ইউনাইটেডের রুদ্রমূর্তি দেখলো রিয়াল

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:২০
লুই ফন গলের কোচ হয়ে আগমনের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করেই নিজেদের মেলে ধরতে শুরু করেছে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। তরুণ এক ঝাঁক খেলোয়াড় নিয়ে তারা আবির্ভূত হল রুদ্রমূর্তিতে। আর তাদের আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে গেল ক’দিন আগেই দশমবারের মত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ী দল রিয়াল মাদ্রিদ। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে প্রায় এক লাখ দশ হাজার দর্শকের সামনে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। এর মধ্য দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ফাইনালে উঠে গেল রেড ডেভিলরা। আজ সোমবার শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইপিএলেরই আরেক দল লিভারপুলের। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে স্বর্ণালী একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছিল। সেই অধ্যায়টা ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের জন্য ছিল গৌরবের, ছিল অহংকারের। কিন্তু ঠিক পরের মৌসুমেই যেন খেই হারিয়ে ফেললো বিশবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ী দলটি। সেই সময়টাতে বেশ কিছুটা টালমাটালই হয়ে পড়েছিল ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। গত মৌসুমে ডেভিড ময়েসের তত্ত্বাবধানে শুধু ব্যর্থতাই সঙ্গী হয়েছে রেড ডেভিলদের। তবে, খুব দ্রুতই হয়তো হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে যাচ্ছে তারা। ডাচ কোচ লুই ফন গলের ছোঁয়ায় যেন আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। গত শনিবার রাতে ইউরোপ সেরা রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তেমন ইঙ্গিতই দিয়েছে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল এই ক্লাবটি। ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস কাপের তিনটি ম্যাচের দুটিতে জয় ও একটি ড্র দিয়ে ফাইনালেও চলে গেছে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে এই প্রাক মৌসুম প্রীতি টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচেও জয় পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ইন্টার মিলান ও রোমার বিপক্ষে হারের পর গতকাল হেরেছে ম্যানইউয়ের বিপক্ষেও। ২১ মিনিটের মাথায় ম্যাচের প্রথম গোলটি করেছিলেন অ্যাশলে ইয়ং। ২৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার গ্যারেথ বেল। ৩৭ মিনিটে আবারও ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন ইয়ং। ইংলিশ এই মিডফিল্ডারের জোড়া গোলের সুবাদেই প্রথমার্ধ্বটা ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করেছিল ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধ্বে, ৮০ মিনিটে জয়ের ব্যবধানটা বাড়িয়ে দিয়েছেন বদলি হিসেবে নামা জ্যাভিয়ের হার্নান্দেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে রেড ডেভিলরা। ম্যাচের ১৭ মিনিট বাকি থাকতে সাবেক দলের বিপক্ষে খেলতে নামেন রোনালদো। তবে সমতা ফেরাতে পারেননি; বরং শিনজি কাগাওয়ার দারুণ পাস থেকে জ্যাভিয়ের ‘চিচারিত’ হার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। ইউরোপের অন্যতম সেরা দুটি ক্লাবের লড়াই দেখতে মিশিগান স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক দর্শক। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ফুটবল ম্যাচে সবচেয়ে বেশি দর্শকের নতুন এক রেকর্ডই হয়ে গেছে গতকাল। এক লাখ নয় হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ফুটবল ম্যাচে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়েছিল ১৯৮৪ সালের অলিম্পিকে। সেবার ফ্রান্স ও ব্রাজিলের ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে এসেছিলেন এক লাখ এক হাজার দর্শক। ফ্রান্স ২-০ গোলে সেই ম্যাচটি জিতে যায়। ম্যাচ শেষে দর্শক সংখ্যার আসল চেহারাটাও পাওয়া যায়। বড় দলের খেলা দেখতে এসেছিলেন ১ লাখ নয় হাজার ৩১৩ জন দর্শক, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ক্যালিফোর্নিয়ায় রোজ বোল স্টেডিয়ামে ত্রিশ বছর আগের ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচে দর্শক হয়েছিল ১ লাখ এক হাজার ৭৯৯ জন। —ডেইলি মেইল/ওয়েবসাইট