গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা
নাগরিক ঐক্যের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা বলেছেন, সম্প্রচার মাধ্যম ও বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত ‘টক শো’ নিয়ন্ত্রণ করতেই সম্প্রচার নীতিমালা করেছে। নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার সর্বশেষ প্রচেষ্টা হলো এই নীতিমালা। সংবিধান আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কোন নীতিমালা দিয়ে এটিকে রোধ করা যাবে না। বক্তরা অবিলম্বে এই নীতিমালা বাতিলের দাবি জানান। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
বৈঠকে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, সংবিধানে বাক স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। এই সম্প্রচার বিষয়ক নীতিমালা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, অবাধ তথ্যের যুগে এ ধরনের নীতিমালা দিয়ে কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল’র পরিচালক ড. শাহদীন মালিক বলেন, যে সরকার জনপ্রিয় হয় না তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। পরে তারা সংবাদ মাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সম্প্রচার নীতিমালা করে এখন বর্তমান সরকার ঢিল ছুঁড়ছে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। তারপর তারা অন্যরকম কাজে যাবে। এখনই প্রতিরোধ গড়ে তোলা না হলে সংবাদ মাধ্যম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গণতন্ত্র মানে কথা বলার অধিকার। সরকার যতই অস্বস্তি প্রকাশ করুক না কেন আমরা কথা বলবই। কেউ আমাদের কথা বলা বন্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত নীতিমালা সম্পর্কিত খবর থেকে সবার কাছেই পরিষ্কার, টিভি চ্যানেলের আলোচনামূলক অনুষ্ঠান (টক শো) নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি মনে করছে সরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মানবাধিকার সংগঠন অধিকার চেয়ারম্যান ড. সিআর আবরার বলেন, যাদেরকে আমরা শাসক হিসেবে পাচ্ছি তারাই নিবর্তনমূলক আইন করছে। বিএনপি এই নীতিমালা প্রত্যাখান করছে। কিন্তু আমার মনে হয় যদি কখনো বিএনপি ক্ষমতায় আসে তারাও এই নীতিমালা বাতিল করবে না ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সবচেয়ে বেশি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলে সরকার। প্রহসনের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় আসেন তারাই মিথ্যা কথা বলেন।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার বড় অস্বস্তিতে রয়েছে। এই অস্বস্তিকর অবস্থায় সরকারকে বেকায়দায় রেখেছে গণমাধ্যমগুলো। কিছু কিছু টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র সরকারের কুকীর্তি তুলে ধরছেন। এখন সরকার এদেরও টুট্টি ধরতে চায়। এই কারণেই নীতিমালার মুখোশে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী নীল নকশার ফসল।
দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি সালেহ উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তির কারণে সরকার এ ধরনের একটি নীতিমালা করছে। যারা সরকারপন্থি তারা বলছেন, এ নীতিমালা এত খারাপ নয়। একদিন দেখা যাবে তারাই বলবে এটি একটি জঘন্য নীতিমালা। বিএনপিপন্থি সাংবাদিকরা এই নীতিমালার বিরুদ্ধে এখন সোচ্চার। পট পরিবর্তন হলে তারা নিরব হয়ে যাবেন।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আশরাফ কায়সার বলেন, নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার সর্বশেষ প্রচেষ্টা হলো এই নীতিমালা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী রানা প্লাজা ধসে এক হাজারের অধিক লোক নিহত হওয়ার ঘটনা প্রচার করলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে র্যাবের জড়িত থাকা ও পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে দুটি সংস্থার ভাবমূতি ধ্বংস হবে। তাই নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করা যাবে না।
