রিয়েলিটি শোতে হতাশার জায়গা নেই

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৩
ইজাজ খান স্বপন। দীর্ঘদিন ধরেই তরুণদের সঙ্গীত বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মিউজিক চ্যানেল প্রতিষ্ঠা, অডিও কোম্পানি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সফলতা-ব্যর্থতার পর এখন চ্যানেল আইতে রিয়েলিটি শো প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন। বিনোদন প্রতিদিনের কাছে বললেন সাম্প্রতিক বাস্তবতার কথা। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু ‘সেরাকণ্ঠ’-এর এবারের আসর প্রসঙ্গে বলুন। এবার ‘সেরাকণ্ঠ’-এর পঞ্চম আসর শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ২০১৪’-এর আসর। আমরা সবকিছুই এরইমধ্যে গুছিয়ে এনেছি। এখন শুধু প্রতিযোগীদের দর্শকদের সামনে নিয়ে আসার অপেক্ষা। এবার আমাদের নতুনত্বের মধ্যে ছিল বাছাই পর্ব থেকেই আমরা প্রাথমিক মিউজিকের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগীরা গান গেয়েছে। এছাড়াও আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন আকর্ষণ রাখতে চেষ্টা করেছি। এবার বিচারকের আসরে দেখা যাবে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সামিনা চৌধুরী ও ইবরার টিপুকে। কয়েকটি পর্ব চলার পর বিচারকের আসনে আরও দুজন গুণী শিল্পীকে দেখা যাবে। তার হচ্ছেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ ও সাবিনা ইয়াসমিন। এবারের প্রতিযোগীদের নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী? প্রতিযোগীদের নিয়ে আশার জায়াগাটা বরাবরই থাকে। এবারও আছে। এবার যারা প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে যাচ্ছে তারা সবাই শিখে এসেছে। দেশর ৭টি বিভাগ থেকে ৫৬ হাজার প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে আমরা ১০০ জনকে নিয়ে মূল পর্ব শুরু করতে যাচ্ছি। বিচারকরা খুব নিখুঁতভাবেই বাছাই করে এনেছে। তাই প্রত্যাশার জায়গাটাও বিস্তৃত। আশা করি যারা এই প্রতিযোগিতা শেষে বের হবে তারা যেন আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনে উজ্জ্বলভাবেই বিচরণ করতে পারে। রিয়্যালিটি শো থেকে যারা বের হচ্ছে পরবর্তীতে তাদের অনেকেই হারিয়ে যাচ্ছে, আপনি এ ব্যাপারে কী বলবেন? অনেক সিনিয়র শিল্পীরাই এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনেকে পুরস্কারটা পেয়েই তারকা দাবি করে সিনিয়রদের অসম্মান করা শুরু করেন। এরকম অভিযোগ নিয়ে আপনি কী বলবেন? আসলে এখানে যারা আসে তারা সবাই একটা স্বপ্ন নিয়েই আসে। যখন তারা বের হচ্ছে তখনও একটি স্বপ্ন থাকে। তবে আমাদের এখানে তারা যথেষ্ট গাইড পায়। আমরা সবাইকে বলি প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে যাবার পর যেন সবাই ওস্তাদের কাছ থেকে তালিম নেওয়া চালিয়ে যায়। তবে হয়তো বিভিন্ন কারণেই অনেকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু এই হারিয়ে যাওয়ার সংখ্যা খুব বেশি না। অনেকেই নিয়মিত আছে। কেউ হয়তো খুব অল্প দিনেই ফোকাসে আসছে কেউ একটু ধীরে ধীরে। এখানে শিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যাপারটাও জড়িত। তাই সবাই বেয়াদব হয় না। কেউ কেউ হয়তো। ওরা টিকে থাকবে না। রিয়েলিটি শোতে হতাশার জায়গা নেই। নতুনরাই প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পরবর্তীতে তাদের ধরে রাখার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি? হ্যাঁ আছে আমাদের। আমি চ্যানেল আইয়ের কাছে প্রস্তাব করেছি একটি পোস্ট প্রডাকশন চালু করতে। যেখান থেকে নতুনদেরকে নিয়ে আমরা অ্যালবাম বের করতে পারবো। অন্তত গান গাওয়ার সুযোগটা যেন তারা পায়। চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ তাদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার জন্য ছিল ও থাকবে।