ভারতের ফিরে আসার লড়াই!

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৭
সাউদাম্পটন টেস্ট শুরু হবার আগেও হিসাব-নিকাশটা ছিল ভিন্নরকম। কিন্তু তাতে ২৬৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পাওয়ায় বদলে গেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের মনোভাব। একই সাথে ভারতের জন্যও চলে এসেছে আকাশচুম্বি চাপ। তাই আজ থেকে ম্যানচেস্টারে শুরু হচ্ছে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট। সিরিজে এখন ১-১ সমতা। একই সঙ্গে দশ টেস্টে জয় না পাওয়ার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসে এলিস্টার কুকের দল এবং অধিনায়ক নিজে দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করে ফর্মে ফেরেন। অবশ্য প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে জীবন না পেলে সব কিছুই ভিন্ন হতে পারত। কুক বলেন,‘জয় পাওয়া কি এখন সবাই সেটা জানে। এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ওল্ডট্রাফোর্ডে জয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটানো এবং সিরিজ জয়ের চেষ্টা করা।’ সাউদাম্পটনে সফল হওয়ার একদিন পরই আরেকটি ‘বিজয়’ অর্জন করে ইংল্যান্ড। নটিংহ্যামে ড্র হওয়া প্রথম টেস্টে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় পেসার জেমস এন্ডারসনের বিপক্ষে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ আনে ভারত। কিন্তু গর্ডন লুইসের নেতৃত্বাধীন আইসিসির বিচারিক কমিশন নির্দোষ ঘোষণা করলে নিষিদ্ধাদেশের হাত থেকে রক্ষা পান এন্ডারসন। তাকে নিষিদ্ধ না করাটাকেই ‘বিজয়’ মনে করছে ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনে ৭৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া এবং সিরিজে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ (১৬) উইকেট শিকারি ফাস্ট মিডিয়াম এ বোলার নিষ্কৃতি পাওয়ায় ইংল্যান্ডের হাফ ছেড়ে বাঁচা সহজেই বোধগম্য। তবে আইসিসি মঙ্গলবার জানিয়েছে, অ্যান্ডারসন এবং জাদেজাকে লুইসের নির্দোষ ঘোষণার বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। এর আগে জাদেজাকে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানাও করা হয়। নতুন করে কোন সিদ্ধান্ত না হলে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারী ইয়ান বোথামের ৩৮৩ টি থেকে মাত্র ১২ উইকেটে পিছিয়ে থাকা অ্যান্ডারসন নিজ মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে খেলার জন্য মুক্ত। সাউদাম্পটনে অ্যান্ডারসন এবং স্টুয়ার্ট ব্রডের সমন্বয়ে গড়া ইংল্যান্ড পেস আক্রমণকে যথাযোগ্য সাহায্য করেছেন ‘পার্ট টাইম’ বোলার স্পিনার মঈন আলী। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭ রানে ৬ উইকেট শিকার করে মঈন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তৃতীয় টেস্টে ইনজুরিতে পড়া লিয়াম প্লানকেটের পরিবর্তে চতুর্থ টেস্টে পেসার স্টিভেন ফিনকে দলে ডেকেছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড দলের হতাশাজনক অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম দিকেই মিডলসেক্স পেসার ফিনকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ড। মঈন আলীর হুমকি মোকাবিলা করার জন্য ভারত অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে খেলাতে পারে। পিচের কন্ডিশন বিবেচনা করে বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ বছর প্রথমবারের মত অশ্বিনকে মাঠে নামাতে পারে ভারত। ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বলেন, ‘সাউদাম্পটনে মঈন ভাল বোলিং করেছে। তবে আমরা ভাল বোলিং করতে দিয়েছি। স্পিনারদের বিপক্ষে ইতিবাচক থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’ লর্ডস টেস্টের নায়ক ইশান্ত শর্মা চতুর্থ ম্যাচ থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় ভারতীয় দলের পেস বোলিংয়ের অভাব দেখা দিয়েছে । দুই বছর আগে একটি মাত্র টেস্ট খেলা ঝাড়খন্ড ফাস্ট বোলার বরুণ এ্যারনকে দলে দেখা যেতে পারে। অবশ্য পঙ্কজ সিং পাইপ লাইনে থাকায় দলে বরুনের জায়গা পাওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে। সাউদাম্পটনে টেস্ট অভিষেক হওয়া বরুণ ১৭৯ রান দিয়েও কোন উইকেট নিতে পারেননি। যা টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে খারাপ রেকর্ডগুলোর একটি। অবশ্য ভাগ্যের সহায়তাও পাননি তিনি। সিরিজে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংস খেলা শিখর ধাওয়ান দল থেকে বাদ পড়তে পারেন। ছয় ইনিংসে তার মোট রান ১২২। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের সর্বশেষ ৫৪তম টেস্ট খেলা বাঁ-হাতি ওপেনার গৌতম গম্ভীর আছেন অপেক্ষায়। -বাসস/ওয়েবসাইট