করাচিতে সাগরে সাঁতার কাটতে নেমে ২০ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২১:১০
পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর ও বন্দরনগরী করাচির পাশের আরব সাগরে সাঁতার কাটতে যেয়ে ২৩ জন উত্তাল সাগরে ভেসে গেছেন। এদের মধ্যে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অপর তিনজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঈদ উপলক্ষে আনন্দ করতে বুধবার তারা সাগরে নেমেছিলেন বলে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বর্ষাকালে সাগর উত্তাল থাকায় সাগরে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজার হাজার ভ্রমণার্থী করাচির ক্লিফটন বিচে যেয়ে ভিড় করে। এদের মধ্যে অনেকে গোসল করতে সাগরে নেমে পড়েছিলেন। বুধবার রাতে ক্লিফটন বিচ এলাকা থেকে ১২টি লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্ধকারের জন্য রাতে উদ্ধার কাজ বন্ধ রাখা হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে একই এলাকা থেকে আরো ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে হক্স বে এলাকা থেকে আরো দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে দ্য ডন। নিখোঁজ অপর তিনজনের খোঁজে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার শিকারদের মধ্যে এক পরিবারের তিনজন ছাড়াও একটি ১২ বছরের বালক রয়েছে। ডন জানিয়েছে, সুনেরাহ (সোনালী) বিচ থেকে আরো দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করার খবর পাওয়া গেলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জুনে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর থেকেই সাগরে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ। করাচির কমিশনার শোয়ের আহমদি সিদ্দিকি জানিয়েছেন, সতর্কতা উপেক্ষা করে সাগরে নেমে প্রবল ঢেউ ও তীব্র সে াতের কারণে ভেসে যায় তারা। ৩২ বছর বয়সী ফায়িজ রেহমান জানিয়েছেন, তিনি ও তার ছোট ভাই দুই বন্ধুসহ ঈদের পরদিন সাগরে সাঁতার কাটতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “সাগরে সাঁতার কাটার সময় আমি লক্ষ্য করলাম ঢেউগুলো ক্রমেই বড় ও উত্তাল হয়ে উঠছে, ভয় পেয়ে আমি তাড়াতাড়ি তীরের দিকে ফিরতে শুরু করলাম। আমার ভাই ও বন্ধুদেরও ফিরে আসতে বললাম। আমার ভাই ফিরে আসলেও বন্ধুরা তখনও সাঁতার কাটছিল। ঢেউগুলো আরো বড় হয়ে ওঠার পর তাদের আর দেখতে পেলাম না।তিন ঘন্টা ধরে তীরে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য অপেক্ষা করার পরও তারা ফিরে আসেনি”।