ইউনুস খানের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে গল টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল শুধুই পাকিস্তানের। গতকাল লোয়ার অর্ডারকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের পুরো দুই সেশন কাটিয়ে দলকে প্রথম ইনিংসে ৪৫১ রানের বড় স্কোর নিশ্চিত করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে যা গত আট বছরে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। তবে ভালোই জবাব দিচ্ছে শ্রীলঙ্কাও। কুমার সাঙ্গাকারা এবং কুশাল সিলভার ব্যাটে মাত্র এক উইকেট খুইয়ে ৯৯ রানে দিন শেষ করেছে তারা।
গলের এই উইকেটে বোলারদের জন্য যে খুব বেশি কিছু থাকবে না সেটা বোঝা যাচ্ছিল আগেই। এই ভেন্যুতে সর্বশেষ টেস্টেই লঙ্কানদের বিরুদ্ধে সাড়ে চারশোর বেশি রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গতকালও মোটেই পাল্টালো না উইকেটের চরিত্র।
চার উইকেটে ২৬১ রান নিয়ে দিন শুরু করা সফরকারীরা দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ইউনুস এবং আসাদ শফিকের ব্যাটে চড়ে প্রথম ঘণ্টাটা নিরাপদেই পাড় করে। ব্যক্তিগত ৭৫ রানে আসাদ শফিককে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রঙ্গনা হেরাথ। এই বাঁহাতি স্পিনারের শিকারে পরিণত হবার আগে তিনি করেছেন ৭৫। ১৪৭ বলের এই ইনিংসে আটটি চারের পাশাপাশি ছিল দুটি ছয়।
এরপর নবাগত সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে ইউনুস যোগ করেন আরো ৬৬ রান। মাত্র ১৮.৫৮ গড় নিয়ে এই টেস্টে খেলতে নামা সরফরাজ এদিন উপহার দিয়েছেন দারুণ একটি ইনিংস। বলের সাথে প্রায় পাল্লা দিয়ে ৫৫ রান করে পেরেরার বলে ক্যাচ দেন তিনি।
তবে তার আগেই ফেরেন ইউনুস। লঙ্কানদের প্রায় কোনো সুযোগই না দিয়ে প্রথম সেশনেই দেড়শোর রানের মাইলফলক পাড় হওয়া এই সাবেক অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন দিলরুয়ান পেরেরাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে। তবে তার আগে করেন ১৭৭ রান। ভিথানাগের হাতে ক্যাচ দেয়া এই সাবেক অধিনায়ক ১৫ চার এবং একটি ছয়ে সাজান তার ৩৩১ বলের ইনিংসটি।
৩৫৯ রানে ইউনুস ফিরলেও ইনিংসের লেজটা লম্বা করেন মূলত আবদুর রেহমান। এই বাঁহাতি স্পিনার প্রথমে সরফরাজ এবং পরে সাইদ আজমলকে সাথে নিয়ে যোগ করেন আরো ৮৫ রান। রেহমান আউট হবার প্রায় সাথে সাথেই হয় পাকিস্তানের ইনিংস।
১৩৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে পেরেরা ছিলেন লঙ্কানদের সফলতম বোলার। হেরাথ নেন তিনটি উইকেট। লঙ্কানরা শুরুটা করে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। তবে আঘাত আসে শুরুতেই। চারটি চারে মাত্র ১৫ বলে ১৯ রান করা উপুল থারাঙ্গাকে ফিরিয়ে দেন পেসার জুনাইদ খান। তবে নতুন ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারা নেমেই পাল্টা আঘাত করেন। শুরুটা আক্রমণাত্মকভাবে হলেও দলের প্রয়োজনে শান্ত হয়ে আসে তার ব্যাট। দীর্ঘ সময় সতর্কতার সাথে খেলার পর ৫৭ বলের বিরতিতে দিনের খেলা শেষ হবার ঠিক আগে জুনায়েদ খানকে দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের রানকে একশোর কাছাকাছি নিয়ে যান এই স্টাইলিশ বাঁহাতি। কুশাল পেরেরার সঙ্গে তার অপরাজিত ৭৫ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই বাকি পথটা পাড়ি দেয় শ্রীলঙ্কা। পেরেরা খেলছিলেন ৩৮ রান নিয়ে আর সাঙ্গাকারা ৩৬। ক্রিকইনফো
গল টেস্ট : সংক্ষিপ্ত স্কোর
গল টেস্ট, দ্বিতীয় দিন
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস:
আগের দিন ২৬১/৪ (ইউনুস ১৩৩*, শফিক ৫৫*)
৪৫১ (অল আউট, ১৪০.৫ ওভার)। ইউনুস ১৭৭, শফিক ৭৫, সরফরাজ ৫৫, রেহমান ৫০। পেরেরা ৫/১৩৭, হেরাথ ৩/১১৬। শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ৯৯/১, কুশাল পেরেরা ৩৮*, সাঙ্গাকারা ৩৬*। জুনাইদ ১/৩৮। টস: পাকিস্তান।
