পাকিস্তানের অধিনায়ক পদ নিয়ে সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড সবসময়ই অস্থিরতা দেখালেও এবার লম্বা মেয়াদেই দায়িত্ব দিলো তারা মিসবাহ-উল হককে। জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব এড়াতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মিসবাহ-উল-হককে টেস্ট ও ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বোর্ডের বিদায়ী চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি স্থানীয় জিও টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, দলের অধিনায়কত্ব ইস্যুতে কিছুটা মনমালিন্য এবং রাজনীতি শুরু হয়েছিল, ‘এমনকি গণমাধ্যমও অধিনায়ক হিসেবে তাদের পছন্দের কাউকে বসানোর চেষ্টা করছিল এবং তারই কিছু প্রভাব দলের উপরও পড়ছিল’।
আর এসব সমাধানের লক্ষেই মিসবাহকে লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে বলছেন তিনি, ‘যে কারণেই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান এবং সকল প্রকার রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা শেষ করার লক্ষ্যে আগামী বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা মিসবাহকে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি।’
২০১০ সালের শেষ দিক থেকে তিন ফর্মেটেই দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসা ৪০ বছর বয়সী মিসবাহকে আগামী বছর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের জন্য অনেকেই ফেবারিট হিসেবে মেনে নিতে পারছিলেন না। বিশেষ করে বোর্ডের একটি শক্তিশালী গ্রুপ এবং বোর্ডের বাইরের একটি মহল মিসবাহর পরিবর্তে অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদিকে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।
এমনকি প্রধান নির্বাচক এবং দলের ম্যানেজার মঈন খান কিছু দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, মিসবাহর অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অধিনায়ক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। আবার পরবর্তীতে তিনিই সব কিছু অস্বীকার করেছেন।
শেঠি বলেন, ‘মিসবাহ খুব ভালভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং আমি মনে করছি এমন সিদ্ধান্ত তাকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে এবং খেলোয়াড়রা এখন কেবলই তাদের খেলার দিকে মন দিতে পারবে। আমি এটাই বলতে পারি এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে অধিনায়কত্ব বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেল।’-বাসস
