তাজউদ্দীন আহমদ মানুষ সেবার রাজনীতি করতেন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৫
‘তাজউদ্দীন আহমদ ভোটের রাজনীতি করতেন না; করতেন মানুষ সেবার রাজনীতি। মানুষকে ভালোবাসা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাই ছিল তার অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাজউদ্দীন আহমদের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এসব কথা বলেন। সোমবার বিকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। সঙ্গীত, আলোচনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। অনুষ্ঠানে তাজউদ্দীন আহমদের জীবন ও কর্মের উপর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি। সূচনা বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা.সারওয়ার আলী। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি একটি পুস্তিকাও বের করেন। ’৬৬ সালে ৬ দফার পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যার পর তিনি আত্মগোপন করে ভারতে চলে যান। সেখানে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাত্ করেন এবং দেশকে মুক্ত করার বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নেন। ২৬ মার্চ দেশ স্বাধীন হলে তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বেই দেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন আহমদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রজ্ঞা যদি এক হতো তাহলে আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাস অন্য রকম হতে পারতো। সিমিন হোসেন রিমি বলেন, দিনে দিনে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে ও মূল্যবোধ কমে যাচ্ছে। তাজউদ্দীন আহমদের জীবন থেকে শিক্ষা নিলে ও তাজউদ্দীন আহমদের চর্চা করলে তরুণদের জীবন থেকে অবক্ষয় দূর হতে পারতো। মানুষের প্রতি তার যে সম্মানবোধ ছিল, ভালোবাসা ছিল তা শেখার মতো। সর্বস্তরের নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হলে তাজউদ্দীন আহমদের চর্চার কোন বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসময় বাবা তাজউদ্দীন আহমদের দুর্লভ কিছু আলোকচিত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে হস্তান্তর করেন সিমিন হোসেন রিমি। সূচনা বক্তব্যে ডা. সারওয়ার আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে তাজউদ্দীন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী। ঐ সময় তার তৈরি বাজেটে তাজউদ্দীন আহমদ উল্লেখ করেছিলেন পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে কিভাবে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া যায়। আলোচনা সভা শেষে সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী পরিবেশন করেন বেশ কয়েকটি দলীয় সঙ্গীত। সবশেষে তাজউদ্দীন আহমদের লেখা চিঠি ও তার আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব। আগামী ১৪ আগস্ট শেষ হবে এগারো দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী।