সদ্য সমাপ্ত পেশাদার ফুটবল লিগটি প্রথমবারের মতো তিন পর্বে গড়ালেও দর্শক টানতে পারেনি। তবে তাতে হতাশ নন নিটল টাটা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী। বরং তিনি মনে করেন এভাবে যদি মাঠের খেলা সচল রাখা যায় তাহলে দর্শক আসবেই। তবে এজন্য ফুটবলারদেরও ভূমিকা রাখতে হবে বলে মত দেন তিনি।
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের শিরোপা পুনরুদ্ধার এবং আবাহনী লিমিটেডের রানার্স আপ হওয়ার মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার শেষ হলো পেশাদার লিগের সপ্তম আসরটি। তবে অতীতের আসরগুলোর সঙ্গে এর পার্থক্য ছিল, এবারই প্রথম তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে লিগ। এই একটি বাদে বাকি প্রায় সবক্ষেত্রেই বজায় ছিল অতীত ধারাবাহিকতাই।
বড় বাজেটের দল গড়া শেখ জামাল লিগের শুরু থেকেই দাপটে খেলে ২০১০-১১ মৌসুমের পর আবার শিরোপা তুলে নেয়। ২৭ খেলায় ১৯ জয় ও সাত ড্রয়ের সুবাদে ৬৪ পয়েন্ট পেয়ে এ কৃতিত্ব দেখায় তারা। তাদের একমাত্র হারটি ছিল তৃতীয় লেগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। মাঝখানে কলকাতায় অনুষ্ঠিত আইএফএ শিল্ডে দুর্দান্ত খেললেও সেখানকার রেফারির বৈরিতায় রানার্স আপ হয়। দেশে ফিরে দলটি কলকাতার মাঠের মতো নৈপুণ্য দেখাতে না পারলেও পেশাদার লিগ জিততে সমস্যা হয়নি।
আবাহনী লিমিটেড আগেরবারের তুলনায় এক ধাপ এগোয়। তুলনামূলক বিচারে শক্তিশালী দল না গড়েও এবং কোচ নিয়ে ঝামেলার মধ্যেও ২৭ খেলায় ৫২ পয়েন্ট পেয়ে রানার্স আপ হয় তারা। শেখ রাসেল গেলবার ‘ট্রেবল’ জিতলেও এ মৌসুমে চূড়ান্তভাবে হতাশ করে। শেষ পর্যন্ত দলটি লিগের শিরোপা ধরে রাখার পরিবর্তে ষষ্ঠ স্থানে গড়িয়ে যায়। এবছর তাদের পারফরম্যান্স চূড়ান্তভাবে হতাশ করেছে সমর্থকদের।
দেশীয় ফুটবলের দর্শক ধন্য দুই দল আবাহনী ও মোহামেডানই মূলত ঢাকার মাঠে দর্শক টানে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এদের দুর্দশায় দর্শকরাও মাঠ বিমুখ। এমনকি দল দুটির মধ্যকার ‘ডার্বি’তেও মাঠে যান না সমর্থকরা।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর লিগটি শুরুর পর সাড়ে সাত মাস লাগিয়ে তবেই শেষ হয় দেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এ প্রতিযোগিতা। প্রতিটি দলকে এবার ২৭টি করে ম্যাচ খেলতে হয়। যথারীতি এবারের লিগেও আধিপত্য দেখান বিদেশি ফুটবলাররাই। এমনকি শীর্ষ চার গোলদাতাও বিদেশি।
বিদেশি ফুটবলারদের দাপটের মধ্যে ক্রীড়ামোদীদের নজরে পড়েনি উল্লেখ করার মতো কোন তরুণ খেলোয়াড়কে। ব্যতিক্রম ছিলেন মোহামেডানের ওয়াহেদ আহমেদ ও শেখ রাসেলের মিঠুুন চৌধুরী। তারা স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে নৈপুণ্যের বিচারে এগিয়ে ছিলেন। ওয়াহেদ তো এবারের লিগে শীর্ষ নয় গোলদাতার মধ্যে একমাত্র স্থানীয় খেলোয়াড়। তিনি ১৫ গোল করেন।
লিগে নয় খেলোয়াড় ১৩টি হ্যাট্টিক করলেও তাতে স্থানীয় খেলোয়াড় কেবল দু’জন। এরা হলেন শেখ রাসেলের ফরোয়ার্ড মিঠুন চৌধুরী (দুটি) ও শেখ জামালের শাখওয়াত হোসেন রনি (একটি)। শেখ জামালের তারকা খেলোয়াড়দের ভিড়ে সেরা একাদশে খুব কমই সুযোগ পেয়েছিলেন রনি।
সপ্তমবারের মতো আয়োজিত লিগটি এবারও দর্শক আকর্ষণে ব্যর্থ হয়। তারপরও জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় সালাম মুর্শেদী আশার বাণীই শোনালেন,‘যদি মাঠের খেলা সচল থাকে তাহলে দর্শক আসবেই।’ লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের মতে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রকৃত পেশাদারিত্ব আসলে তখন মাঠে স্বাভাবিকভাবেই দর্শক আসবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কেবল আর্থিক বিষয়ে পেশাদারিত্ব দেখালেই চলবে না। তাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রকৃত পেশাদার মনোভাবের পরিচয় দিতে হবে। তাদের বুঝতে হবে দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেয়ার বড় দায়িত্বটা তাদেরই। তারা যদি ভাল খেলতে পারেন তাহলে মাঠে দর্শক আসতে বাধ্য। আর আমাদের কাজটা হচ্ছে মাঠের খেলা যেন বন্ধ না হয় সেটা নিশ্চিত করা।’
খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্যই প্রথমবারের মতো তিন ধাপে লিগ আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ক্লাবগুলোর অনুরোধ ছিল ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর। তাছাড়া ফিফা এবং এএফসির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা চেয়েছিলাম খেলোয়াড়দের কমপক্ষে ৪০টা ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে। লিগের মাধ্যমে আমরা সেই শর্ত অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছি। তবে আসল লাভটা হয়েছে খেলোয়াড়দের। একজন খেলোয়াড় যত বেশি সময় মাঠে কাটাতে পারবেন তিনি তত বেশি উপকৃত হবেন। সব দিক মিলে আমি বলবো এবারের আয়োজনে সন্তুষ্ট আমি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন লিগের সফল আয়োজন সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসেও বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
সর্বোচ্চ গোলদাতা
খেলোয়াড় ক্লাব গোল
ওয়েডসন শেখ জামাল ২৬
এমেকা ডার্লিংটন শেখ জামাল ২১
এনকোচা কিংসলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ১৭
সানডে চিজোবা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ১৫
ওয়াহেদ আহমেদ মোহামেডান ১৫
সনি নর্দে শেখ জামাল ১৩
ইসমাইল বাঙ্গুরা বিজেএমসি ১৩
ওসেই মরিসন আবাহনী লিমিটেড ১২
স্যামসন ইলিয়াস বিজেএমসি ১২
