কিথ রিচার্ড একজন ‘অলরাউন্ডার’। হেডমাস্টার, ক্রিকেট কোচ, শিক্ষক, ব্লগার, গাইড একের ভিতরে অনেককিছু। কিন্তু রিচার্ডস প্রায়ই বলেন, তার চোখে এই পৃথিবীতে অলরাউন্ডার একজনই—তারই শিষ্য জ্যাকুয়েস হেনরি ক্যালিস।
সত্যিই তাই। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন, বর্তমান ক্রিকেটে টিকে থাকা ‘শেষ’ কিংবদন্তি অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। বর্তমান ক্রিকেট দুনিয়ায় তো বটেই, জ্যাক ক্যালিসের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে টেনে আনতে হবে গ্যারি সোবার্স, ইয়ান বোথাম, রিচার্ড হ্যাডলিদের। কিন্তু তিনিও থেমে যাচ্ছেন। ক্যারিয়ার শেষ করে ফেলেছেন ‘শেষ অল রাউন্ডার’।
টেস্ট ও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে আগেই বিদায় বলে দিয়েছেন। এবার বিদায় জানালেন রঙিন পোশাককে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছিলেন বলে গত বছর শুধু টেস্ট থেকেই অবসর নিয়েছিলেন জ্যাক ক্যালিস। ২০১৫ সালের সেই বিশ্বকাপের মাত্র ছয় মাস আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। বুধবার নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৮ বছর বয়সী ক্যালিস।
চলতি মাসে শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে খেলেন ক্যালিস। এবারই প্রথম শ্রীলঙ্কায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথমবারের সিরিজ জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। এ সময়ই ক্যালিস বুঝতে পারেন, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভীষণ কঠিন হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় খেলা স্কোয়াডটি ছিল অসাধারণ। আমি বিশ্বাস করি, মার্চে ওদের ট্রফি ঘরের আনার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা সিরিজে বল করেননি সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ক্যালিস। আর তিন ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ক্লাব পর্যায়ে টি-টোয়েন্টি খেলবেন ক্যালিস, ‘আমি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি না। সিডনি থান্ডারের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি রয়েছে। আর সম্ভব হলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল শিরোপা ধরে রাখায় সহায়তা করব।’
১৯৯৫ সালে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ক্যালিসের। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬৬ টেস্টে ৪৫টি শতক ও ৫৮টি অর্ধশতকসহ ৫৫.৩৭ গড়ে ১৩ হাজার ২৮৯ রান করেন তিনি। সর্বোচ্চ ২২৪।
৩২.৬৫ গড়ে ২৯২টি টেস্ট উইকেটও রয়েছে ক্যালিসের। ইনিংস সেরা ৬/৫৪, ম্যাচ সেরা ৯/৯২। পাঁচ উইকেট নেন ৫ বার। ১৯৯৬ সালে কেপ টাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় ক্যালিসের। গত ১২ জুলাই হাম্বানটোটায় ৩২৮ ওয়ানডের শেষটি খেলেন তিনি। ১৭টি শতক ও ৮৬টি অর্ধশতকসহ ৪৪.৩৬ গড়ে ১১ হাজার ৫৭৯ রান করেন তিনি। সর্বোচ্চ ১৩৯।
৩১.৭৯ গড়ে ২৭৩টি ওয়ানডে উইকেট রয়েছে তার। সেরা ৫/৩০। পাঁচ উইকেট নেন দুইবার। ২০০৫ সালে জোহানেসবার্গে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ক্যালিসের। ২০১২ সালে কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে এই সংস্করণে শেষ ম্যাচটি খেলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টিতেও যে বেশ ভালই খেলতেন সেটাও তার তার পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ২৫ ম্যাচে ৩৫.০৫ গড়ে পাঁচটি অর্ধশতক ৬৬৬ রান রয়েছে ক্যালিসের। সর্বোচ্চ ইনিংসটা ৭৩ রানের। ২৭.৭৫ গড়ে ১২টি উইকেটও রয়েছে তার। ১৫ রান দিয়ে একবার পেয়েছিলেন ৪ উইকেট।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০’র উপর ম্যাচ ২৫ হাজারের উপরে রান, ৬২টি সেঞ্চুরি, ৫৭৭ টি উইকেট, ৩৩৮ টি ক্যাচ; একজন ক্রিকেটার এক জীবনে এর চেয়ে বেশি আর কি করতে পারেন? তারপরও প্রাপ্য সম্মানটা কখনওই পাননি ক্যালিস। ভারতে ঈশ্বর মনে করা হয় শচিন টেন্ডুলকারকে। পাকিস্তানে ইমরান খান, জাভেদ মিয়াদাঁদও একই সম্মান পেয়ে আসছেন। ভিভ রিচার্ডসন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘কিং ভিভ’; ব্রায়ান লারা ‘ক্রিকেটের বরপুত্র’। তাহলে জ্যাক ক্যালিস কেন বাদ থাকবেন?
কিথ রিচার্ডসন ব্যাখ্যাটা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের ভাষায়, ‘পরিচিত হতে না পারলে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেল কিন্তু পরিচিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাও।’ সারাজীবন একেই মূলমন্ত্র মেনে এসেছেন জ্যাক ক্যালিস!-বাসস
টে স্ট
ম্যাচ রান সেঞ্চুরি হাফ সেঞ্চুরি উইকেট ৫ উইকেট
১৬৬ ১৩২৮৯ ৪৫ ৫৮ ২৯২ ৫ বার
ওয়ানডে
ম্যাচ রান সেঞ্চুরি হাফ সেঞ্চুরি উইকেট ৫ উইকেট
৩২৮ ১১৫৭৯ রান ১৭ ৮৬ ২৭৩ ২ বার\
টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ রান হাফ সেঞ্চুরি উইকেট সেরা
২৫ ৬৬৬ রান ৫ ১২ ৪/১৫
