ভেজাল খাদ্যে:লিভার, কিডনি নষ্ট হয়

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৪, ২০:৩৭
রেজা পারভেজ চাঁপাই- নবাবগঞ্জের প্রখ্যাত আম ব্যবসায়ী। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ট্রলিতে শুয়ে থাকা ছেলের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন মনে দাড়িয়ে আছেন। ছেলে ঢাকায় ভার্সিটিতে পড়ে। গতকাল রাতে হঠাত্ করে বেশ কয়েকবার খিঁচুনী হওয়ায় বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কয়েকটি টেস্ট দিয়েছিলেন। টেস্টের রিপোর্ট দেখে তারা বলেছেন, ‘আপনার ছেলের শরীরে এসিটাইলিনের মাত্রা বেশী পাওয়া গেছে। এটি মস্তিস্কে অক্সিজেন কমিয়ে দেয় ফলে খিঁচুনী হতে পারে। তবে ভয়ের কোন কারণ নেই, এখন রোগী স্ট্যাবল আছে।’ রেজা সাহেব ডাক্তারদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন এসিটাইলিন কোথা থেকে ঢুকে থাকতে পারে। ডাক্তাররা উত্তরে যা বললেন তা তার জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তাররা বললেন, ‘ফল পাকাতে যে কেমিকেল ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে ক্যালসিয়াম কার্বাইড এসিটাইলিন যৌগ তৈরী করে। শুধু তাই নয়, এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিকর মাত্রায় আর্সেনিক ও ফসফরাস যৌগ পাওয়া যেতে পারে যা লিভার, ব্রেইন, ত্বক বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি সাধন করে।’ তবে তারা তাকে নিশ্চিত করলেন যে তার ছেলের শরীরে আর্সেনিক ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া যায়নি। রেজা পারভেজ গত কয়েক বছর যাবত্ ফল পাকাতে এই কেমিকেল ব্যবহার করে আসছেন। তার উপর ফল অপরিবর্তিত অবস্থায় শহরে পাঠানোর জন্য ফরমালিনও ব্যবহার করছেন। তিনি মনে মনে অপরাধবোধে দগ্ধ হতে লাগলেন। উপরে যে গল্পটি বলা হল তা শুধু আম ব্যবসায়ীদের জন্য নয়- যে কোন ফল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি ব্যবসায়ীদের জন্য সত্য হতে পারে। অধিক সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় বুঁদ হয়ে থাকা ব্যবসায়ীদের চাই অধিক মুনাফা। তাই ফল পাঁকানো, ফল সংরক্ষণ ও পরিবহন, মাছ চাষ, শাক-সবজি উত্পাদন, মুরগীর খামারে, গরুর মোটাতাজাকরণ প্রকিয়ায় ইত্যাদি কাজে যত্রতত্র ও যথেচ্ছা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার চলছে। এই সকল রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারে শরীরে কি পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে নেই কোন মাথা ব্যথা। ফলে, কৃত্রিম ও ভেজাল খাবার সেবন করে মানুষের মধ্যে রোগব্যাধী বেড়েই চলেছে। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষই ফল খেতে পছন্দ করে। ফল-এ মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করা, ভিটামিন, পটাশিয়াম, আয়রণ, জিংক ইত্যাদি পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকে। এ কারণে নিয়মিত ফল সেবন করা উত্তম। বাংলাদেশে সারা বছর ফলের চাহিদা থাকলেও মধ্যম ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষ উচ্চমূল্যে ফল কিনে খেতে পারেনা। তারা অপেক্ষায় থাকে জৈষ্ঠ্য আষাঢ় মধুমাস আসার। এ সময় নানারকম ফলের সরবরাহ বেড়ে যায় এবং দামও কমে আসে। কিছু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে ফল দ্রুত পাঁকাতে রাসায়ণিক দ্রব্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করেন। এছাড়াও ফল সংরক্ষণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর জন্য ফরমালিনের ব্যবহারতো আছেই। ভেজালযুক্ত শাক-সবজি, মাছ ও মাংস আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। মাছকে টাটকা রাখতে ব্যবহার করা হয় ফরমালিন। চাষের মাছকে খাওয়ানো হয় ইউরিয়া সার, গরুর বর্জ্য চামড়া আগুনে পুড়িয়ে তৈরী এক প্রকার খাদ্য, ফার্মের বয়লার মুরগীর বর্জ্য ইত্যাদি। গরুকে বলিষ্ট করতে ব্যবহার করা হয় অ্যালকোহল সমৃদ্ধ আখের গুড়ের তৈরী বর্জ্য, ইউরিয়া মিশ্রিত ঘাস ও খড় এবং স্টেরয়েড ইনজেকশন। পোলট্রি ফার্মের মুরগীকে মোটাতাজা করার জন্য খাওয়ানো হয় নানাবিধ কেমিকেল মিশ্রিত খাদ্য যেমন: শুকনো ও পঁচা গন্ধযুক্ত ডিডিটি মিশ্রিত শুঁটকি। এছাড়া শহরের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা ফ্রাইড চিকেনের দোকানগুলোর তৈরী হচ্ছে জেনেটিকেলী মোডিফাইড মুরগী। অতিরিক্ত সার, কীটনাশক প্রয়োগের কারণে মৌসুমের বাইরেও শাকসবজি ও বিভিন্ন ফল পাওয়া যাচ্ছে। কেমিকেলের যথেচ্ছ ব্যবহারে উত্পাদিত এই খাদ্য সামগ্রী আমাদের জন্য কতটুকু উপকার বহন করছে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। প্রাকৃতিক উপায়ে ফল পাকে ইথিলিন নামক হরমোনের প্রভাবে। সুতরাং, ফল পাকাতে যদি কৃত্রিমভাবে প্রস্তুতকৃত ইথিলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করা হয় তা গ্রহণযোগ্য। সাধারণত কলা পাকাতে এটির ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আম, পেঁপেঁ, নাশপতি, পেয়ারা, আপেল, বড়ই, মাল্টা, কমলা ইত্যাদি পাকাতে ব্যবহূত ক্যালসিয়াম কার্বাইড শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরণের স্ফটিকআকৃতির যৌগ যা কল কারখানায় ব্যবহার হয়ে থাকে। দেখতে গাঢ় ধূসর রং, অনেকটা রসুনের মত গন্ধ ছড়ায়। স্টিল জাতীয় পদার্থের ওয়েল্ডিং-এর কাজে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ক্যালসিয়াম কার্বাইড বাতাসে জলীয়বাষ্পের সংস্পর্শে আসলে অ্যাসিটাইলিন গ্যাস তৈরী করে, যা ফল পাকাতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাস জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ থাকে। অ্যাসিটাইলিন যেভাবে শরীরের ক্ষতি করতে পারে- অ্যাসিটাইলিন গ্যাস স্নায়ুতন্ত্রের অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়, ফলে স্বল্পমেয়াদে তা মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, অস্থিরতা, খিঁচুনী, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণ পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে তথা দীর্ঘদিন অ্যাসিটাইলিন সেবন করলে মুড ডিস্টারবেন্স, মনে না থাকা জাতীয় সমস্যা হতে পারে। ফল পাকাতে ব্যবহার করার সময় ক্যালসিয়াম কার্বাইড সরাসরি চোখের সংস্পর্শে এসে চোখ পুড়ে যেতে পারে, এমনকি চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। ত্বকের সংস্পর্শে এলে লাল হয়ে যাওয়া, র্যাশ, পুড়ে যাওয়া ইত্যাদি হয়। খাদ্যনালীতে ঢুকে পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেটে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা তৈরী করে। শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকে গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে এজমা, সিওপিডি ইত্যাদি হতে পারে। লিভারে ঢুকে জণ্ডিসের কারণ হতে পারে। নেপালে লাহান হাসপাতালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রোগীর চিকিত্সা করা হয়েছে কার্বাইড দ্ব্বারা পাকানো আম খাওয়ার ফলে সৃষ্ট পেট ব্যথার জন্য। কিন্তু আমরা কিভাবে বুঝবো যে কেমিকেল দ্ব্বারা ফল পাকানো হয়েছে? উদাহরণস্বরুপ আম কাটার পর চামড়ার ঠিক নীচের অংশ কাঁচা পাওয়া যাবে যদিও চামড়াটি পাকা বর্ণ ধারণ করেছিলো। যদি ঝুড়িতে বা দোকানে সবগুলো ফল একই সময়ে একই রকম পাকানো দেখা যায় এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চামড়ার উপরে আচিল বা তিলের মত রং দেখা যায়। প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় যে ফল পাকে তাতে মাছি বসবে কিন্ত কেমিকেল দ্ব্বারা পাকানো ফলে মাছি বসে না। একফোঁটা আয়োডিন প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের চামড়ার উঠানোর পর দিলে তা গাড় নীল অথবা কালো বর্ণ ধারণ করে। কিন্তু কেমিকেল দ্ব্বারা পাকানো ফলে এই আয়োডিনের রং অপরিবর্তিত থাকে। এ অবস্থায় আমাদের করনীয় ফল খাওয়ার পূর্বে কয়েক মিনিট পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নেয়া। মৌসুমের পূর্বে বাজারে যে ফল আসে তা পরিহার করা। কারণ, ধরে নেয়া যায় যে সেগুলো কেমিকেল দিয়ে পাকানো। আম ও আপেল জাতীয় ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে পুরো ফল কামড়ে না খেয়ে টুকরো করে খাওয়া ভাল। ফরমালিন সাধারণত ব্যবহার করা হয় মর্গে মরদেহ সংরক্ষণ করতে, বায়োপসিকৃত স্যাম্পল ফিক্সেশন করতে এবং হাসপাতালের রুম, অপারেশন থিয়েটার ও সার্জারীর যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতে। কিন্তু,ফর্মালিন ব্যবহার করলে ফল দ্রুত নষ্ট হয় না বিধায় আমাদের দেশে ফল সংরক্ষণ করতে এর অনৈতিক ব্যবহার চলছে। আম ও লিচু গাছে থাকতেই ফরমালিন সেপ্র করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আপেল, কলা, আঙ্গুর ইত্যাদি ফলেও ফরমালিন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত খাবার মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাতাসে মাত্র ০.৩ পার্ট পার মিলিয়ন ফরমালিন থাকলেই তা মানুষের চোখ, নাক ও গলাকে ইরিটেট করে। দীর্ঘদিন ফরমালিন সেবন করলে আমাদের ফুসফুস, খাদ্যনালী, হার্ট, কিডনি, ব্রেইন সবকিছুই আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হয়। ফরমালিন আমাদের শরীরের যে যে ক্ষতিগুলো করতে পারে, তার মধ্যে আছে- চোখ, নাক ও গলায় লাগার কারণে চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ জ্বলা, হাঁচি, মাথা ব্যথা, গলায় জ্বালাপোড়া ইত্যাদি হয়। ত্বকে লাগার কারণে ত্বকের শুষ্কতা, একজিমা, ফোঁড়া ইত্যাদি হতে পারে। বারবার ফরমালিন গ্যাসের সংস্পর্শে আসলে হাঁপানির সমস্যা, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি করতে পারে। বিশেষ করে যারা ফরমালিন গ্যাস ছড়ানোর কাজটি করে তারা এই প্রক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। ফরমালিন বেশী মাত্রায় একসাথে খেয়ে ফেললে খাদ্যনালীর উপরিভাগে সামান্য ক্ষত থেকে শুরু করে আলসার করে ফেলতে পারে। হঠাত্ বেশী পরিমাণ ফরমালিন রক্তে প্রবেশের পর ফরমিক এসিড তৈরী করে যা শরীরে এসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শ্বাসকষ্ট হয়। ফরমালিন দীর্ঘদীন সেবনে কিডনি ফেইলিউর এবং লিভারের সমস্যাও হওয়ার ঘটনাও পাওয়া গিয়েছে। ফরমালিন বোনম্যারো-কে অকেজো করে দিয়ে ব্লাড ক্যান্সার করতে পারে। ফরমালিন প্রজননের উর্বরতা কমিয়ে এবং এবরশন-এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফল, সবজি, মাছ ইত্যাদি খাবারে যে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়েছে তা বুঝার উপায় কি? ফরমালিন নির্ণয় করার জন্য বাজারে একধরনের কিট পাওয়া যায় যা দিয়ে সহজেই নির্ণয় করা যেতে পারে। কিট না কিনতে পারলেও আর যে উপায়ে ফরমালিনযুক্ত ফল কে চিনা যাবে- সতেজ ফল সবসময়ই ধরলে নরম হয়, ফরমালিনযুক্ত ফল চাপ দিলে শক্ত অনুভব হবে। ফলের রঙ মলিন হয়ে যেতে থাকে এবং অনেকদিন গেলেও কোন পরিবর্তন আসে না। ফরমালিনযুক্ত ফলের কাছে মাছি, পিপড়া ইত্যাদি আসে না। খাদ্যদ্রব্যকে ফরমালিন মুক্ত করার উপায়- পানিতে এক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা, অথবা লবণযুক্ত দ্রবণে এক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা, অথবা ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে এক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা। মাছ চাষ ও শাকসবজি চাষে যে ইউরিয়া সারের ব্যবহার করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে তাও শরীরের ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন: ইউরিয়া বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, মাংসপেশীতে ব্যথা, কনফিউশন, ক্লান্তি, অবসাদ, দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গের কারণ হতে পারে। কীটনাশক হিসেবে ডিডিটি ব্যবহার করা হয় যা অধিকমাত্রায় দেহে প্রবেশ করলে বমি, কাঁপুনি, এমনকি খিঁচুনী পর্যন্ত করতে পারে। মানবদেহের ক্যান্সারের জন্য দায়ী রাসায়নিক পদার্থগুলোর মধ্যে ডিডিটি অন্যতম। খাদ্যে ভেজাল দেয়াকে ‘পিওর ফুড অর্ডিনেন্স, ১৯৫৯’ অনুযায়ী একটি অপরাধ বিবেচনা করা হয়। অর্থাত্, খাদ্যে ভেজাল রোধে আমাদের দেশে যথাযথ আইন আছে। খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রয়োজন উক্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ। সেই সাথে সাধারণ মানুষ যদি ভেজালযুক্ত খাদ্যের শারীরিক ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে এই ধরনের খাদ্য পরিহার করে এবং পাশাপাশি যারা খাদ্যে ভেজাল দেয় তাদেরকে প্রশাসনের কাছে ধরিয়ে দেয়, তাহলে হয়ত অনেক রোগব্যধী কমে আসবে। পাশাপাশি ক্যান্সারের মত মরণ ব্যধী থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। লেখক:পরিচালক দি লিভার সেন্টার, ঢাকা, বাংলাদেশ মির্জা গোলাম হাফিজ রোড বাড়ী নং-৬৪, রোড নং-৮/এ ধানমন্ডি, ঢাকা