ইঙ্গিতটা পাওয়া যাচ্ছিল আগেই। একেবারে নিখুঁত ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনটা পার করা কুমার সাঙ্গাকারা গতকাল তৃতীয় দিনেও আরেকবার দিলেন তার ব্যাটিং দক্ষতার পরিচয়। এই বাঁহাতির সাইত্রিশতম টেস্ট সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাও নিরাপদেই পার করলো দিনটি। একটি মাত্র উইকেট হারানো স্বাগতিকরা গল টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে তাদের সংগ্রহ দুই উইকেটে ২৫২। যদিও রান-উইকেটের সংখ্যা বাড়তে পারতো আরো। কিন্তু বৃষ্টির দৌরত্মে হয়নি সেটা। পুরো দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৪৬ ওভার।
এক উইকেটে ৯৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা লঙ্কানদের ইনিংসের শুরু থেকেই বৃষ্টির আভাস পাওয়া গেলেও প্রথম সেশনে কোন বাগড়া আসেনি। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারা এবং কুশাল পেরেরা প্রথম ২৬ ওভারে যোগ করেন ৭৫ রান। ব্যক্তিগত ৬৪ রানে মোহাম্মদ তালহার বলে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান পেরেরা। তার আউটের সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যাহ্ন বিরতির সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। আর এই বিরতির মধ্যেই আসে বৃষ্টির বাধা।
বিরতির পর সাঙ্গাকারার সঙ্গে জুটি বাঁধেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে আসা জয়াবর্ধনে। আগের টেস্টেই সেঞ্চুরি করা এই সাবেক অধিনায়ক দীর্ঘদিনের বন্ধু সাঙ্গাকারার সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের রানকে নিয়ে যান আড়াইশোর উপরে। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ১০৮ রান। এটা ছিল তাদের অষ্টাদশ শতরান জুটি। বিশটি শতরানের জুটি গড়ে জয়া-সাঙ্গার চেয়ে উপরে আছে কেবল শচীন টেন্ডুলকার-রাহুল দ্রাবিড় জুটি।
এই জুটির পথেই জয়াবর্ধনে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের ৪৯ তম অর্ধশতকের দেখা। আর সাঙ্গাকারা পান সাইত্রিশতম টেস্ট সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই বাঁহাতির এটা ছিল দশম সেঞ্চুরি। টেস্ট ইতিহাসের মাত্র সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসাবে একই দেশের বিরুদ্ধে দশ কিংবা তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব ছিল এটি।
বৃষ্টির কারণে দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ভেসে যাওয়ায় আজ নির্ধারিত সময়ের পনের মিনিট আগে খেলা শুরু হবে। এর আগে ইউনুস খানের ১৭৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসের কল্যাণে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করে ৪৫১ রান। তাকে যোগ্য সাহচার্য দেন আসাদ শফিক, সরফরাজ, আবদুর রেহমানরাও।
দলীয় ৩৫৯ রানে ইউনুস ফিরলেও ইনিংসের লেজটা লম্বা করেন মূলত আবদুর রেহমান। এই বাঁহাতি স্পিনার প্রথমে সরফরাজ এবং পরে সাইদ আজমলকে সাথে নিয়ে যোগ করেন আরো ৮৫ রান। অর্ধশতকের পরে রেহমান আউট হবার প্রায় সাথে সাথেই শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস।
১৩৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে পেরেরা ছিলেন লঙ্কানদের সফলতম বোলার। হেরাথ নেন তিনটি উইকেট।
