আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে একমাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কাবুল সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। বৃহস্পতিবারের পর গতকাল শুক্রবারও তিনি এ বিষয়ে মীমাংসার চেষ্টা চালান। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী আশরাফ গনি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আব্দু্ল্লাহর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরুর পর গত জুলাইয়ে কাবুল সফর করেন কেরি। ওই সময় দু’জনের মধ্যে হাত মিলিয়ে গেলেও পরে আবারও তাদের মধ্যে মতবিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ভোটের ফলাফল নিজের পক্ষে না আসলেও উভয় প্রার্থীই পৃথক সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে আসছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ৮০ লাখ ব্যালটের দ্বিতীয় দফা গণনা চললেও কোনো পক্ষই ওই প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেনি। ফল ঘোষণার পর এ বিরোধ গোষ্ঠীগত সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরকম পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট পুনরায় গণনা শেষ হলে তারপর ক্ষমতার ভাগাভাগি কীভাবে হবে তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা করতে বৃহস্পতিবার কেরি আফগানিস্তানে পৌঁছান। দ্বিতীয় দফায় তার এই সফরের প্রথম দিনে তিনি বৃহস্পতিবার আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সঙ্গেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা করা কথা রয়েছে। কারজাইয়ের সঙ্গে কেরির বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট প্যালেসের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ সম্পর্কে তেমন কিছু জানানো হয়নি। আফগান কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২৫ তারিখে নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রেসিডেন্ট কারজাই। তবে ভোট গণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কাজ শেষ করতে আগস্ট মাস শেষ হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, আগামী সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে আফগানিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভাকে ন্যাটোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি মীমাংসা করতে চায়। এজন্য কেরি প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকেই ঐক্য সরকার গঠনের জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
