এশিয়ান গেমস ফুটবল প্রাথমিক দলের ক্যাম্পে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এমন ক্যাম্পে থাকা যায় না। এভাবে বিকেএসপিতে থাকলে ফুটবল অনুশীলন করা কঠিন। এখানে থাকতে চান না কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ। তাই যে কোনো সময় খেলোয়াড়দের নিয়ে বিকেএসপি ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন ডাচ এই কোচ।
জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ক্রুইফ এবং তার সহকারী রেনে কেস্তার মনে করেছেন বিকেএসপিতে ফুটবল ক্যাম্প করা যাবে না। এখানে ক্যাম্পের কোনো পরিবেশ নেই। পরিবেশ নিয়ে ক্ষুব্ধ ডাচ কোচ। সমস্যা কী জানতে চাইলে মোবাইলে তোলা ফটো দেখালেন রেনে কেস্তার। ময়লা নোংরা ঘর। ড্রয়ার খুলে দেখেন মাকড়সার জাল। রুমগুলোতে থাকার পরিবেশ নেই। আছে খাবার নিয়ে সমস্যা। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে খেলা আদায় করতে হলে তাদেরকে সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এখানে ঘুমানোর পরিবেশ নেই। মশার কামড় খেতে হয়।
ক্রুইফ জানালেন তিনি এখানে থাকবেন না। এক সপ্তাহের মধ্যে বিকেএসপি থেকে খেলোয়াড় নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন বলে জানিয়ে দিলেন। বাফুফের ক্যাম্প কেমন জানতে চাইলে ক্রুইফ বলেন, ‘ওটাও খারাপ। তবে বিকেএসপির চেয়ে ভালো।’
গতকাল সাভারের বিকেএসপিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হকি ম্যাচ চলছিল যে মাঠে ক্রুইফ তার খেলোয়াড়দের নিয়ে সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। হকি খেলা দেখতে আসা প্রসঙ্গে ক্রুইফ বলেন,‘বাংলাদেশের খেলা কখনো দেখিনি। এজন্যই এসেছি।’
হকি কর্মকর্তা মাহবুবুল এহসান রানা ক্রুইফকে ডেকে নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদারের পাশে বসাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রুইফ পেছন দিকে গিয়ে বসলেন। হকি খেলা দেখে খুশি ক্রুইফ, বললেন বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। কিন্তু এরপরই তার কণ্ঠে ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে আবাসিক ক্যাম্পের অব্যবস্থাপনার কথা। তিনি বলেন,‘এটা ভয়ংকর একটি ক্যাম্প। আমরা এসে দেখি এটা বিধ্বস্ত একটি জায়গা। রুমগুলো প্রস্তুত না। এখনও এখানে থাকার মতো ব্যবস্থা নেই।’ তার মতে মোহামেডান, শেখ জামালের ক্যাম্পও এর চেয়ে অনেক ভালো।
রেনে কেস্তার বসে ছিলেন ক্রুইফের সামনের চেয়ারে। তিনি তো আরো উচ্চকণ্ঠ। ক্ষোভটা আরো বেশিই মনে হলো তার। এ ক্ষোভ বাফুফের উপর,‘যেটা বলা হয় সেটা দিতে পারছে না বাফুফে’। ক্রুইফ বলছেন,‘বাংলাদেশের প্লেয়াররা এই ক্যাম্পে থাকতে পারছে, আমরা তো পারছি না। আমরা খেলোয়াড়দের এভাবে রাখবো না।’ খাওয়া-দাওয়া নিয়েও অভিযোগ আছে ডাচ কোচদের। আবাসিক ক্যাম্প নিয়ে ক্রুইফ আপত্তি তুললেও বিকেএসপির মাঠের প্রশংসা করেছেন তিনি, ‘মাঠ ঠিক আছে। এই মাঠে অনুশীলন নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই।’
বাফুফে খেলোয়াড়দের শতভাগ উজাড় করে দিতে বলেছিল, খেলোয়াড়রা সেটা করতে পারছে কিনা জানতে চাইলে ক্রুইফ উত্তর দেয়ার আগে সামনে বসা রেনে পেছন দিকে ঘুরেই বললেন, ‘আগে বাফুফেকে শতভাগ দিতে বলুন।’
আবাসিক ক্যাম্প নিয়ে খেলোয়াড়দের মুখে কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। দলের সিনিয়র ফুটবল আতিকুর রহমান মিশু বললেন, ‘কোনো সমস্যা নেই।’ জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘থাকায় সমস্যা হচ্ছে না। ক্যাম্পের পরিবেশ ভালোই। তবে খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা। যে অনুশীলনটি করান কোচ সেটির জন্য আরেকটু ভালো খাওয়া-দাওয়া হলে ভালো হয়।’
