ইতিবাচক হতে হবে

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩২
এনামুল হক বিজয় ঈদের পর জাতীয় দলের অনুশীলন এখনও পর্যন্ত তাত্ত্বিক পর্যায়েই বেশি চলছে। প্রথমে কোচের সঙ্গে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক, এরপর গতকাল পর্যন্ত মনোবিদ ফিল জেনসির ক্লাস। এর আগেও এক মনোবিদ কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিয়ে এরকম সংক্ষিপ্ত পর্যায়ে কাজ করে গেছেন। আর এই দুই ক্লাসই করার অভিজ্ঞতা থেকে এর উপকারিতা, প্রাপ্তি নিয়ে গতকাল কথা বললেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়— আপনি তো দু’ জন মনোবিদের ক্লাসই করলেন। পার্থক্যটা কী? আগের যিনি এসেছিলেন তার লক্ষ্যটা ছিল অনেক দীর্ঘমেয়াদী। ওনার চিন্তার ধরনটা ছিল যে, আমরা নিজেদের যাতে ‘চ্যাম্পিয়ন হতে পারি’ এভাবে সাজেশন দেই। বড় ও লম্বা লক্ষ্য। সে তুলনায় ইনি দ্রুততম সময়ে ফল পাওয়া নিয়ে কাজ করেন। আগের জন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাস করত। যেমন আমি সামনের দিনে পঞ্চাশটা সেঞ্চুরি করতে পারি কিংবা বাংলাদেশ একদিন চ্যাম্পিয়ন হবে। আর এনার কাছে আবার বিষয়টা একটু অন্যরকম । এখনই যেসব কিছু করলে ফল পাওয়া যাবে, যেমন ব্যাটিংয়ের সময় কি করতে পারি, কী ভাবতে পারি, আচরণ কেমন হতে পারে, বোলিংয়ের সময় বোলারের আচরণ কেমন হতে পারে, এর জন্য কি করা উচিত, নার্ভাস লাগলে ওই সময় কিভাবে নিজেকে কন্ট্রোল রাখা যায়; এসব নিয়ে কাজ করেছেন। এসব ব্যাপার মাঠে কতোটা কাজে দেয়? আমরা এসব মনে রাখতে পারলে, যা বলেছেন, সে অনুযায়ী কাজ করতে পারলে কাজে তো দিতেই পারে। যেমন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাচ্ছি। একটা বোলার যদি ৪-৫ বাউন্সার দেয়, তখন আমাদের ব্যাটসম্যানদের শরীরি ভাষা নেতিবাচক হয়ে যেতে পারে। উনি এই জায়গাগুলোতে বলেছেন। কিভাবে এই সময় ইতিবাচক থাকা যাবে, সেটা বলেছেন। মানে, একেবারে প্রায়োগিক সব বিষয়? হ্যা। সাধারণত কী হয়? ৪-৫টা বল ডট দিলে, আমাদের মনে হয় পরের বলটা আমাদের মারা উচিত। মেরে দিলে হয়তো চার হতে পারে। কিন্তু এই সময় আউট হওয়ার সম্ভাবনাটাও একটু বেশি থাকে। আমাদের এখানে বোঝানো হয়েছে ওই সময় নিজেকে কিভাবে কন্ট্রোল করা যায়। তিনি বলেছেন, ওখানে অপেক্ষা করতে যত প্রসেস আছে তা প্রয়োগ করা। নিজের আবেগ কন্ট্রোল করা। কিভাবে অনেকক্ষণ ব্যাটিং করা যায় তার চেষ্টা করা। তবে উনি শিখিয়ে দিল আর হয়ে গেল, এমন না। আমরা এটাতে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হব। তারপর ফল আসবে। দীর্ঘদিনের জন্য পেলে ভাল হত কিনা আবার যদি কখনো প্রয়োজন হয়; উনি আসবে। এটা আসলে আমাদেরও ব্যাপার। আমরা এটা মনে রেখে অনুশীলন করছি কিনা, সেটা বড় ব্যাপার। কোন প্লান করে দিয়েছে নাকি ? আসলে কোন ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা করে দিয়ে যাননি। আসলে এগুলো প্রতিটি ওয়াল্ড ক্লাস টিম প্রত্যেকের মধ্যে থাকে, সবাই এটা নিয়ে কাজ করছে। নরমাললি অস্ট্রেলিয়ার কথা বলেছে, অনেক গ্রেট গ্রেট খেলোয়াড়দের কথা বলেছেন উনি। যারা এসব বিষয় নিয়ে ভালোভাবে কাজ করেছে, তারা কিংবদন্তি খেলোয়াড় হতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে গিলক্রিস্ট, হেইডেন, মার্টিনের কথা বলেছেন। এছাড়া সাইমন্ডস, সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনের কথাও বলো হয়েছে।