ঈদ ওদের কাছে কেবলই বেদনাময়

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২২:০৫
নানাকে জুতা সেলাইয়ের কাজে সহযোগিতা করে রুবেল, বয়স আর কত আট কিংবা নয় হবে। ঈদের নতুন জামা কিনবে কি না জানতে চাইলে উত্তর দেয়, নানা কিনে দিলে কিনবে। কিন্তু নানা জানায়, ওর বাপ-মা ওকে খাওয়াতে পারে না বলে, তার কাছে এনেছে। ভাত খাওয়াতেই তার দায়, ঈদের জামা কিভাবে দেবেন। আজিমপুর ইডেন কলেজের পেছনে ফুটপাতে থাকেন রাবেয়া, রাজমিস্ত্রীর জোগালির কাজ করেন। রোজার মাসে বিল্ডিং বানান হয় কম, তাই কাজওু কম। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক ধার-দেনা করে। যা আয় হয় তা দিয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন না। তাই ছোট দুই মেয়ে নিয়ে এখানেই থাকেন। দেনা শোধ করাই রাবেয়ার বড় কাজ, সন্তানদের ঈদের জামা কেনা নয়। ছোট মেয়ে হাসিনা খাতুনকে প্রশ্ন করি, ঈদের জামা কিনবা না। উত্তর দেয়, মা কিনে দিলে কিনবে। শাহবাগ এলাকায় ভিক্ষা করে জুয়েল, ঈদে জামা কিনেছে কিনা প্রশ্ন করলে বলে, ‘কত মানুষের কাছে ঈদের জামা কিনার জন্য টাকা চাইছি, কেউ দ্যায় নাই।’ ঈদ উদযাপন সফল করতে যখন নগরীর শপিংমলগুলো মাঝ রাত অবধি কেনাকাটায় সরগরম ছিল। তখন ওদের মতো অনেকই ঈদে নতুন কাপড় পায়নি। ঈদ উত্সবকে স্বার্থক করতে যখন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রথম রোজা থেকে ব্যস্ত হয়ে পরেন কেনাকাটায়। রোজা শেষ হয় যেন তাদের কেনাকাটা শেষ হয় না। নিজের জন্য, পরিজনের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে শহরের সব মার্কেট শপিংমল চষে বেড়ান বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তখন এদের পোশাক থাকে না। ঈদে একটা মুরগির জবাই হয় না। ঈদের দিনটাও আর দশটা দিনের মতোই সাধারণ থাকে। পার্থক্যটা শুধু অন্যদের নতুন জামায় আনন্দ দেখার মধ্যে। ছিন্নমূল হতদরিদ্র এসব মানুষের ঈদ বলে আলাদা কিছু নেই। অভাব-অনটন আর ব্যথা-বেদনায় ভরা জীবন তাদের! এখানে-ওখানে এরা মরতে মরতে বেঁচে থাকে। এদের কাছে জীবন মানে জীবন সংগ্রাম! ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি, বস্তি, ফুটপাথ, সড়ক দ্বীপ ঘুরে এমন অনেক মানুষ পাওয়া যায়। অবশ্য না ঘুরলেও চলে। গাড়ি বা রিক্সা করে আসা-যাওয়ার পথে একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখা যাবে তাদের জীবন চিত্র। কাওরানবাজার বস্তিতে স্বামী ও তিন সন্তানসহ বসবাস করেন আমিনা খাতুন। তিনি জানান, স্বামী তার নির্মাণ শ্রমিক। কখনও কাজ পান, কখনও পান না। তাই বড় কষ্টে চলে তাদের। ঈদে তিন সন্তানের কারও জন্য পোশাক কেনা হয়নি। দুঃখ করে বলেন, আমরা ঈদ করি না। কিন্তু পোলা-মাইয়ার লাইগ্যা খারাপ লাগে। পরে নিজেই যেন নিজেকে সান্ত্বনা দেন। বলেন, সবার জন্য সব কিছু না। আমাগো জন্য নাই ঈদ। পাশের একটি বস্তিঘরের সামনে বসে রান্না করছিলেন জুবেদা বেগম। তারও দুই সন্তান। কিন্তু কারও জন্যই কোন পোশাক কেনা হয়নি। পোশাক কেনার বিষয়টি তার মাথায় নেই, কেন? জানতে চাইলে বললেন, ভাই, গরিবের আবার ঈদ! অথচ ট্যুরিজম ডেভেলপার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব) এর হিসাব মতে, এবছর দেশের বাইরে ঈদ করতে গেছেন প্রায় সাত লাখ মানুষ।