শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় এ মাসেই

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৮
পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা চলতি আগস্টেই ছাড় হতে যাচ্ছে। তহবিল ছাড়ের জন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থমন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর শিগগির দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তহবিল তদারকি কমিটি। জানা গেছে, গত ২৬ জুন পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে তদারকি কমিটি। একই সাথে অর্থ বণ্টনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশও (আইসিবি) আবেদন করেছে। এর প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ ছাড়ের অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। আইসিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা বণ্টন শেষ হয়েছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত আইসিবি ওই তহবিল থেকে ১৫টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে ২৯৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে মোট ১০ হাজার ৫৬৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে দেয়া হয়েছে ২৪৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে দেয়া হয়েছে ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বরাদ্দ দেয়া ১৫ প্রতিষ্ঠান ও বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ হলো- গ্রীনল্যান্ড ইক্যুইটি ১ কোটি ১১ লাখ টাকা, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ৮৪ কোটি ৯৮ লাখ, বিএসএমএল ইনভেস্টমেন্টকে ৮ কোটি ৪ লাখ, আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজ ২০ কোটি ১৫ লাখ, বাঙ্কো ফাইন্যান্স ২ কোটি ৯৩ লাখ, আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল ৪ কোটি ৭০ লাখ, ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ১৫ কোটি ৯৯ লাখ, জনতা ক্যাপিটাল ৪০ কোটি ৭৮ লাখ, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ড ১৮ কোটি ৭০ লাখ, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট ৭ কোটি ৪১ লাখ, লঙ্কা-বাংলা ইনভেস্টমেন্ট ১০ কোটি ৯০ লাখ, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল ৭ কোটি ৭৭ লাখ, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ১৬ কোটি ৫৫ লাখ, আইসিবি ৫৬ কোটি ৬৭ লাখ ও জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সূত্র জানায়, এখনও ৬০ কোটি ৭১ লাখ টাকার বণ্টন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের জন্য আবেদন ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস ১০৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা নেয়ার জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছে। এদিকে ৬০ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এআইবিএল ক্যাপিটাল সার্ভিসেস ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, এক্সিম ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট ১৫ কোটি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ ১ কোটি ৬৯ লাখ, রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিসেস ৯ কোটি ৯৪ লাখ ও বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড পাবে ১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রসঙ্গত, সরকার ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ স্কিমের ঘোষণা দেয়। সরকারি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়নের প্রথম কিস্তি বাবদ ৩০০ কোটি টাকা আইসিবিকে দেয়। এ তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় ও বণ্টন করা হয়েছে। তিন মাস অন্তর এ তহবিলের ৯০০ কোটি টাকা ছাড় করার কথা রয়েছে। তহবিল ব্যবহার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্ধেক সুদ (২০১১ সালের বা ২০১১-১২ অর্থবছরে নেয়া ঋণের) মওকুফ করে অবশিষ্ট অর্ধেক ব্লক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করবে। মার্জিন ঋণের মূল অর্থও ব্লক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হবে। বিনিয়োগকারী তিন বছর ধরে সমান কিস্তিতে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করবে। তহবিলের সুবিধা নেয়ার ফলে বিনিয়োগকারী অর্ধেক সুদ মওকুফ ও চক্রবৃদ্ধি হারে ঋণের পরিবর্তে ৯ শতাংশ সরল সুদে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। এজন্য মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো আবেদনের বিপরীতে তহবিলের ঋণ পাবে। ১০ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে আবেদন করবে। আর সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস আইসিবিতে আবেদন করবে।