পুঁজিবাজারের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ জুলাই মাসে কমেছে। জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ। এছাড়া জুনে ক্রেতার ভূমিকায় থাকলেও জুলাইয়ে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় শেয়ার বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, জুনে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৬০২ কোটি টাকা, যা চলতি জুলাইয়ে নেমে এসেছে ২৫৩ কোটি টাকায়। আগের মাসে শেয়ার বিক্রির চেয়ে ক্রয়ের পরিমাণ বেশি থাকলেও জুলাই মাসে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। জুনে মোট লেনদেনের মধ্যে শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮২ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা জুলাইয়ে নেমে এসেছে মাত্র ৮৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। এ হিসাবে এক মাসে শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ কমেছে ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে জুনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ১১৯ কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, যা চলতি মাসে ১৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা দরপতনের কারণে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ঝুঁকি এড়াতে চলতি মাসে কিছু মুনাফাও তুলে নিয়েছেন। এর আগে গত পম মাসেও বিদেশী বিনিয়োগকারীর লেনদেন প্রায় অর্ধেক কমে যায়। ওই সময় নিট বিদেশি বিনিয়োগ কমে প্রায় ৭৮ শতাংশ। যদিও মার্চের তুলনায় এপ্রিলে ডিএসইর নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ছয় গুণ বেশি।
দেশের বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে নিষ্ক্রিয় থাকায় শেয়ারবাজারে গত ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন পরিস্থিতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীরাও সাইডলাইনে চলে যান। পরে জুনে প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে মূলধনি মুনাফার ওপর করারোপকে কেন্দ্র করে বাজারে মন্দাবস্থা আরো দীর্ঘ হয়। তবে চূড়ান্ত বাজেট পাসের সময় তা প্রত্যাহার করা হলে জুনের শেষ ভাগে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আসে। তবে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ শেয়ারে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকলেও ক্রেতার অভাবে তা দর হারাচ্ছে।
সূত্র জানায়, আগের বছরের তুলনায় গেল বছরে বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ওই কোম্পানির শেয়ার বেশি পরিমাণে ক্রয় করেন। এপ্রিলের এ প্রবণতা মে মাসেও ছিল। এরই মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অর্ন্তবর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা দেয়া শুরু করেছে। ফলে এসব শেয়ারের দর বাড়ায় মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি স্থানীয় জ্বালানিসহ অন্যান্য খাতের কিছু কোম্পানিতেও বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়ে বলে সূত্রে জানা যায়।
