‘গণতন্ত্র সঙ্কটে ম্লান অনেক অর্জন’

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৩
দক্ষিণ এশিয়ার নানাভাবে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন সূচকে ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক, গবেষক, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হচ্ছে। দেশের এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ক্রমবর্ধমানহারে নারীর অনুপ্রবেশ ঘটে চলেছে। এরকম একটি ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে নারীর প্রতিমুহূর্তে জীবনে যে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ দেশের নারী আন্দোলন মনে করে এই অর্জন ধরে রাখা সম্ভব হবে না, টেকসই হবে না বা এই অর্জনকে আরও অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না- যদি আমরা এই মুহূর্তে সচেতন না হই। সেজন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক কাঠামো ও শাসনব্যবস্থাকে সংহত করা ও রাজনৈতিক সচেতনতার উপর জোর দেয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। কেননা, গণতন্ত্রের দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও সংকটের কারণেই অনেক অর্জন অনেক সময় ধরে রাখা সম্ভব হয় না। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনের এসব মন্তব্য করে সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কাজী সুফিয়া আক্তার শেলী। বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘ ৪৪ বছর যাবত্ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার, নারী অধিকার এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার উদ্দেশে বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করে চলেছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে দেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছিল সেটিও ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বারে বারে বলেছে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়াটিকে শুধু ব্যক্তিগত, দলীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল না রেখে যথাযথ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিধিবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, আদিবাসীসহ সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক যে বিরোধপূর্ণ সংকট অবসানকরণ এবং ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এই নীতি অনুসরণ করে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়। তারা উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) ধর্ষণের ঘটনা ৩০৪টি, গণধর্ষণ ৮২টি, ধর্ষণের পরে হত্যা ৪৫টি, যৌতুকের কারণে হত্যা ১২৭টি, যৌতুকের কারণে নির্যাতন ৯০টি, আত্মহত্যা ৮০টি, ফতোয়া ১৫টিসহ নানা রকম নির্যাতনের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে (তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ)। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে অতর্কিতে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছিল, তা এখন অব্যাহত আছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল জনগণের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ও রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম সহ-সভাপতি নাহার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান ডিরেক্টর অ্যাডভোকেসি ও লবি জনাগোস্বামী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।