চাপের বোঝা কমলো কুকের

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৬
শেষ কবে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি প্রাণ খুলে হেসেছিলেন সেটা নিয়ে রীতিমত গবেষণা চললো। সেই হাসিটা ছিল স্বস্তির হাসি; বুক থেকে পাথর সমান চাপ সরে যাওয়ার স্বস্তি। ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকও মানছেন তেমনটাই। অত্যন্ত চাপের মধ্যে থেকে বছরে প্রথমবার ভাল স্কোর করার পর এবং শেষ পর্যন্ত দলের একাদশতম টেস্ট বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়ে আনন্দিত কুক। একই সাথে আনন্দে ভাসছে ইংলিশ মিডিয়াগুলোও। কদিন আগেও যারা তুলোধুনো করছিল কুকদের, আজ তাদের কাছ থেকেই বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। সময় কি দারুণ ভাবেই না বদলে দিতে পারে সকল হিসাব নিকাশ। রানের জন্য মরিয়া এবং লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া কুক ৯৫ এবং অপরাজিত ৭০ রান করেন। ফলে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে ২৬৬ রানে জয় লাভ করে ১-১ ম্যাচে সমতা আনে ইংল্যান্ড। সাংবাদিকদের কুক বলেন, ‘যে বিশাল চাপের মধ্যে থেকে ম্যাচের প্রথম দিন রান করতে পেরেছি তাতে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’ একই সাথে সমালোচকদেরও বেশ কড়া একটা জবাব দিলেন কুক। সেটা করতে পেরে তিনি নিজেও আছেন স্বস্তিতে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ কি বলছে আমি জানি না। তবে এটা নিশ্চিত যে রান পেয়ে মনে হয়েছে আমার বুকের উপর থেকে একটা বড় পাথর সরে গেছে। নিজে রান না পেয়ে সমালোচিত হচ্ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা জয় পেয়েছি। ম্যাচ শুরুর আগে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন আমরা টেস্ট খেলতে সক্ষম কিনা। আশা করি তাদের ভুল ভাঙ্গবে। সত্যিই দারুণ একটি সপ্তাহ কাটিয়েছি আমরা।’ মাত্র কয়েক রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন কুক। তবে টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ডেভিড গাওয়ারকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসের শুরুতেই ১৫ রানে ক্যাচ আউটের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি। তবে একবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৯৫ রানে থামেন এ ওপেনার। প্রায় এক বছর আগে ডারহামে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর এটা ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম জয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফিরতি অ্যাশেজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া এবং সম্প্রতি নিজ মাঠে শ্রীলংকার কাছে সিরিজ হারার পর এ জয় পাওয়ার পরও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কুক আকাশে উড়তে নারাজ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা মাত্র একটা জয় এবং আমরা এ জয়টা উপভোগ করবো, ওল্ডট্রাফোর্ডে ফিরে আরো ভাল করব। এটা খুবই ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপ। তবে এ ম্যাচে আমরা কখনোই ভারতকে এগিয়ে যেতে দেইনি এবং আপনাদের চাহিদামত এটা খুবই সুন্দর একটি ম্যাচ ছিল।’ সাউদাম্পটনে দলের দুই সিনিয়র খেলোয়াড় ইয়ান বেল এবং জেমস এন্ডারসনের ফর্মে ফেরায়ও বেশ খুশি কুক। ইয়ান বেল প্রথম ইনিংসে ১৬৭ রান করেন এবং এ ম্যাচে এন্ডারসন শিকার করেন সাত উইকেট। তবে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন দ্বিতীয় ইনিংসে দলের জয়ের নায়ক ৬৭ রানে ৬ উইকেট শিকার করা স্পিনার মঈন আলীর। গাজায় যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলছে, তা আরও অনেকের মতো স্পর্শ করেছে তাকে। রোজ বোলে প্রথম দিন হাতে দুটো ব্রেসলেট পরে খেলতে নেমেছিলেন। তাতে লেখা ছিল সেভ গাজা ও ফ্রি প্যালেস্তাইন। এই ব্যাপারটা পছন্দ হয়নি আইসিসির। তাকে ডেকে এই ব্রেসলেট পরতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল। তখনই কী মনে মনে কিছু ঠিক করে রেখেছিলেন মইন আলী? টেস্টের শেষে এসে আবারও তিনি চলে আসলেন শিরোনামে। তার প্রসঙ্গে কুক বলেন, ‘এমন ধরনের কিছুর অভিজ্ঞতা মঈনের জন্য নতুন ছিল। আগেও এমন করেছেও। আমি কখনও ওকে নিজের মধ্যে কোন পরিবর্তন আনতে বলিনি। আর শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্স দিয়েই ও সকলের মন জয় করে নিয়েছে।’ সাবেক ইংলিশ কিংবদন্তীরা অবশ্য কুকের অধিনায়কত্বেরই বেশ প্রশংসা করছেন। সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন ডেইলি মেইলে এক কলামে বলেন, ‘খেয়াল করলে দেখবেন, সাউদাম্পটন টেস্টে কুক অনেক বদলে গেছেন। এখন কেবল ওকে ঠাণ্ডা মাথায় অধিনায়কের কাজটা করে যেতে হবে। আর ওর উন্নতিতে মুগ্ধ।’ বাসস/ওয়েবসাইট