ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাশরাফিও ভুলতে পারেন না।
গত বছর দশেক সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা আর সব ক্রিকেটারের মতো মাশরাফি বিন মুর্তজার ভুরি ভুরি সুখের স্মৃতি আছে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজে। এখানেই ভারতকে হারিয়ে মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, এখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু গল্পটা এখানে শেষ নয়।
বাংলায় ‘হরিষে বিষাদ’ বলে একটা শব্দবন্দ আছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ হল মাশরাফির সেই হরিষে বিষাদ। ইনজুরি তাকে ২০০৪ সালের সেই পেসস্বর্গ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরে যেতে দেয়নি। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজেই ২০০৯ সালে গিয়েছিলেন পূর্ণাঙ্গ অধিনায়ক হয়ে। বাংলাদেশ সেই সফরে টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজ জিতে এসেছিল। কিন্তু প্রথম মাত্র ৬.৩ ওভার আয়ু পেয়েছিল মাশরাফির সেই অধিনায়কত্ব। তারপরই ইনজুরিতে পড়ে অধিনায়কত্ব, জাতীয় দল, এমনকি ক্যারিয়ারও হারাতে বসেছিলেন!
তবে মাশরাফির ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিষয়ক সবচেয়ে ভয়ানক স্মৃতি নিশ্চয়ই প্রিয় বন্ধু, ভাইয়ের সমান সতীর্থ মানজারুল ইসলাম রানাকে হারানো। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সেই জয়ের আগের দিনই এই ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসে মাশরাফি খবর পেয়েছিলেন—রানা আর নেই।
আগামী সপ্তাহে আরেকটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মাশরাফি যখন রওনা দেবেন এই রানা, এই ইনজুরি, এই অধিনায়কত্ব, এই ভারত-বধ; সবই হয়তো সিনেমার মতো চোখের সামনে ভেসে আসতে থাকবে। প্রসঙ্গটা উঠতে মাশরাফি একটু থমকে গেলেন। কয়েকটা মুহূর্ত কথা খুঁজে পেলেন না। তবে দ্রুতই নিজেকে সামলে নিলেন। তারপর বললেন, ‘এটা আসলে জীবনের কঠিন এক প্রশ্ন। তবে আমি আসলে পেছনে তাকাচ্ছি না। অনেক আবেগের ব্যাপার আছে। কিন্তু আমি আসলেই বর্তমানে বাস করতে চাই এখন এবং আসছে সফরে দলের ভালোটা চাই।’
সেই ভালো চাওয়া মানে নিজের ভালো এবং দলের ভালো। একটা ব্যাপার ধরেই নেয়া হয় যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভালো করতে পেসারদের ভালো করার বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে মাশরাফির ভালো করাটাও জরুরি। মাশরাফি নিজে আত্মবিশ্বাসী যে, সেটা সম্ভব।
তবে একটা ব্যাপার ঠিক যে, এখন আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানেই পেস-স্বর্গ যে নয়, এটা মাশরাফিরা ভালোই জানেন। তিনি বরং বললেন, গতকালকের মিরপুরের মতো উইকেটই ওখানে এখন বেশী পাওয়া যায়, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথম টেস্ট ম্যাচটা সেন্ট ভিনসেন্টে। শুনেছি ওখানে কিছুটা সুইং এবং বাউন্স থাকবে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট এখন অনেকটাই বাংলাদেশের উইকেটের মতই। বিশেষ করে ওয়ানডে, টোয়েন্টি-২০ যেগুলো আছে সেগুলো স্লো উইকেটেই হবে শুনেছি। কিন্তু প্রথম টেস্টটা মনে হয় একটু দ্রুত গতির উইকেটেই হবে।’
তবে এটাও ঠিক যে কখনো বাউন্সি উইকেট, কখনো স্লো উইকেটে খেলাটা এবং বল করাটা যে চ্যালেঞ্জের হবে, সেটা মাশরাফি বেশ বুঝতে পারছেন। সবচেয়ে বেশী চ্যালেঞ্জিং হবে, এই বছরের শুরু থেকে খারাপ ফলাফলের মধ্যে থাকা দলকে ভালো ফলের পথে আনা। সে জন্য করণীয়টা যে তারা করছেন, তা অবশ্য জানালেন মাশরাফি, ‘আমরা একটা ব্যাপার সবাই বুঝতে পারছি যে, আমাদের অনুশীলনে এরকম অনুশীলন ম্যাচে ফোকাস আরও বাড়িয়ে আমরা নিজেদের উন্নতি করতে পারি। আমাদের কোচও শুরু থেকে এটা করতে চাচ্ছে। আমরা আসলে সবগুলো জিনিসই চেষ্টা করছি। আমরা জানি না এর চেয়ে বেশি আর কিছু করার আছে কিনা। আশা করছি বাজে সময়টা আমরা ফেলে আসতে পারব। এটাও সত্যি কথা ওয়েষ্ট ইন্ডিজ এই মুহূর্তে ভাল খেলছে। তারা খেলার ভেতর আছে। আশা করি, আমরা ওখানে কম্পিটিটিভ ক্রিকেট খেলব।’
