ঈশ্বরদীতে হারবাল চিকিত্সার নামে অপচিকিত্সা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪০
ঈশ্বরদীর আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা বেশ কিছু ফার্মেসি ও হারবাল চিকিত্সা কেন্দ্রে অপচিকিত্সার অভিযোগ উঠেছে। এসব ব্যবসার আড়ালে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, পোস্টার, লিফলেট ডিশ লাইন ও টেলিভিশনের কিছু কিছু চ্যানেলে চটকদার প্রচারণা দেখে ভুক্তভোগীরা এসব প্রতিষ্ঠানের কথিত চিকিত্সক ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হলেও রোগ হতে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। বরং কেউ কেউ আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জানা যায়, এদের অনেকেরই কোন সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই। চিকিত্সা সেবার সাথে জড়িতদের অনেকেরই হারবাল বিষয়ে কোন ধারণা নেই বললেই চলে। কেউ কেউ শুধুমাত্র ৩/৬ মাসের ট্রেনিং নিয়ে কবিরাজ বা ডাক্তার বনে গেছে। প্রচারপত্র এবং সাইনবোর্ডে এমন সব সাংকেতিক বিশেষায়িত ডিগ্রির কথা উল্লেখ করা হয়— যা সাধারণ মানুষতো দূরের কথা, উচ্চ শিক্ষিত এবং বড় বড় ডিগ্রিধারী ডাক্তারও বুঝতে পারেন না। বিভিন্ন প্রচারণায় কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লিল ভাষার ব্যবহার শালীনতা বর্জিত হওয়ায় অনেকেই সন্তান বা ছোটদের প্রশ্নে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। না বুঝেই অপেক্ষাকৃত কম বয়সি তরুণরা গোপনে এদের শরণাপন্ন হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। মধ্যবয়সি রোগীর সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিত্সার ফিস আয়ত্তের মধ্যে থাকলেও রকমারি ওষুধের দাম ৩,০০০-১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে যৌন ও গোপন রোগ নিরাময়ের যেসব ওষুধ প্রাথমিক পর্যায়ে দেয়া হয়। এতে তাত্ক্ষণিক কিছু ফলাফল পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে বা সম্পূর্ণ রোগ নিরাময় কখনই হয় না। সূত্র জানায়, বেশ কিছু নামি- দামি কোম্পানির ভায়াগ্রা, নায়াগ্রা, কামাগ্রাসহ আরো কিছু ওষুধ দিয়ে এরা তরল জাতীয় ওষুধ তৈরি করে প্রথমে রোগীদের দেয়। এতে প্রাথমিকভাবে কিছুটা উপকার পেয়ে রোগীরা ক্রমাগত এদের ওষুধ ব্যবহার করলেও বাস্তবে শুধু অর্থদণ্ডই হয়, স্থায়ী সমাধান হয় না। নাম প্রকাশ না করে জনৈক ভুক্তভোগী জানান, জটিল রোগ হতে আরোগ্য লাভের জন্য স্থানীয় একটি হারবাল চিকিত্সা কেন্দ্রে চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করেন।