বাংলাদেশ ক্রিকেটের অস্থিরতা চলছে বেশ অনেকদিন হতে চললো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ, এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষেও দেখা গেছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দৈন্যদশা। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও মিলছে না সমাধান। তাহলে কি মনোবলই হারিয়ে ফেলেছেন ক্রিকেটাররা?
এর আগেও এক দফা কাজ করে গেছেন মনোবিদ। গতকাল আসলেন আরেকজন। তিনি হলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রীড়া মনোবিদ ডা. ফিল জেনসি। এসেই জানালেন, খেলোয়াড়দের মনোবল ফিরিয়ে আনাই হবে তার মূল চ্যালেঞ্জ। সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাজটা হবে একজন পারফরম্যান্স মনোবিদের। খেলোয়াড়দের মনোবল ফিরিয়ে আনাটাই হবে আমার কাজ। তাদের মনের কথা বলে দেয়া কখনওই আমার কাজ না। কিন্তু তাদের মানসিকতার সমস্যাগুলো ঠিক করাটা হলো আমার কাজ। আসল কাজ হলো লক্ষ্যটা নির্ধারণ করতে হবে। একজন ক্রীড়াবিদের ক্যারিয়ারে ভালো বা খারাপ সময় আসতেই পারে, একটা দলের ক্ষেত্রেও আসতে পারে। কিন্তু অবশ্যই সেখানে থেমে গেলে চলবে না। তাকে নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য ঠিক করে ফেলতে হবে। আর সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালনেও সচেষ্ট হতে হবে।’
প্রথম সময়টুকুতে খেলোয়াড়দের বুঝে উঠতে চাইছেন ফিল জেনসি। এমনটাই বললেন তিনি, ‘প্রথম দুদিন আমি ওদের মনের ভিতরটা একটু দেখার চেষ্টা করবো। তাদের অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করবো। এরপর ফলাফল কি হবে সে অনুয়ায়ী আমার চেষ্টা শুরু হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদা করে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককেই জানতে হবে তাদের কি কি করণীয়।’
বেশ কদিন ধরেই বাংলাদেশ দলের সমস্যা হলো চাপ নিতে গিয়ে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়া। সেই সমস্যা নিয়েও মনোবিদ কাজ করতে পারেন বলে জানালেন তিনি, ‘বড় বড় প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের মেলে ধরতে সমস্যা হচ্ছে। কখনও বেশি চাপে ওরা ভেঙে পড়ছে। সেসব নিয়ে এখানে কাজ করার সুযোগ আছে। আসলে যেকোন খেলায় একাগ্রতা অনেক বড় একটা ব্যাপার। খেলার আগে ও পরে যেকোন বড় ক্রিকেটার নিজের একাগ্রতা নিয়ে কাজ করে। তাদের মনের অবস্থা কি ভাবে স্বাভাবিক রাখা যায় সেটা নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে। মনকে শান্ত রেখে কিভাবে ভালো করা যায় সেসব নিয়ে কিছু গবেষণা করেছি। অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় আমি এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছি।’
মনোবিদ দলের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এতেই দেখতে পাচ্ছে আশার আলো। প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেহেতু আমরা বিশ্বকাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া যাব; সেক্ষেত্রে এই মনোবিদ অস্ট্রেলিয়ান। তাই এখন পর্যন্ত ব্যাপারটা আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে বলেই মনে হচ্ছে। ক্রিকেট বলেন আর ফুটবল বলেন, সব খেলাতেই মনোবিদ নিয়োগ দিয়ে সাফল্য পাওয়ার অনেক নজির দেখা যায়।’
মনোবিদের সাথে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভাষা। তবে প্রধান নির্বাচক অবশ্য এটাকে বড় কোন সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তো অনেক দেশেই ভ্রমণ করতে হয়। নানান ভাষার মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই বোঝার কথা। যদি কোন সমস্যা হয়; দলে সিনিয়র ক্রিকেটার আছে, অধিনায়ক আছেন, সাকিব আছেন তারা বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন।’
