কৈশোর পার হওয়ার আগেই বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে ঈদ কাটিয়েছেন দেশের বাইরে। স্বজনহীন পরিবেশে সেই ঈদ থেকে শুরু করে পরিবারের সবার সঙ্গে অতি আনন্দে হইহুল্লোড় করে ঈদ উদযাপন; নানামুখী ঈদের স্বাদই পেয়েছেন জীবনে। কিন্তু এবারের মতো ঈদ জীবনে নিশ্চয়ই আগে কখনো আসেনি।
পরিবারের সবাই পাশেই ছিলেন, মাথায় খেলার চাপ ছিল না, চাইলেই হারিয়ে যেতে পারতেন বন্ধুদের সঙ্গে; শুনলেই মনে হয় বড় নির্ভার এক ঈদ কাটালেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু বাস্তবতা হল, ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে থাকা সাকিবের জীবনে এমন হতাশার সময়ও এর আগে আসেনি।
অবশেষে সেই ঈদের ছুটি শেষ করে আগামীকাল যখন জাতীয় দল অনুশীলন শুরু করবে, সাকিবের হতাশার সময়টাও একটু একটু করে কাটতে শুরু করবে। না, এখনও তার নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেয়নি। তবে আগামীকাল থেকে জাতীয় দলের পাশাপাশিই অনুশীলন শুরু করতে যাচ্ছেন সাকিব। বোর্ড সভাপতিরই অনুমতিক্রমে তার অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছে জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট। সে অনুযায়ী তাকে সূচিও দেয়া হয়েছে।
সাকিবের অনুশীলন শুরু করাটা একটা খবর। তবে আসল ব্যাপার হল, ছুটি কাটিয়ে আজ থেকে অনুশীলন ক্যাম্পে ফিরবে ওয়েস্ট ইন্ডিজগামী বাংলাদেশ দলও। নতুন কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের কঠোর অনুশীলনের একটা পর্ব ঈদের আগেই শেষ হয়েছে। মূলত, নিজের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ ও বেসিক টেকনিক নিয়ে কাজ করেছেন প্রথম পর্বে কোচ। এবার সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী খেলোয়াড়দের করণীয়, তথা মাঠে নিজেদের প্রয়োগ নিয়ে কাজ করা হবে পরবর্তী ধাপে। এই ধাপে খুব দ্রুতই বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক যোগ দেবেন দলের সঙ্গে। এ ছাড়া জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে যে, এই মাসের মধ্যেই বাকি বিশেষজ্ঞ কোচরাও যোগ দেবেন দলের সঙ্গে।
এই কোচদের সঙ্গে নিশ্চয়ই সাকিবও কাজ করবেন। তবে তার কাজটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে। বোর্ড সভাপতি সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছেন, আপিল আবেদন করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাকিবের খেলা হবে না; দল ঘোষণাও করা হয়েছে তাকে বাইরে রেখে। তবে ভেতরের কিছু সূত্রের খবর হল বিশ্বকাপ সামনে রেখে সাকিবকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেই ফেরার সুযোগ দেয়া হতে পারে। এই দেশসেরা ক্রিকেটার বিশ্বকাপের আগে এইসব খেলার মধ্যে না থাকলে দেশের ক্ষতি হবে বলেই এখন বোর্ডের পরিচালকরা অনেকে মনে করছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত সাকিবের ব্যাপারে বোর্ড যাই সিদ্ধান্ত নিক, সাকিব ইতিবাচক একটা খবরের দিকেই চেয়ে আছেন নিশ্চয়ই। তিনি নিজে এসব বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নন। তবে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করছে, সাকিব এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হতে খুবই উদগ্রীব হয়ে আছেন। জীবনে খুব একটা এমন বিচলিত হননি বলেও সেই সূত্রটির ধারণা। এই অপ্রত্যাশিত ধাক্কা সামলে উঠতেই এবারের ঈদে পরিকল্পনা করেও শেষ পর্যন্ত মাগুরায় যাননি ঈদ উদযাপন করতে। ঢাকাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটিয়েছেন এবারের ঈদ।
