেরত্ দাবি রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুষ দেয়ার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা। অর্থ সংগ্রহ করেন কলেজের অধ্যক্ষ নিজেই। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কলেজটি সরকারি না হওয়ায় এবং সাত মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে শুক্রবার কলেজ প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষকরা। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করা হবে বলে কথা দেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এই ঘোষণা বাস্তবায়নে দেরী হওয়ায় এবং শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকেরা মিলে সরকারি দপ্তরে ঘুষ দিয়ে দ্রুত কাজ করিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ উদ্দেশ্যে তারা একটি তহবিল সংগ্রহ করেন। গত বছরের শেষ দিকে কলেজ শাখার শিক্ষকেরা ১৫ হাজার, স্কুল শাখার শিক্ষকরা ১০ হাজার এবং কর্মচারীরা ৫ হাজার টাকা করে দেন। প্রায় ১০০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেয়া এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু সাত মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় এবং চাকরি সরকারি হওয়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না দেখে ক্ষোভ দানা বাধে শিক্ষকদের মধ্যে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যান শিক্ষকেরা। তাঁরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডোরিন সুলতানার কাছে টাকা ফেরত চান। অধ্যক্ষ জমা নেওয়া টাকার একটি বড় অংশ তদবির করার কাজে (ঘুষ হিসেবে) খরচ হয়ে গেছে দাবি করেন। তিনি শিক্ষকদের জমা দেওয়া টাকার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফেরত দিতে সম্মত হন। কিন্তু শিক্ষকেরা পুরো অর্থ দাবি করেন। শুক্রবার সকালেও এ নিয়ে কলেজে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে খবর পেয়ে দুপুরে সেখানে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম। শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি দাবি করেন, তিনি একা কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের পরামর্শেই সেটা করেছেন। সব শুনে হাজি সেলিম শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষকে। পাশাপাশি তিনি অধ্যক্ষকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলেন। তবে অধ্যক্ষ দায়িত্ব ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডোরিন সুলতানা দাবি করেন, শিক্ষক এবং স্কুলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ম্যানেজিং কমিটি) সম্মিলিতভাবে ঘুষের এই টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এলাকার তখনকার সংসদ সদস্য মুস্তাফা জালাল মহিউদ্দিনও এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে মুস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। জানা যায়, সরকারি করার ঘোষণার পর এ বছরের শুরু থেকে স্কুলটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঐ স্কুলের বেতন ৩০০ টাকা ছিল। এখন সরকারি হিসেবে ওখানে বেতন কম নেওয়া শুরু হয়। বর্তমানে এখনকার বেতন প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১২ টাকা। শিক্ষার্থীদের বেতন কমিয়ে নেয়া শুরু হলেও ওখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে হিসেবে এখনো নিয়োগ পাননি। তারা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে বেতনের টাকা পাচ্ছেন। স্কুল ফান্ড থেকে আগে বেতন হিসেবে যে টাকা পেতেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নেওয়া বন্ধ করায় সাত মাস ধরে সেই টাকা তারা পাচ্ছেন না। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক।