ছয়বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন উসেইন বোল্ট তার স্বভাবসুলভ দুরন্ত দৌড়ে জ্যামাইকাকে চার গুণীতক ১০০ মিটারের রিলেতে সোনা জিতিয়ে প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ গেমস থেকেও পদক তুলে নিলেন। বরফ ঠাণ্ডা বৃষ্টি ও হাড় কাঁপানো বাতাসের মধ্যেই সমর্থকদের উষ্ণতায় ভরিয়ে গত শনিবার রাতে বাড়তি ঔজ্জ্বল্য দিলেন স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০তম কমনওয়েলথ গেমসটিকে। একাধারে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব রেকর্ডধারী বোল্ট রিলেটির শেষ লেগটি দৌড়িয়ে ইংল্যান্ড ও ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোকে পেছনে ফেলে জ্যামাইকাকে সোনার পদকটি এনে দেন। জ্যামাইকানরা এ জন্য গেমস রেকর্ড ৩৭.৫৮ সেকেন্ড সময় নেন। বোল্টের আগে একে একে দৌড়ান জ্যাসন লিভারমোর, গত সোমবার ১০০ মিটার জেতা কেমার বেইলি-কোল ও নিকল অ্যাশমিড। কিন্তু সবার চোখ ছিল ১০০ ও ২০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ডধারীর দিকে। দীর্ঘকায় এ স্প্রিন্টারটি ইংল্যান্ডের ড্যানি ট্যালবটের সাথে একই সময়ে ব্যাটন হাতে নেন। কিন্তু চার পা ফেলতেই পেছনে পড়ে যান ড্যানি ও অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এরপর খুব সহজেই জয়ের প্রান্ত পৌঁছে যান এবারের কমনওয়েলথ গেমসের একমাত্র তারকাটি। বোল্ট পরে বিবিসিকে বলেন, ‘এর মানে অনেক কিছু। কমনওয়েলথ এর সোনাটাই শুধু আমার সংগ্রহে ছিল না। আমি এখানে আসতে পেরে আনন্দিত এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোয় দৌড়াতে পারিনি বলে দুঃখিত। বিশেষ করে যখন এখানে আমার প্রাণশক্তি ছিল অনেকখানি।’
সমর্থকদেরও ভূয়সী প্রশংসায় ভাসান তিনি, ‘সমর্থকরাই গেমসটিকে ভরিয়ে তুলেছিল। তারা ব্যাপকভাবে এসে প্রথমদিন থেকেই গেমসটিকে সমর্থন দেয়। সমর্থকদের ব্যাপকভাবে বেরিয়ে এসে গেমসটিতে সমর্থন দিতে দেখা দারুণ ব্যাপার। সমর্থকরা ছিল অসাধারণ, আমরা তো মনে হয়েছিল আমি বুঝি লন্ডন অলিম্পিকেই আছি।’ জ্যামাইকানটি এমন এক সময়ে ঔজ্জ্বল্য ছড়ালেন যখন বেশ কয়েকজন পরিচিত ক্রীড়াবিদ গ্লাসগোর আসরটি থেকে সরে দাঁড়ান। এই প্রেক্ষাপটের মধ্যে প্রত্যাশা অনুযায়ী দৌড়াতে এসে ২৭ বছর বয়সী বোল্ট কাউকে নিরাশ করেননি। ফাইনালের আগে ভারমুক্ত থেকে তিনি স্টেডিয়ামে বেজে চলা সঙ্গীতের সাথে নেচেও ওঠেন এবং দর্শকদের অভিবাদনও জানান। যদিও ভয় ছিল বৈরি কন্ডিশনের মধ্যে বিশেষ করে অনবরত বৃষ্টিতে ট্র্যাক ভেজা ছিল বলে দর্শকদের প্রত্যাশা মেটানো যাবে কিনা। প্রকৃতি অবশ্য নিরাশ করেনি, ফাইনালের আগেই থেমে যায় বৃষ্টি।
ইংল্যান্ডের চার স্প্রিন্টার অবশ্য চার বছর আগে দিল্লীতে জেতা ইভেন্টটির শিরোপা ধরে রাখতে ভালভাবেই শুরু করেছিলেন। কিন্তু তারা বোল্টের আসুরিক গতির সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ৩৮.০২ সেকেন্ডের নৈপুণ্যে রৌপ্যেই সান্ত্বনা খোঁজেন। ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর স্প্রিন্টাররা ব্রোঞ্জ জেতেন ইংলিশদের চাইতে ০.০৮ সেকেন্ড পিছিয়ে থেকে। জ্যামাইকানদের এ রাতের নৈপুণ্যে ভেঙ্গে যায় রিলে দৌড়টির ১৬ বছর পুরনো ৩৮.২০ সেকেন্ডের রেকর্ডটি। আগের রেকর্ডটি ছিল বোল্টেরই।
কমনওয়েলথ গেমস গতকাল রবিবারই শেষ হয়ে যায়। তার আগে অ্যাথলেটিক্সের লড়াইয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া পদক তালিকায় জ্যামাইকাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব দেখায়। বিশেষ করে কেনিয়ার মেয়েরা। তারা মেয়েদের ১৮টি পদকের মধ্যে ১৩টিই জিতে নেয়। ফলে কেনিয়া ১০টি করে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং তিনটি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ২৩টি পদক জেতে গেমস অ্যাথলেটিক্সে। জ্যামাইকা দ্বিতীয় হয় ১৯টি (১০-৩-৬) পদক নিয়ে। এরপরেই ছিল অস্ট্রেলিয়া (১২; ৮-১-৩), ইংল্যান্ড (২৭; ৫-১৩-৯) ও কানাডা (১৭; ৫-২-১০)। সুপারস্পোর্ট/বিবিসি।
